ঢাকা শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬

উৎসস্থলের ভ্যাটে রির্টাণ হয়রানি


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ১০-৭-২০২৩ দুপুর ৪:২২

উৎসস্থলে ভ্যাট কর্তনের পর আবার রির্টাণ দাখিল নিয়ে হয়রানিতে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সরকারী দফতরে ভ্যাট কর্তনের পর কেন রির্টাণ দাখিল করতে হবে এমন প্রশ্ন ব্যবসায়ীদের। এতে উল্টো ব্যবসায়ীদের হয়রানীতে ভুগতে হয়। উৎসস্থলে ভ্যাট কর্তনের পর কেন ভ্যাট রির্টাণ দাখিল করতে হবে এমন প্রশ্নের উত্তর মিলছে না দীর্ঘ তিন বছর ধরে। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। যেখানে সরকারী ক্রয় দফতরগুলো ভ্যাট আদায় করে নিয়েছে সেখানে কেন রির্টাণ দাখিল করতে হবে। অনলাইন সার্ভিসে রির্টাণ দাখিল করতে কেন হবে এমন প্রশ্ন ব্যবসায়ীদের। ভ্যাট কর্তনকারী কর্তৃপক্ষ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ভ্যাট জমা না দেওয়ায় এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ভ্যাট কর্তৃপক্ষ উৎসস্থলে ভ্যাট কর্তনের পরও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রির্টাণ দাবি করছে। আবার রির্টাণ দাখিল না করলে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে ব্যবসায়ীকে।  এদিকে, চট্টগ্রামে ভ্যাট দফতরের চট্টলা বিভাগের ভ্যাট উপ-কমিশনার বলছেন,আইনে আছে উৎসস্থলে ভ্যাট কর্তন করলেও সরবরাহকারী বা ঠিকাদার অনলাইনে ভ্যাট রির্টাণ দাখিল করতে হবে। 
অভিযোগ রয়েছে, সরকারী প্রকিউরমেন্টের নিয়নামুযায়ী দরপত্রের মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অর্ন্তভূক্ত করা বাধ্যতামূলক। এমনকি দরপত্রের বিল পরিশোধের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হিসাব বিভাগ শতকরা সাড়ে সাত ভাগ থেকে ১৫ ভাগ পর্যন্ত ভ্যাট কর্তন করছে। কিন্তু রাজস্ব বোর্ডে প্রতিমাসে জমা না দেওয়ার আিভযোগ রয়েছে। এমনকি সরকারী দফতরে নিবন্ধিত ব্যবসায়ী বা ঠিকাদারদের সঙ্গে দরপত্রের বা টেন্ডারের ভ্যাট নিয়ে ত্রিমূখী জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঠিকাদার বা সরবরাহকারীকে বিল পরিশোধের সময় হিসাব বিভাগ উৎসে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট ও ট্যাক্স কর্তন করে অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করছে। আবার এ ধরনের ভ্যাট পরিশোধের কয়েকদিন পর কেন অর্থ বিভাগ থেকে ওই ভ্যাট পরিশোধের রিটার্ন দাখিলে প্রয়োজনিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ। 
রেলের নিবন্ধিত ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের পক্ষ থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রামে পলোগ্রাউন্ডস্থ অর্থ উপদেষ্টা ওই হিসাব অধিকর্তার দফতর থেকে যে সব সরবরাহকারী বা ঠিকাদার বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়ন অথবা কর্মযজ্ঞের বিপরীতে উৎসস্থলে ভ্যাট প্রদান করে আসছে তারা সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে। কারণ, অত্র দফতরে উৎসস্থলে ভ্যাট কর্তনের পর সিআরবিস্থ অর্থ উপদেষ্টার বুক ট্রান্সফার বিভাগ থেকে প্রদত্ত ভ্যাটের রিটার্ন সনদ নিতে হচ্ছে। উৎসস্থলে ভ্যাট কর্তনের পর এই রিটার্ন সনদ নেয়া পর্যন্ত সপ্তাহখানেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। এরপর আবার এনবিআর এর ওয়েবসাইটে ভ্যাট চালান ও ভ্যাট পরিশোধের ডকুমেন্ট আপলোড করতে হচ্ছে প্রত্যেক মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে তা খুবই ঝামেলাপূর্ণ এমন মন্তব্য ভুক্তভোগিদের।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারী দফতরের অর্থ বিভাগে ভ্যাট পরিশোধের পর আবার কেন এনবিআর এর ওয়েবসাইটে ভ্যাট চালান অর্ন্তভুক্তি দিতে হবে? ভ্যাট দফতরের কর্মকর্তারা স্ব স্ব সরকারী দফতর থেকে কালেকশন করে নিলে এ ধরনের ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়না এমন মন্তব্য ব্যবসায়ীদের। এ নিয়ে ভ্যাট দফতরের মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শক বা কর্মকর্তাদের  কর্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারী দফতরে নিবন্ধিত ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ উঠেছে অনেক ব্যবসায়ী প্রত্যেক মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে না পেরে ভ্যাট প্রদানকারীর হিসাবের খাতায় জরিমানাসহ দায়বদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। 
