ঢাকা শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬

থামছেনা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দুর্নীতিবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ১২-৪-২০২৩ দুপুর ২:৩৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দুর্নীতিবাজ চক্রের সদস্যরা (অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী) আমদানিকারকদের নানা কৌশলে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। পণ্যের শুল্কহার ঠিক রেখে দ্রুত ছাড়পত্র নিতে আমদানিকারক কিংবা তার প্রতিনিধিকে সশরীরে যেতে হয় কয়েকটি পয়েন্টে। এসব পয়েন্টে যারা থাকেন তাদের সন্তুষ্ট করতেই দিতে হয় ধাপে ধাপে ঘুষ। তবে ঘুষকে এরা কেউই ঘুষ বলেন না, বলেন 'স্পিডমানি'। যিনি যত বেশি স্পিডমানি দেন, তত বেশি দ্রুতগতিতে হাঁটে তার ফাইল। কেউ দ্বিমত পোষণ করলে পণ্য শনাক্তকরণ (এইচএস) কোডের ফাঁদে ফেলে আইনি মারপ্যাঁচে আটকে রাখা হয় ফাইল। এতেই আমদানিকারকরা ক্ষতির সন্মুখীন হন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সিএন্ডএফ প্রতিনিধি এমন তথ্য জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই শুল্ক স্টেশনে আমদানিকারকদের গলা কাটতে তারা চাঁদাবাজি ও ঘুষ আদায়ের নিত্যনতুন কৌশল বের করেন। শতভাগ কায়িক পরীক্ষা হওয়ার পরও পণ্য পুনঃপরীক্ষার নামে চলছে হয়রানি। এসব বিষয় নিয়ে যৌক্তিক বক্তব্য তুলে ধরা হলে আমদানিকারকের প্রতিনিধিদের রীতিমতো অপমান-অপদস্ত এমনকী আইনের নানা ফাঁক-ফোকর বের করে কখনও তাদের ফাঁসিয়ে দেয়া হয়।

পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় এখনও ধাপে ধাপে হয়রানির শিকার ব্যবসায়ীরা হয়রানি থেকে বাঁচতে স্বনামে বক্তব্য দিতেও অস্বীকৃতি জানান। কোনো কারণে প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রকাশ পেলে পণ্য খালাসে তাদের হয়রানি আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা। তারা জানান, ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না কাস্টম হাউসে। সহকারী কমিশনার থেকে ওপরের লেভেলে ঘুষের পরিমাণ কম থাকলেও নিচের লেভেলে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

গত সাপ্তাহে তিনদিন সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ, শুল্কায়ন সেকশন ১(বি) রাজস্ব কর্মকর্তা ফারজানা আকরাম ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনসহ কয়েক কর্মকর্তার  কাছে অনেকাংশে জিন্মি হয়ে পড়েছেন আমদানিকারক ও প্রতিনিধিরা। টাকা না দিলে তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে উর্ধোতন কর্মকর্তাদের বিভ্রান্তিতে ফেলে ফাইল আটকিয়ে রাখে। উর্ধোতনরা এ মিথ্যা তথ্য যাছাই না করে ফাইল আটকিয়ে রাখে। এছাড়া কাস্টমসে পণ্যের জরিমানা বিধান থাকায় সেই হুমকি দিয়েও অবৈধভবে টাকা আদায় করে আসছে। না হলে হয়রানির শিকার হন সকলে।

ভুক্তভোগীরা জানান, অন্যান্যদের মত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন টাকার পরিমান বেশি নেয়ায় বর্তমানে ওই সেকশনের সবচেয়ে খারাপ কর্মকর্তা হিসেবে আমদানিকারকের প্রতিনিধির কাছে পরিচিত। ওই কর্মকর্তার নামে  যেসব ডকুমেন্ট থকে সে সকল ডকুমেন্টে বিভিন্ন ফাকফোকর বের করে টাকার জন্য চাপ দেন। টাকা না দিলে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয। তবে যে সকল পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যা থাকে সেসকল পণ্য ঘুষের বিনিময়ে ছাড় করিয়ে দেয় ওই কর্মকর্তা। আবার ঘুষ না দিতে পারলে আমদানিকারদের হয়রানি করে তাদের পণ্য আটকিয়ে রাখায় তারা ক্ষতির সন্মুখীন হয়।  আমদানিকারদের উপর মিথ্যা, অসত্য নিজের মত করে পণ্য শনাক্তকরণ (এইচএস) কোড কোড নির্ধারন করে ডিউটি হিসেব করে তার অর্ধেক অথবা তিন ভাগের এক ভাগ ঘুষ দাবি করে। বিশেষ করে সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও প্রতি কনটেইনার পন্যের শুল্কায়ন করতে স্পিডমানি দিতে হয় আনোয়ার হোসেনের মত বিভিন্ন কর্মকর্তাদের। কোনো কারণে ডকুমেন্টে ছোটখাটো ভুল থাকলে .এ স্পিডমানির পরিমাণ বেড়ে যায় অন্তত তিনগুণ।

