সাফ শিরোপা সারথি মাগুরার সাথী ও ইতি
সাফ গেমসে বাংলাদেশ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন দলে মাগুরার দুই মেয়ে ইতি রানী ও সাথী বিশ্বাস। দুজনের বাড়ি মাগুরা জেলা শ্রীপুর উপজেলার গোয়ালদহ গ্রামে।মাগুরা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের গ্রাম গোয়ালদহ। শ্রীপুর উপজেলার এই গ্রামের দুই মেয়ে সাথী বিশ্বাস (১৭) ও ইতি রাণী মন্ডল (১৬) এবার নারী সাপ চ্যাম্পিয়ন দলে ছিলেন। গোলকিপার হিসাবে খেলা দুজনেই বড় হয়েছেন দরিদ্র পরিবারে। শুরুর দিকে মেয়েদের ফুটবল খেলা নিয়ে এলাকার লোকজন নেতিবাচক কথা বললেও এখন সবাই তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রশংসা করছেন। আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ভাসছেন ওই গ্রামসহ মাগুরা জেলা।
সাথী ও ইতি ফুটবল খেলা শুরু করেছিলেন গোয়ালদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। সেখান থেকেই বিকেএসপি হয়ে এখন জাতীয় দলের সদস্য।
এবার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন সাথী বিশ্বাস। তবে সাফে খেলতে যাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। গোয়ালদহে শিক্ষকদের উদ্যোগে প্রথম যে মেয়েদের নিয়ে ফুটবল অনুশীলন শুরু হয় তাদের একজন সাথী বিশ্বাস। ওই সময় সাথীর পরিবার মেয়েকে ফুটবল খেলতে দিতে আগ্রহী ছিলেন না। মূলত শিক্ষকদের অনুরোধেই সাই দিয়েছিলেন তাঁর পরিবার। সাথী বিশ্বাস এর বাবার নাম বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস। মাতা সুদেবী বিশ্বাস। বাজারে ছোট একটা স্টুডিও এর দোকান দিয়ে স্বল্প আয়েই চলে তাদের সংসার। বিদ্যুৎ বিশ্বাস বলেন, আমার মেয়ে এত দূরে যাবে কখনো ভাবিনি। দেশ-বিদেশে খেলতে যাচ্ছে এটা বিশাল কিছু মনে হয়।
অপর দিকে ইতি রাণী মন্ডলের বাবার নাম মনোজিত মন্ডল। পেশায় একজন ভ্যান চালক, পাশাপাশি ডেকোরেটর দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। মাঠে কোন জায়গা জমি নেই। মাত্র ১৮ শতক জমিতে ছোট দুটো টিনের ঘর আছে। চার মেয়ের মধ্যে তিনজনকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে ইতি রানী মন্ডল এখন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের সদস্য। মনোজিৎ কুমার বলেন, গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের নিয়ে নানা রকম দুশ্চিন্তায় ভুগতে হয় বাবা-মায়ের। বিয়ে দিতে না চাইলেও মানুষজন নানাভাবে চাপ দেয়। তবে ইতির মত হতে পারলে তাকে নিয়ে মা-বাবার আর চিন্তা নেই।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে গোয়ালদহ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাস রঞ্জন দেবজ্যোতি ও সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলামের উদ্যোগে এলাকায় মেয়েদের ফুটবল খেলা ও অনুশীলন শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে অনুশীলনের ফলে সফলতা এসেছে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ওই বিদ্যালয় থেকে ১৪ জন মেয়ে বিকেএসপি তে সুযোগ পেয়েছে। তার মধ্যে ৮ জন সহ মোট ১০ টি মেয়ে বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক জাতীয় দলে খেলছেন। প্রভাস রঞ্জন দেবজ্যোতি বলেন, মেয়েরা যে গ্রাম সহ মাগুরার নাম উজ্জ্বল করেছে এতে আমরা সবাই খুব খুশি।
এই বিজয় উপলক্ষে সাথী ও ইতির পরিবারের সদস্য, গ্রামবাসী সহ মাগুরা জেলার সকলের মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
চকরিয়ায় সাংবাদিক হান্নান শাহর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা
বাউফলে নিখোঁজ সেই ৪ স্কুলছাত্রী গাজীপুর থেকে উদ্ধার
চাঁদপুরে আগুনে পুড়েছে ১১ পরিবারের ২০ বসতঘর
পিরোজপুরে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
কালিয়ায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম
উল্লাপাড়ায় চলতি মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের উদ্বোধন
শান্তিগঞ্জে অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করলেন এমপি কয়ছর আহমদ
এনডাব্লিইউতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন হলো ২ দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬
পৃথিবীতে এমন কোন ম্যাজিক নাই যেটা দিয়ে মাদক চলে যাবে-প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
মেহেরপুরে ডিজিটাল গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে হাফ-ডে অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
শিক্ষকের আঘাতে অজ্ঞান স্কুলছাত্র, শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
খালিয়াজুরীতে নদীর পানিতে গোসল করতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু