পিওন সাঈদ হয়ে গেল ডাক্তার, ফি ৪০০ টাকা
এমবিবিএস বা বিডিএস বা এ ধরনের কোনো ডিগ্রি না থাকলেও ‘সকল রোগের চিকিৎসক’ সাঈদ হোসেন! নামের আগে পদবি লিখছেন ‘ডাক্তার’। ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ভিজিট নিয়ে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন সাধারণ রোগীদের। ব্যবস্থাপত্রে ডিএমএফ (Diploma in Medical Facult) ডিগ্রি বসিয়ে তিনি এখন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার। অথচ কোথা থেকে, কত সালে ডিএমএফ কমপ্লিট করেছেন তার কোনো সনদ বা রোল-রেজিস্ট্রেশনসহ কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। নেই বিএমডিসি’র রেজিস্ট্রেশন। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন রকম অভিযোগও।
নওগাঁ সদর উপজেলার হোগল বাড়ি মোড়ে ভাই ভাই মেডিকেয়ার ফার্মেসিতে তার রোগী দেখার চেম্বার। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত অব্দি রোগী দেখেন তিনি। সাঈদ হোসেন হোগল বাড়ি মোড়ের শহিদুল ইসলামের ছেলে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাঈদ হোসেনের মা সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বনামধন্য এক ডাক্তারের বাসায় কাজ করতেন। সেই সূত্রে মায়ের অনুরোধে সাঈদ হোসেনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিওন পদে চাকরি পাইয়ে দেন সেই ডাক্তার। এরপর করোনাকালে হাসপাতালে বসে করোনার ভুয়া সনদ (সর্টিফিকেট) বানিয়ে বিক্রি শুরু করেন তিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়ের করা মামলায় ২০২০ সালের ২৫ মে গ্রেফতার হয়ে জেলে যেতে হয় সাঈদকে। বর্তমানে সে মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। পরে ২০২১ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে রাতারাতি ডা. হয়ে যান সাঈদ। গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসে একটি ফার্মেসি ও চেম্বার বসিয়ে শুরু করেন ‘সকল রোগের চিকিৎসা’। তিনি আরও বলেন, ‘পরে এ বিষয়টি নিয়ে আমি গ্রাম্য মাতব্বরদের নিকট অভিযোগ করলে গ্রাম্য শালিশে সাঈদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’
স্থানীয় মোতাহার হোসেন নামে এক বয়স্ক রোগী বলেন, ‘বাবারে এই সাঈদ একটা ভুয়া ডাক্তার। আমার একটা সমস্যার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে বহু টাকার চিকিৎসা করছি কিন্তু রোগ সারে না। উপায় না পেয়ে আমি শহরে ভালো ডাক্তার দেখাই, তারা আমাকে জানায় অসুখ অনুযায়ী এগুলা উষুধ (ওষুধ) ঠিক নাই রোগ সারবে কই থেকে। পরে আমাকে ১শ টাকার ওষুধ দিছে খেয়ে আমি বর্তমানে সুস্থ। এ তো রোগ-ই ধরতে পারে না, তাহলে কীসের ডাক্তার!’
‘চিকিৎসা নিতে’ আসা খাদেমুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘প্রসাবের জ্বালা পোড়া, মাথা ঘোরানো ও চোখে ঝাপসা এই সমস্যা নিয়ে ডাক্তার দেখাতে আসছি এর আগেও চিকিৎসা নিয়েছি কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বরং সমস্যা আরও বাড়ছে। ১০ দিন পর আসতে বলছিল, তাই আজকে আসছি।’ এ বিষয়ে সাঈদ হোসেনের চেম্বারে গিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাভারের একটি বেসরকারি মেডিকেল ইন্সটিটিউটের (ম্যাটস) নাম উল্লেখ করে বলেন, আমি ১১-১২ সেশনে ডিএমএফ করেছি। এরচেয়ে বেশি কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি। ‘কিন্তু সেখানে আপনার কোনো ডকুমেন্ট বা পাশ করার ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি’ এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে চেম্বার ছেড়ে বাইরে চলে যান।
পরে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সামনের মাসে ২৩ তারিখ আমার কেসের হাজিরা আছে, সেটা শেষ করে এসে সকল তথ্য দেবো। আমার সকল কাগজপত্র আছে। এক পর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘এসব ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারব না। আপনাদের যা ইচ্ছে করতে পারেন।’
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ রায়হানুজ্জামান সরকার বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এমএসএম / এমএসএম
তারাগঞ্জে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশের খুলি ও হাড় উদ্ধার
সিংড়ায় পুকুর নিয়ে বিরোধ, গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার অভিযোগ
বাঘা থানার অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ আটক ৮
সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সাকিলা ফারজানাকে হাটহাজারীতে সংবর্ধনা
ক্ষেতলালে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু
পটিয়ায় বসতঘর থেকে দুই সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে সরকার: এমপি মিলন
নেত্রকোণার মদনে পোনামাছ অবমুক্তকরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী--টুকু
কেশবপুরে স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু নাকি হত্যা
বড়লেখায় পুলিশের অভিযানে ১৩ এয়ারগান উদ্ধার; মামলা ও জব্দ তালিকায় দুই চিত্র
জুড়ী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
পত্নীতলায় হুইল চেয়ার বিতরণ