এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য রেনু উৎপাদন ক্ষেত্র ঝিনাইদহের বলুহর হ্যাচারি
বলুহর হ্যাচারি,এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য রেনু উৎপাদন ক্ষেত্র ঝিনাইদহের বলুহর হ্যাচারি। ঝিনাইদহ জেলার
কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর কেন্দ্রীয় মৎস্য হ্যাচারি বিদেশী মাছের রেনু উৎপাদনে সমৃদ্ধ ভান্ডার গড়ে তুলেছে এক বিস্ময়কর সৃষ্টি । নামে-গুণে অনন্য ‘বলুহর হ্যাচারি’ স্মরণাতীতকাল থেকে রুই, কাতলা, মৃগেলও কালিবাউশসহ অন্যান্য মাসের রেনু উৎপাদন করে আসছে। সবুজ শ্যামল সৌন্দর্যের চাবিকাঠির একমাত্র বাহক ও নিয়ন্ত্রক ‘বলুহর হ্যাচারি’।ঝিনাইদহের গর্ব ‘বলুহর হ্যাচারি’ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য রেনু উৎপাদন ক্ষেত্র ঝিনাইদহের বলুহর হ্যাচারি।কয়েক যুগ ধরে মাছের রেনু উৎপাদন করে ঝিনাইদহ জেলাসহ দেশের মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বলুহর হ্যাচারিকে কেন্দ্র করে সারা বছরে আবর্তিত হয় এক শক্তিশালী অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। উৎপাদিত রেণুর পরিমাণ এবং এখান থেকে উৎপাদিত মাছের হিসাব করলে দেখা যায়, এক বছরের চার ধাপে জাতীয় অর্থনীতিতে কোটচাঁদপুর বলুহর হ্যাচারি অবদান প্রায় অর্ধ কোটি টাকা।
প্রয়োজনীয প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব ও জরাজীর্ন অবকাঠামোসহ নানা সমস্যার মধ্যেও চলতি বছর থেকে উপজেলার বলুহর হ্যাচারিতে ভিয়েতনাম ও চীন থেকে উন্নত জাতের মাছের আমদানীকৃত রেনু নিয়ে মাছের রেনু উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রথম বছরেই মাঠ পর্যায়ের মাছ চাষিরা নতুন জাতের মাছের রেনু নিয়ে সাফল্য পাওয়ায় বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন প্রজাতির রেনুর কদর বেড়েছে । বর্তমান এই হ্যাচারিতে চীন থেকে আমদানীকৃত সিলবার, বিগহেড ও গ্রাসকার্পের রেনু ও ভিয়েতনাম এর পাঙ্গাস, কালিবাউস এবং সুবর্ন রুই মাছ লালন পালন করা হচ্ছে। যে কারণে ৩৮ বছর পর বলুহর হ্যাচারি পেয়েছে রেনু উৎপাদনে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার। হ্যাচারি কর্মকর্তারা আশা করছেন পুরানো ব্রুড মাছের সাথে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত মাছ সংযোজন হলে বলুহর কেন্দ্রীয় হ্যাচারিতে রেনুর ব্রুড ভান্ডার সমৃদ্ধ হবে।
হ্যাচারীর কমপ্লেক্্র এর সংরক্ষিত তথ্য থেকে জানা গেছে, দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গুলোতে মাছ চাষি, মৎস্যজীবী, হ্যাচারী, মৎস্য নার্সারি মালিক ও সাধারন মানুষকে উন্নত জাতের কার্প জাতীয় মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করে আমিষের ঘাটতি পুরণের লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে কোটচাঁদপুরের বলুহর গ্রামে দেশের সর্ববৃহৎ এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য হ্যাচারি কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১০৩ একর আয়তন বিশিষ্ট এই হ্যাচারিতে রয়েছে ৩০টি দৃষ্টিনন্দন পুকুর। ঝিনাইদহ ছাড়াও এই হ্যচারির উৎপাদিত রেনু যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, রাজবাড়ি, মেহেরপুর ও সাতক্ষিরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌছে যাচ্ছে। এলাকাবাসি ও হ্যাচারির কর্মচারিরা জানান, হ্যাচারি ম্যানেজার হিসেবে মোঃ আশরাফ-উল-ইসলাম যোগদানের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিবর্তন ফিরে আসে। করোনাকালীন সময়সহ অন্যান্য দুযোর্গের মধ্যেও হ্যাচারির শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ৪৮ লাখ ১১ হাজার টাকা হলেও অর্জিত হয়েছে ৪৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
ঝিনাইদহের মহেশপুর এলাকার হাসান আলী নামে এক মৎস্য চাষি জানান, ব্রুড উনয়নের পাশাপাশি ১৫ বছর বন্ধ থাকা প্রশাসনিক ভবন চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, হ্যাচারির মধ্যে আবর্জনা স্তুপে ভরা ছিল। সেগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা করে ফুল বাগান তৈরীর মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে মজবুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। হাটগোপালপুর এলাকার চাষি তুষার আহম্মেদ জানান, আমার মতো দাক্ষিনাঞ্চলের ১০ জেলার মৎস্য চাষিরা বলুহর হ্যাচারির রেনু নিয়ে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বি হচ্ছেন। অনেক বেকার যুবক পুনবার্সিত হয়েছে।
