ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

আলোচিত দহগ্রামের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কা


মোকছেদুল ইসলাম, পাটগ্রাম photo মোকছেদুল ইসলাম, পাটগ্রাম
প্রকাশিত: ১৫-৭-২০২১ বিকাল ৬:১
ভারত - বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ‍্যে যে কয়টি বিষয় খুব বেশি টানাপোড়েন চলছে, তার মধ‍্যে তিস্তা ইস‍্যু একটি। উওর - পশ্চিমঅঞ্চল কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন তিস্তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার আলোচিত দহগ্রাম ইউনিয়নে চার ওয়ার্ডের এলাকা ভাঙছে তিস্তা,বাঁধ বাস্তবায়নে টানাপোড়েন। তিস্তা পাড়ের আব্দুর রব (৪৫) তিস্তা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা দেখিয়ে বলেন,গত ১০-১২ দিন আগেও লাগানো হিরা ধান খেত গুলো আস্ত ছিল। সব ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। ব্লক নির্মাণকারী লোকজনদের ফোন করে অনুরোধ করি নদীর কাছে রাখা ব্লক গুলো ভাঙন কবলিত স্থান গুলোতে দেওয়ার জন্য কিন্তু তারা শোনেনি। দেখতও আসেনি। এখন আমরা কার কাছে বলব। কে শুনবে আমাদের দুঃখের কথা। তিস্তার ভাঙনে আমরা অসহায়। 
জানা গেছে, তিস্তা নদীর মাঝ গতিপথ রোধ করে পাথর ও স্পার ফেলে ভারত নির্মাণ করেছে বিএসএফ ক্যাম্প। ফলে নদীর স্রোতে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে দহগ্রাম অংশেও ভাঙতে দেখা গেছে। নদী তীরবর্তী ভারতীয় অংশে বাঁধ দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিশাল বাগান লাগিয়েছে। প্রায় ৫/৬ কি.মিটার এলাকার মধ্যে ভারতীয় ৪-৫ টি বিএসএফ ক্যাম্প রয়েছে। 
তিস্তা নদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ির হলদিবাড়ি, ধাপড়া এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দহগ্রামে প্রবেশ করেছে। দহগ্রামের মহিমপাড়া গ্রামের কৃষক আলতাব হোসেন (৫০), শাহিনুর ইসলাম (৪৫) বলেন, জ্ঞান হতে শুনি তিস্তা ভাঙে। আমাদের প্রায় ৫০ বিঘা জমি নদীতে শেষ হয়েছে। গত ৩ বছরে প্রায় আড়াই শত পরিবার নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন- যাপন করছে। 
দহগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হবিবর রহমান বলেন, ১, ৪, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শগ্রাম, সৈয়দপাড়া, মহিমপাড়া, কাতিপাড়া, কাদেরের চর, জামালের চর, পর্বতের চর, পাসকড়ির চর প্রভৃতি এলাকা গুলো ভেঙে প্রায় শেষ। তিস্তার চরে যাতায়াতের কোনো সড়ক না থাকায় সেখানে যাওয়া- আসা করা কঠিন। ওই এলাকা গুলোতে এখনও তারাতারি ব্লক দিয়ে বাঁধ দেওয়া হলে অনেক জমি রক্ষা পাবে। 
একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, উজানে ভারতের বেলতলী নামক স্থানে আবারও বাঁধ দিয়ে তিস্তা নদীকে বাংলাদেশের দিকে ধাবমান করে দিচ্ছে ভারতীয় নদী সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্ডার রিভার ব্যান প্রটেকশন অ্যান্ড ডেভেলভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৮ সালে দহগ্রামকে তিস্তা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। ৪. ০৫ কি. মি এলাকায় ব্লক তৈরি ও বাঁধ নির্মাণে নৌ বাহিনীর খুলনা শিপ ইয়ার্ডকে কাজ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ঢাকার ডলি কন্সট্রাকশনের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। নির্দ্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে না পাওয়ায় ডলি কন্সট্রাকশনের কাজের অর্ডার বাতিল করে সরকার। পরবর্তীতে ২০২০ সালে নেভি খুলনা শিপ ইয়ার্ডের মাধ্যমে ৫ টি প্যাকেজের নতুন করে ঢাকার জ্যামকনকে দুইটি, এম এস হাসিনা আলম অ্যান্ড সন্স একটি ও এওয়ান কন্সট্রাকশনকে একটি প্রজেক্টের আওতায় বাঁধ নির্মাণ প্যাকেজের কাজ দেওয়া হয়। লালমনিরহাট পানি উন্নয়বোর্ডও স্থানীয় ঠিকাদারের মাধ্যমে একটি প্যাকেজে বাঁধ নির্মাণের কাজ করে। 
অভিযোগ উঠেছে (নির্মাণ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র মতে), লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা- নিরীক্ষায় সময় ক্ষেপন ও নানা ধরণের বাহানায় তিস্তা নদীর ভাঙন কবলিত স্থান গুলোতে বাঁধের জন্য ব্লক ফেলানো সম্ভব হয়নি। নৌ বাহিনীর খুলনা শিপ ইয়ার্ডের সহকারী প্রজেক্ট ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শত চেষ্টা করেও এগুনো যায়নি। কিছু জটিলতার কারণে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ করতে টাকার দরকার। কোটি কোটি টাকা এখানে খরচ। সবসময় কুলিয়ে উঠা যায়না। বিলের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গেলে তাঁরা শোনে না। রাজশাহীতে ব্লক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ফলাফল আসতেই জুন পার, যাতে বিল না হয়, কাজে ঝামেলা হয়। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। বাঁধ সম্পন্ন করতে জোর প্রচেষ্টা চলছে।     
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘কোনো ঘটনাই নেই। নিয়মানুযায়ী কাজ করছি। যারা বিজ্ঞপ্তির শর্ত মোতাবেক কাজ করছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নতুন ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আপাতত ভাঙন ঠেকানোর জন্য যে ব্লক গুলো ছিল আমরা অনুমতি নিয়ে সেগুলো ভাঙন কবলিত স্থানে ফেলতে বলেছি যাতে না ভাঙে। খুলনা শিপইয়ার্ড ও ডলি কন্সট্রাকশন সঠিক সময়ে কাজ করায় সমস্যা হচ্ছে। 
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, ‘ভাঙন কবলিত জায়গা গুলো দেখেছি। দহগ্রাম ইউনিয়নকে তিস্তা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় কর্মকর্তার সাথে কথা বলে অনুরোধ করেছি দ্রুত বাঁধ সম্পন্ন করতে।

