ঢাকা শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় হরিশপুর কমিউনিটি ক্লিনিক


জাহাঙ্গীর আলম, দামুড়হুদা photo জাহাঙ্গীর আলম, দামুড়হুদা
প্রকাশিত: ২১-৩-২০২২ বিকাল ৫:৪৮

চুয়াডাঙ্গাসদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের হরিশপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নাজমিন নাহার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং পুষ্টি-সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে দৃস্টান্ত উদহারণ সৃস্টি করেছে । ইতিমধ্যে খুলনা বিভাগের মধ্যে সম্মাননা অর্জন করে চুয়াডাঙ্গা জেলাকে সম্মানের স্থানে অধিষ্ঠিত করেছে, মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ করেছে উজ্জল । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে একটি উদ্যোগ হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক। স্বাধীনতার পর থেকে গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পেছনে আছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন ও উদ্যোগ। বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, কমিউনিটি ক্লিনিক বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের সাফল্যগাথা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি পুস্তিকার নাম ‘কমিউনিটি ক্লিনিক: হেলথ রেভুলেশন ইন বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলোচনা উঠলেই কমিউনিটি ক্লিনিককে বাদ দিয়ে সে আলোচনা পূর্ণ হয় না। সম্প্রতি দেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম আলোচিত বিষয় ‘রিভাইটালাইজেশন অব কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্প বা কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প। কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে ২০১৩ সালের ১২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তিনি তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধারণা ও চিন্তার সম্প্রসারণ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তাঁর চিন্তা ও পরিকল্পনাগুলো আমি তাঁর কাছ থেকে শুনতাম। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া যায়, এ নিয়ে তাঁর ভাবনাগুলো তিনি আমাকে বলতেন। পরে ওই চিন্তাগুলোই আমি আরও বিস্তৃত করেছি।’ ২০০০ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জর টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গিমাডাঙ্গা গ্রামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে দেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সারাদেশে ১৩ হাজার ৮৮১টি ক্লিনিক চালু আছে, চালুর অপেক্ষায় আছে আরও ১৪৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক। এবিষয়ে হরিশপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নাজমিন নাহার বলেন আমার ক্লিনিকে শুক্রবার ব্যতীত সপ্তাহের ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ক্লিনিকে উপস্থিত থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জনকে সেবা প্রদান করে আসছি । সেই সাথে আমরা বিনা মূল্যে প্রায় ৩০ ধরনের ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং পুষ্টি-সংক্রান্ত পরামর্শ দেয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সার্বিক প্রজনন স্বাস্থ্য পরিচর্যার আওতায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের প্রসবকালীন এবং প্রসবোত্তর সেবা প্রদান করছি। এছাড়া সাধারণ জখম, জ্বর, কাটা, পোড়া, হাঁপানি, চর্মরোগ, কৃমি এবং চোখ, দাঁত ও কানের সাধারণ রোগের ক্ষেত্রে লক্ষণভিত্তিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সময়মতো প্রতিষেধক টিকা, যেমন যক্ষ্মা ডিফথেরিয়া, হুপিং কফ, পোলিও, ধনুষ্টংকার, হাম, হেপাটাইটিস-বি, নিউমোনিয়া প্রভৃতিসহ কমিউনিটি ক্লিনিকে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবাও দেয়া হয়। ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সে সন্তান ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মায়েদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন, জম্মের ২৮ দিনের মধ্যে শিশুর জন্ম নিবন্ধন, এক থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের ছয় মাস পরপর প্রয়োজনীয় ভিটামিন খাওয়ানো এবং রাতকানা রোগে আক্রান্ত শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণকারীদের জটিল কেসগুলোকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান পূর্বক দ্রুত উচ্চতর পর্যায়ে রেফার করে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলা হয়েছে। এখান থেকে প্রায় ৮০ ভাগ এলাকাবাসী সেবা নেয় আর গড়ে প্রতিদিন সেবা নেয়া মানুষের সংখ্যা ৫০/৬০ জন। ক্লিনিকগুলো বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় এবং সেখানে বিনা মূল্যে সাধারণ রোগের ওষুধ পাওয়া যায় বলে দিন দিন সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বাড়ছে। সিএইচসিপির শুক্রবার ব্যতীত সপ্তাহের ছয় দিন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার কমিউনিটি ক্লিনিকে উপস্থিত থেকে সেবা প্রদান করে আসছি। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার স্বাস্থ্য সহকারীদের তদারকি করেন। প্রশাসনিক কর্ম এলাকায় (প্রতিটি ইউনিয়নের ৯টি) ওয়ার্ডভিত্তিক মাঠকর্মীদের পদায়ন করা হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবারকল্যাণ সহকারী বাড়ি পরিদর্শনকালে আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবাগুলোর তথ্য প্রদানের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে থাকেন বলে জানানন তিনি। যেসব গর্ভবতী মহিলা কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে প্রসবপূর্ব সেবা গ্রহণ করেননি, স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারীরা তাদের খুঁজে বের করে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা ব্যবস্থায় নিয়ে আসেন। এছাড়া প্রতিটি ক্লিনিকে শিশু ও মায়েদের টিকাদানের ব্যবস্থা আছে। ক্লিনিকে যেসব নারী-পুরুষ ইপিআই, যক্ষ্মা, কুষ্ঠ প্রভৃতি বিষয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা গ্রহণ করেননি, তাদেরও এই সেবা ব্যবস্থায় নিয়ে আসা হয় । 

এমএসএম / এমএসএম

পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলে বোরো ধানের সেচ ব্যবস্থায় ডিজেলের ঘাটতি, দিশেহারা কৃষক

অভয়নগরে মুগ ও তিল চাষে প্রণোদনা কার্যক্রমের উদ্বোধন

মিরসরাইয়ে এমটি-ইপিআই কবির হোসেনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

যশোরে ডিবির অভিযানে ৭৫ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক

একটু সহানুভূতিই পারে অসহায় শিশু বিল্লালের জীবন বাঁচাতে

রূপগঞ্জে রনি নিট কারখানার বর্জ্যে বিপর্যস্ত পরিবেশ

চট্টগ্রামের সদরঘাটে কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে প্রায় ৩৭ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ

দর্শনা মা ও শিশু হাসপাতালের ম্যানেজার নার্স ও আয়ার বিরুদ্ধে নবজাতক শিশুকে পাল্টে দেয়ার অভিযোগ

পাবনায় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু

কুতুবদিয়ায় নৌবাহিনীর অভিযানে সিমেন্টসহ ট্রলার জব্দ, মায়ানমারে পাচারের চেষ্টা

কাপ্তাইয়ে আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মামুনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা

তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ফসল দুশ্চিন্তায় লাখো কৃষক

‎লেমশীখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কিশোরের মৃত্যু