হ্যাচারিতে রয়েছে প্রশিক্ষিত জনরল অভাব। মোট ২৭টি পদের মধ্যে ১৯টি পদ শুন্য রয়েছে। গুরুত্বপুর্ন পদগুলো জনবল নিয়োগ করা হলে এই হ্যাচারি রেনু উৎপাদনে আরো সফলতা পেতো। এছাড়া হ্যাচারির অতিপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন থেমে আছে। অনেক ভবন এখনো জরাজীর্ন। প্রধান গেট থেকে বাওড় পর্যন্ত প্রাচীর ও রাস্তা সংস্কার জরুরী হলেও বছরের পর বছর পড়ে আছে। পোনা বহনের জন্য পিকআপ ও মিনি ট্যক্টর প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে না। হ্যাচারির রেনু উৎপাদন কাজের জন্য ৯ ইঞ্চি ডিপ সাবমারসিবল পাম্প ও বোরিং স্থাপন করা দরকার।
হ্যাচারির কর্মচারীরা জানান, ১৫টি পুকুর পুনঃখনন ও রিটেনিং ওয়াল নির্মান, পুকুর পাড়ের বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কার, প্রশাসনিক ভবন আধুনিকরণ, স্টোর রুম মেরামত, রেনু উৎপাদনে ৫০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ওভার হেড ট্যাংক স্থাপন, ২৯টি পুকুরে ৪টি ৬ ইঞ্চি ডিপ সাবমারসিবল পাম্প ও বোরিং স্থাপন, একটি জেনারেটর স্থাপন, হ্যাচারি ভবন, স্টোর রুম, গার্ড সেড, স্টাফ কোয়াটার সংস্কার ও রেনু ক্রেতাদের বিশ্রামের জন্য সেড ও শৌচাগার নির্মান করা হলে বলুহর হ্যাচারি দেশে মাছ উৎপাদনে আরো সমৃদ্ধ ভুমিকা রাখতে পারতো।
হ্যাচারি ম্যানেজার মোঃ আশরাফ-উল-ইসলাম জানান, বলুহর কেন্দ্রীয় হ্যাচারি একটি সেবামুলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানসম্পন্ন রেনু উৎপাদন করে মৎস্য চাষিদের কাছে সুলভ মুল্যে বিক্রি করে থাকে। এছাড়া আধুনিক কলাকৌশল ও সর্বশেষ লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষিদের জীবন মান উন্নত করে থাকে। ফলে এলাকায় বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি ব্যাপক হারে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন দক্ষিনাঞ্চলের ১০ জেলার মাছ চাষি, মৎস্যজীবী, হ্যাচারি, নার্সারি মালিক ও সাধারন মানুষের পুকুরে ৬০ ভাগ রেনু বলুহর কেন্দ্রীয় হ্যাচারি থেকে যায়। তিনি বলেন শুন্যপদে জনবল নিয়োগ ও হ্যাচারির মধ্যে অতিপ্রয়োজনীয় কিছু সংস্কার করা হলে বলুহর কেন্দ্রীয় হ্যাচারির মান আরো বৃদ্ধি হতো। এটা ঝিনাইদহ তথা দেশের একটি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প এটা নিয়েও একটি কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করে হ্যাচারীর উন্নয়ন ধারাকে অব্যাহত রাখার দাবি জানান এলাকাবাসী।
এমএসএম / এমএসএম
শার্শার অদম্য দৃষ্টিহীন আরিফার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া
ধামইরহাটে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা কামনায় শো-ডাউন কর্মসূচি দোয়া মাহফিলে পরিণত
খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি প্রার্থনায় কাউনিয়া বিএনপির দোয়া অনুষ্ঠান
অধ্যাপক এম.এ মান্নান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের নক আউট পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত
আত্রাইয়ে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত
চার দিন ধরে শিবির নেতা আসাদুল্লাহ নিখোঁজ
মাগুরায় শেষ হলো কাব স্কাউটসদের ১০ দিন ব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণ
দিনব্যাপী মনিরুল হক চৌধুরীর গণসংযোগ : খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া
ঠাকুরগাঁওয়ে চার দফা দাবিতে সুগার মিল শ্রমিক কর্মচারীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন
কুমিল্লায় বিজিবি'র অবিযানে ভারতীয় পণ্য জব্দ
যশোর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ফোরামের দাপটঃ সভাপতি সাবু, সম্পাদক গফুর
খাগড়াছড়িতে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল মিডিয়া প্রশিক্ষণ