শুল্কায়ন সেকশন ১(বি) রাজস্ব কর্মকর্তা ফারজানা আকরামের বিরুদ্ধেও তার পিয়ন মুজিবের মাধ্যমে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার কাজের অভিজ্ঞতা কম হলেও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সহযোগিতায় কাজ করে।দেখা গেছে, সেকশন ১(বি) তে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা চারজন। এদের মধ্যে তিনজনের যাচাই করা ডকুমেন্ট রাজস্ব কর্মকর্তা ফারজানা আকরাম সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আনোযারের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করে। যেনো ডকুমেন্ট আটকানো যায়। আটকানো গেলেই আসবে টাকা। ফারজানা আকরাম ও তার সহযোগী দুইজনই মিলে ডকুমেন্টের বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে ঘুষ আদায় করে থাকে। কেউ যদি তা দিতে না চায তাহলে তাদেরকে হয়রানির শিকার হতে হয়।

শুল্কায়ন সেকশন ১ এর মত প্রায় সব শুল্কায়ন সেশনের একই অবস্থা। এসব হয়রানির বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট অবহিত করলেও প্রতিকার মিলেনা বলে আমদানিকারকের প্রতিনিধিরা জানান। তাদের মতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতার কারণে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও রাজস্ব কর্মকর্তাদের অপকর্মের পরিধি দিন দিন বেড়েই চলছে।

আমদানিকারকের প্রতিনিধিরা জানান, শুল্কায়ন কার্যক্রম শেষে যখন এসেসমেন্ট নোটিশে স্বাক্ষর করে তখন ঘুষ নেয়া হয। ফারজানা আকরাম তার পিয়ন মুজিবের মাধ্যমে ঘুষের টাকা নেয়।চিটাগাং চেম্বারের এক সদস্য বলেন, 'কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সততার সঙ্গে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে উপকৃত হবে দেশের ১৬ কোটি মানুষ। কারণ পণ্য পরিবহন প্রক্রিয়ায় ব্যয় বাড়লে তার খেসারত গুনতে হয় দেশের প্রতিটি মানুষকে। হয়রানির মাত্রা যত কমে আসবে তত বেশি কমবে পণ্যের পরিবহন ব্যয়।

জানা গেছে, পণ্য নিয়ে জাহাজ আসার পর অনলাইনে বিল অব এন্ট্রি (আগাম চালান) দাখিল করতে হয় কাস্টম হাউসের অটোমেশন সিস্টেমে। এরপর আইজিএম, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, এলসি কপি, এলসিএ, ইন্স্যুরেন্স কপি, মেরিন পলিসি, কান্ট্রি অব অরিজিন সনদ ও বিল অব এক্সচেঞ্জের মূল কপি নিয়ে যেতে হয় সংশ্নিষ্ট গ্রুপের অ্যাপ্রেইজারের কাছে। এখানে যাচাই-বাছাই শেষে বন্ডের পণ্য হলে ফাইল পাঠানো হয় জেটির ওয়ান স্টপ সার্ভিস পয়েন্টে। ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে ফাইল নিতে হয় সহকারী কমিশনারের কাছে। তিনি পণ্য পরীক্ষার জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুষ দিতে হয়। এরপর বন্দর নিয়োজিত ইয়ার্ড ক্লার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে কনটেইনার খোলার অনুমতি নিতে হয়। ইয়ার্ডে থাকা এএসআই থেকে নিতে হয় সিলগালা কার্ড। এরপর কার্পেন্টার দিয়ে খোলা হয় কনটেইনার। কাস্টমস কর্মকর্তারা কনটেইনারে থাকা পণ্য পরীক্ষা করে জেটি কাস্টম থেকে দেন পরীক্ষার রিপোর্ট। এসব প্রক্রিয়ায় জেটিতে বিভিন্ন ধাপে ঘুষ দিতে হয় পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত। কোনো কারণে পরীক্ষণে পণ্যের কান্ট্রি অব অরিজিন কিংবা এইচএস কোড নিয়ে সন্দেহ হলে ঘুষের এ টাকা বেড়ে যায় পাঁচ থেকে ছয়গুণ। জেটি থেকে পরীক্ষণ রিপোর্ট নিয়ে আবার যেতে হয় কাস্টম হাউসের সংশ্নিষ্ট গ্রুপে। সেখান থেকে ফাইল যায় বন্ড আউটপাস গ্রুপে। এরপর সহকারী কমিশনার শুল্কহার নির্ধারণ করে দিলে ফাইল আবার আসে গ্রুপে। এখানে পুনরায় যাচাই-বাছাই শেষে ব্যাংকে শুল্কহার জমা দিলে দেওয়া হয় পণ্য খালাসের ফাইনাল ছাড়পত্র। এসব প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে কাস্টম হাউসে দিতে হয় পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা। কোনো কারণে ফাইলে ক্রুটি থাকলে এখানেও ঘুষের অঙ্ক বেড়ে যায় তিন থেকে পাঁচগুণ।

