ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

ভোলায় বাণিজ্যিকভাবে বরই চাষে সফল মফিজ


ভোলা প্রতিনিধি photo ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭-২-২০২২ দুপুর ৪:২১

বাণিজ্যিকভাবে ভোলায় আগে কখনও বরই চাষ হয়নি। তবে এ মৌসুমে বাণিজ্যিক বড়ই চাষাবাদ করে নিজের ভাগ্য বদল করেছেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের কৃষক মাইনুদ্দিন হাওলাদার ওরপে মফিজ। তার সফলতা দেখে অনেকেই বরই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।  

ভোলা সদর হতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার আর বোরহানউদ্দিন সদর হতে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে কৃষক মফিজের চোখ জুরানো বরই বাগান গড়ে সবাই কে তাক লাগিয়েছেন। ২০১৯ সালে শুরু করা বাগানটি ফসলে ভরে গেছে। বড়ই গাছগুলো চার থেকে সাড়ে চার ফুট লম্ব বড়ই গাছ গুলো রং বেরংয়ের বড়ই’র বাড়ে নুইয়ে পড়ছে। প্রায় ৫ একর জমিতে বল সুন্দরী, আপেল কুল, কাশ্মমীরি, ইন্ডিয়ান সুন্দরী, বাউফুল, আগাম টক জাতের বড়ই। গাছ ভর্তি আপেলের মত লাল বরই দেখলে যে কারো চোখ জুড়িয়ে যাবে। ওই বরই বাগান দেখতে বিভিন্ন স্থান হতে লোক আসছে এবং এখান হতে বড়ই কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

মফিজ তার বাগানে বেশিরভাগ বলসুন্দরী জাতের বরই চাষ করেছেন। এছাড়া কাশ্মীরী জাতের বরইও পরীক্ষামূলক চাষ করেছেন। বরই গাছের চারা সংগ্রহ করেছেন নাটোর থেকে। বড়ই গাছের চারা লাগানোর দুই বছরের মধ্যেই গাছে ফুল এসেছে। এখন ফল সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন। এ বরই দেখতে সুন্দর, খেতেও সুস্বাধু। বাজারে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এ পর্যন্ত তিন লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। ৩০ ফাল্গুন পর্যন্ত ২৬-২৭ লাখ টাকা বিক্রি নামবে বলে মফিজ জানান। স্থানীয় বাজারে প্রতিমন বরই পাইকারী ভাবে বিক্রি করছেন ২ হাজার ৪০০ টাকা করে।

জানা যায়, পড়াশোনায় মফিজ এসএসসির গণ্ডি পেরোতে পারেনি। ২ বছরের এক কন্যাসন্তানের জনক। কৃষক মফিজ জানান, আমি নতুন কিছু করতে পছন্দ করি। সে সাথে চ্যালেঞ্চও। কৃষি কাজের প্রতি একটা মায়া জন্মে গেছে। বরই বাগান ছাড়াও থাই পেয়ারা, মাল্টা বাগান, সবজী বাগানে প্রায় ২ কোটি টাকার মত আমার বিনিয়োগ। দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, পৌরসভায় দুই এলাকার জমি বিক্রির টাকা, এলাকায় জমি বিক্রি করে কৃষির দিকে ঝুকি। এ পরিমান টাকা দিয়ে আমি পছন্দসই ব্যবসা করতে পারতাম। কিন্তু ওই দিকে আমার মন টানেনা। এ নিয়ে কিছুটা পারিবারিক মনোমালিন্যও হয়েছে। এ কাজে আমি আনন্দ পাই।

মফিজ আরো জানান, বছর দুই আগে আমি উত্তর বঙ্গের নাটোর জেলায় চলে যাই। সবকিছু জেনে শুনে নাটোর থেকে বলসুন্দরী জাতের বড়ই চারা নিয়ে আসি। এ বড়ই’র বৈশিষ্ট হল এটা দেখতে আপেলের মত। যথেষ্ট পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। এছাড়া এ জাতের বরই’র বিচি অনেক ছোট। বড়ই বাগানের জমি লিজে নেয়া। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১০-১১ লাখ টাকা। ক্ষেতে রাসায়নিক ও জৈব সার দুটোই প্রযোগ করা হয়েছে। এ বছর পোকা-মাকড়ের আক্রমন কম হয়েছে। তবে পাখি, বাদুর মিলে লাখ খানেক টাকার বরই  খেয়ে ফেলে। এবছর প্রথম সিজন হওয়ায় খরচ একটু বেশি হয়েছে। আগামী বছর খরচ কম হবে। কারণ বরই চারা কিনতে হবেনা। সেচ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামো খরচ আর হচ্ছে না।        

মফিজের মতে কৃষিতে যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে নিয়ে কাজ করলে লোকসান হবার কথা নয়। তাঁর স্বপ্ন  কৃষির পাশাপাশি গরু, ছাগল আর ভেড়ার একটি আধুনিক ফার্ম করার। তবে এটার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাস্তবায়ন দুঃসাধ্য।

এব্যাপারে বোরহানউদ্দিন কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, কৃষি অফিস মফিজকে সকল রকম পরামর্শ দিয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। তাঁকে জৈব ও রাসায়নিক সার সরবরাহের পাশাপাশি সেচের জন্য বরই ক্ষেতে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম বসিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বেকার যুবকদের জন্য মফিজের কাজ একটি অনন্য উদাহরণ।

শাফিন / জামান

নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে মতবিনিময় সভা

নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই বাসা নির্মাণকাজ--নির্বাহী কর্মকর্তার পরিদর্শনে কাজ বন্ধ 

লোকালয় থেকে উদ্ধারকৃত অজগর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত

উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরেকটি মাইলফলক

সুবর্ণচরে নারী, শিশু, ব্রাককর্মীসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ৪টি ক্লাব গঠনের নির্দেশ

কুড়িগ্রামে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষ, স্বামী-স্ত্রীসহ আহত ৫

হানিট্রাপের অভিযোগ সেনাসদস্যের সম্মানহানি তদন্ত দাবি

চাঁদপুর যাত্রী টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মায়ার লিমিটেড ও কবিরস সিন্ডিকেট জেভি

ভূরুঙ্গামারী থানা জেলার শ্রেষ্ঠ, সেরা সার্কেল এএসপি মুনতাসির ও ওসি আজিম

শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার টাকা ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা

মেহেরপুরে ৭০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদের বৃত্তি প্রদান

কেডিএর সেবা ও মাস্টার প্ল্যান নিয়ে অভয়নগরে মতবিনিময়