এদিকে, প্রত্যেক মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর অধীনে থাকা আঞ্চলিক দফতরে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। অন্যথায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের জন্য অনলাইনে অটো সফটওয়্যার বসানো হয়েছে। যা প্রত্যেক মাসের ১৫ তারিখ অতিবাহিত হলেই ভ্যাট প্রদানকারীর একাউন্টে প্রদেয় হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার বা সরবরাহকারীরা উৎসস্থলে ভ্যাট প্রদান করলেও ভ্যাট সার্কেল অফিসের গাফিলতি ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে দায়বদ্ধতা বেড়ে যাচ্ছে ভ্যাট প্রদানকারীর। 
আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন দফতরে নিবন্ধিত যে ঠিকাদার বা সরবরাহকারী সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত তারা ত্রিমুখী জটিলতার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। কারণ, ভ্যাট প্রদানকারীরা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দরপত্র অনুযায়ী চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন। ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্য সম্পাদনের পর চুক্তিমূল্য অনুযায়ী বিলের অর্থ গ্রহণ করেন হিসাব বিভাগ থেকে। কিন্তু বিলের অর্থ গ্রহণকালে হিসাব কর্মকর্তা বা অর্থ উপদেষ্টার দফতর সরবরাহকারী বা ঠিকাদারের কাছ থেকে চুক্তিমূল্যের ওপর নির্দিষ্টহারে ভ্যাট কর্তন করে থাকে। তবে এই ভ্যাট সরবরাহকারী প্রদত্ত চুক্তিমূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকায় উৎসস্থলে ভ্যাট কর্তন করা হয়। পরবর্তীতে ভ্যাট প্রদানকারীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ভ্যাট প্রত্যয়ন না দিয়ে অর্থ উপদেষ্টার দফতর থেকে ভ্যাট সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হয়। এতে ভ্যাট প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হয়রানির শিকার হচ্ছেন। 
এ ব্যাপারে চট্টগ্রামে ভ্যাট দফতরের চট্টলা বিভাগের ভ্যাট উপ-কমিশনার আঞ্জুমান আরা আক্তার সকালের সময়কে বলেছেন,ভ্যাট ব্যবসায়ীকে জমা দিয়ে রির্টাণ দাখিল করেতে হবে। আইনে আছে উৎসস্থলে ভ্যাট কর্তন করলেও সরবরাহকারী বা ঠিকাদার অনলাইনে ভ্যাট রির্টাণ দাখিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ভ্যাট আদায়কারী প্রতিষ্ঠানকেও  প্রতিমাসে আদায়কৃত ভ্যাট জমা দিতে হবে সরকারের রাজস্ব খাতে। রেলের পক্ষ থেকেও প্রতিমাসে আদায়কৃত ভ্যাট জমা দিয়ে আসছে। আর সরবরাহকারীকে ভ্যাট পরিশোধের প্রত্যয়নপত্র রির্টাণ দাখিলের সময় জমা দিতে হবে।  

এমএসএম / এমএসএম

ভূরুঙ্গামারীতে বিদেশে পাঠিয়ে উপকার করার পর হুমকি ও মারধরের অভিযোগ

নালিতাবাড়ীতে স্বপ্নময় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

গলাচিপায় গণভোট জনসচেতনতায় ওপেন এয়ার কনসার্ট

সরিষাবাড়িতে আইন-শৃংখলা ও মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়ায় গণভোট সচেতনতা সৃষ্টিতে শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অবহিতকরণ সভা

ঠাকুরগাঁওয়ে তিন লাখ টাকার ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনী যথা যথ ভূমিকা পালন করবে: নৌবাহিনী প্রধান এম নাজমুল হাসান

মাদারীপুর জেলা শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা

নোয়াখালীতে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভূমি দখল, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

সংস্কার ইস্যুতে গণভোট নিয়ে অজ্ঞতা: মনপুরায় নেই তেমন প্রচার-সচেতনতা

জয়পুরহাটে ০১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা

ঘোড়াঘাটে জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা,গুলিবর্ষণ;গ্রেপ্তার-৫

চাঁদপুরে বাসি খাবার সংরক্ষণ করায় হোটেল মালিকের জরিমানা