জানা গেলো, কাস্টমসে ফাইল স্বাক্ষর হলেও একটি চক্রের মাধ্যমে রাতের আঁধারে বাসাবাড়ি কিংবা রেস্টুরেন্টেই হয় ঘুষের লেনদেন। আয়কর বিভাগ কিংবা দুদক থেকে বাঁচতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের স্ত্রী-পুত্র কিংবা স্বজনদের নামেই সম্পদের পাহাড় গড়েন। এ অবস্থায় দুদকের নজরদারির প্রয়োজন বলে মনে করছেন অন্যান্যরা।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের অনেকের অভিযোগ, পণ্যের এইচএস কোড নির্ধারণ, শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণসহ আইনগত বিষয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা তাদের আমদানিকারকের পক্ষে ন্যায়সঙ্গত যুক্তি উত্থাপনের আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করেন। কিন্তু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত কাস্টমস কর্মকর্তারা ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিদের কোনো যুক্তিই গ্রাহ্য করতে চান না। শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ একচেটিয়া সিদ্ধান্ত  চাপিয়ে দেয়। সিদ্ধান্ত প্রদানে বিলম্বের কারণে পণ্য চালানের ডেমারেজ বৃদ্ধি হয়।

এছাড়া ‘রেড রি-রুট’ ও ‘লক ওপেন’-এর নামেও চাঁদাবাজি করেন অসাধু কর্মকর্তারা। কাস্টমসের এসি (সহকারী কমিশনার) পদমর্যাদার কর্মকর্তারা পণ্য চালানের শুল্কায়ন নিয়ে সন্দেহ পোষণ করলে মূল্যতালিকায় ‘রেড মার্ক’ দিয়ে ফাইল আটকে রাখেন। পণ্য পুনঃশুল্কায়নের পর সেটি ছাড় বা ‘রেড-রি রুট’ করা হয়। অভিযোগ আছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঘুষ আদায়ের জন্যই এটি করে থাকেন অসাধু কর্মকর্তারা।
এব্যপারে জানতে কাস্টমসের শুল্কায়ন শাখায় কর্মরত আনোয়ার হোসেনকে মোবাইলে কল দিলে কথা বলতে চাইলেও সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। পরে অনেক চেষ্টা করেও আর কথা বলা সম্ভব হয়নি।## 

এমএসএম / এমএসএম

ভূরুঙ্গামারীতে বিদেশে পাঠিয়ে উপকার করার পর হুমকি ও মারধরের অভিযোগ

নালিতাবাড়ীতে স্বপ্নময় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

গলাচিপায় গণভোট জনসচেতনতায় ওপেন এয়ার কনসার্ট

সরিষাবাড়িতে আইন-শৃংখলা ও মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়ায় গণভোট সচেতনতা সৃষ্টিতে শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অবহিতকরণ সভা

ঠাকুরগাঁওয়ে তিন লাখ টাকার ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনী যথা যথ ভূমিকা পালন করবে: নৌবাহিনী প্রধান এম নাজমুল হাসান

মাদারীপুর জেলা শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা

নোয়াখালীতে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভূমি দখল, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

সংস্কার ইস্যুতে গণভোট নিয়ে অজ্ঞতা: মনপুরায় নেই তেমন প্রচার-সচেতনতা

জয়পুরহাটে ০১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা

ঘোড়াঘাটে জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা,গুলিবর্ষণ;গ্রেপ্তার-৫

চাঁদপুরে বাসি খাবার সংরক্ষণ করায় হোটেল মালিকের জরিমানা