এমএসএম / এমএসএম

মনপুরায় অতি বৃষ্টিতে হুমকির মুখে আমন চাষ, অনিশ্চয়তায় ৫ হাজার একর জমি

এনামের উদ্যোগ, ৩৮ পরিবার পেল সহায়তা

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে দুর্নীতিমুক্ত ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত- সেলিমুজ্জামান এমপি

বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় সাড়ে তিন টন সিলডেনাফিল সাইট্রেট (ভায়াগ্রা)-র চালান জব্দ

আত্রাই-রানীনগরে অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন: এমপি রেজাউল ইসলাম

নড়াইলে বাস-মিনিবাস পরিবহণ মালিক সমিতির নবগঠিত কমিটির অভিষেক

বাউফলে বিয়ের দুই মাসেই নববধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সোহেল মঞ্জুরের উদ্যোগে সন্ধ্যা নদীতে সেতু নির্মাণে অগ্রগতি, সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে সেতু সচিব

নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরায় খালিয়াজুরীতে একজনের কারাদণ্ড, অপরজনকে জরিমানা

বাঁশখালীতে বন্যার্তদের মাঝে হাদীর পাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ত্রাণ বিতরণ

সিংড়ায় খাতুন জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার সূধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আদমদীঘি গৃহশ্রমিক ইউনিয়নের তরুনদের মাঝে ফুটবল বিতরণ

প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ফের চালু, স্থগিত চেয়ে আবেদন