খুলনার কপিলমুনির কপোতাক্ষের কিনারে ঝুপড়িঘরে কপোতাক্ষীর কান্না
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি কপোতাক্ষের কিনারে কাঁদছে কপোতাক্ষী। নাম ময়না হলেও কপোতাক্ষ নদের তীরে বসবাস করায় পথচারীরা কপোতাক্ষী নামে ডাকে। কিন্তু ঝুপড়িঘরের সেই কান্না সচেতন মহলের হৃদয়কে বিদীর্ণ করেনি। শুনতে পাননি কোনো জনপ্রতিনিধি কিংবা সমাজসেবকরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) সরেজমিন উপজেলার কপিলমুনি বাইপাস সড়কের পাশে কপোতাক্ষ নদের একেবারেই কিনারে ছোট্ট একটা ঝুপড়িঘর দেখা যায়। ঘরটির উপরে একপ্রস্ত পলিথিনের আচ্ছাদন, চট আর পুরাতন কাপড়ের বেড়ার মধ্যে এক অসহায় নারীর নিবাস। নাম তার পাগলী। আসল নাম ময়না বিবি হলেও কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ময়না বিবি পাগলী নামে পরিচিত। ৫০ বছর বয়সের এই পাগলী অনাহার আর রোগে-শোকে এখন কাহিল। শীর্ণকায় দেহটি মাঝে মাঝে দিনভর পড়ে থাকে ওই ঝুপড়িঘরে। ঘরের ভেতরে ছোট্ট একটা ভাঙাচোরা অসমতল চৌকিখাট। খাটের দুটি পায়া না থাকায় ইট দিয়ে ঠেকা দেয়া হয়েছে খাটটি। ঘরে মোচড়ানো হাঁড়িপাতিল আর পটিমারা ময়লা পুরানো দুটি কাঁথা। এগুলোই পাগলীর সম্বল।
কিশোরী বয়সে উপজেলার আঘড়ঘাটা কার্ত্তিকের মোড়ের পাশে করিম গাজীর সাথে বিয়ে হয় পাগলীর। বিয়ের বছর দুয়েক পরে একটি মেয়ে হয় তার। মেয়ের ৭-৮ বছর বয়স হলে স্বামী কর্তৃক পরিত্যক্তা হয় সে। মেয়েকে নিয়ে পাগলী কপিলমুনি শহরের সাবেক লঞ্চঘাটের পাশে রাস্তার ধারে ঝুপড়ি বানিয়ে মাথা গোঁজে মা-মেয়ে। বাজারের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা আর চায়ের দোকানে পানি দিয়ে যা আয় হতো তাই দিয়ে অতিকষ্টে জীবন চলত তাদের। যেদিন এসব কাজ হতো না সেদিন বাজারে ভিক্ষা করত পাগলী। ৫ বছর আগে ১৬ বছর বয়সে পাগলীর একমাত্র মেয়েটি রোগাক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় ওই ঝুপড়িঘরেই। সেই থেকে পাগলী আরো অসহায় হয়ে পড়ে। কন্যা বিয়োগে পাগলী শোকে-দুঃখে মুহ্যমান। নতুন স্থাপনা তৈরি হবে বলে পাগলীকে ওই যায়গা থেকে সম্প্রতি তাড়িয়ে দেয়া হয়।
পাগলী আশ্রয় নেয় কপিলমুনির আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরের পেছনে কপোতাক্ষ নদের একেবারে কিনারে ভেজা স্যাঁতসেঁতে জায়গায়। পাগলীর অসহায়ত্বের কথা শুনে সেখানে গেলে শীত নিবারণের জন্য ঝুপড়ির সামনে পাগলীকে আগুন পোয়াতে দেখা যায়। তার অসহায়ত্বের কথা জানতে চাইলে কপোলভেজা চোখের নোনাজল বারবার শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছতে থাকে পাগলী।
পাগলী জানায়, নদীর ধারে শীতের তীব্রতায় রাতে ঘুমাতে পারি না। অনেকের কাছে একটি কম্বল চেয়েছি কিন্তু ভাগ্যে জোটেনি। পাইনি কোনো সরকারি ত্রাণ সহায়তা। মাথা গোঁজার জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরের আশায় দ্বারে দ্বারে রাস্তায় রাস্তায় হেঁটেছি, অনেক কেঁদেছি; কিন্তু কেউ আমার কান্না দেখেনি। কষ্টও বোঝেনি, তাই নিরুপায় হয়ে শেষমেষ এখানেই আশ্রয় নিয়েছি।
পাগলীর এ কষ্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী হালিম হাওলাদার, সেলিম মীর, নহিদুল ঢালী ও সাইদ গাজীসহ অনেকে জানান, পাগলীর মতো একজন ভূমিহীন, গৃহহীন ও অসহায় নারী ঘর না পাওয়ায় এখানে মানবতা চরমভাবে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। তাদের আশংকা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কপোতাক্ষের স্ফীত পানি বা জলোচ্ছ্বাসে পাগলীসহ তার ঝুপড়িঘর হয়তো একদিন ভেসে গিয়ে কপোতাক্ষর বক্ষে তার সলীল সমাধি হতে পারে।
পাগলীর এই করুণ অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তার পুনর্বাসনের জন্য এলাকাবাসী স্থানীয় এমপি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
শাফিন / জামান
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে নানা ভাই বাহিনীর হাতে জিম্মি ৬ জেলে উদ্ধার
নন্দীগ্রামে গরীব অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা' শাড়ি থ্রি পিচ বিতরণ
আত্রাইয়ে স্থানীয় এমপি রেজাউল ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
সন্দ্বীপ টাউন ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ইউএনওর ঈদ সহায়তা বিতরণ
শিমুলবাকঁ গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় চাঁদপুর লঞ্চঘাটে ঈদ ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ
ঈদে আবারও মুখর হবে পর্যটন নগরী মৌলভীবাজার
ডিজির নির্দেশে ঈশ্বরদীর ইক্ষু গবেষণাগারে গুড় উৎপাদন ও অনিয়মের অভিযোগ
বাগেরহাটে শ্রী শ্রী হরিচাদ ঠাকুরের জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে ৩ দিন ব্যাপী বাৎসরিক মেলা ও অনুষ্টান
শালিখায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগদ টাকা ও বস্ত্র উপহার প্রদান
হোমনায় সরকারি হাসপাতালে ক্যানোলা বসাতে না পারায় প্রাইভেটে অতিরিক্ত বিল আদায়