এক ব্যক্তির নামে পাঁচটি মৃত্যু সনদ আনোয়ারায়
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নে একজন ব্যক্তির নামে পাঁচটি মৃত্যু সনদ ইস্যু করেছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। এর মধ্যে তিনটি সনদ ইস্যু করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান কলিম উদ্দিন এবং ২ টি ইস্যু করেছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দীন। ৪টি সনদে মৃত্যুর তারিখ একই হলেও (১০/০৩/১৯৭৭) সর্বশেষ কলিম উদ্দীনের ইস্যু করা সনদে মৃত্যুর তারিখ লেখা হয়েছে ১০ মার্চ ১৯৮৬ ইং (১০/০৩/১৯৮৬)। এই নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় কিছু জমি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ওই জমি আত্মসাৎ করতে একটি পক্ষ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একটি মিথ্যা তারিখ দেখিয়ে মৃত্যু সনদ ইস্যু করিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলার ১০ নং হাইলধর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের হাইলধর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন মৃত সুরেন্দ্র দে’র স্ত্রী দুর্গা বালা দে। ২০১৭ সালের ৮ জুলাই তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দীন দুর্গা বালার নামে ১৯/১৭ স্মারকে একটি মৃত্যু সনদ ইস্যু করেনে, যেখানে লিখেছেন ১০/০৩/১৯৭৭ ইং সালে বার্ধক্যজনিত কারনে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যু নিবন্ধন নং ০১১৮২/২১ উল্লেখ করে আরো একটি মৃত্যু সনদ ইস্যু করেন নাজিম উদ্দীন যেখানে লিখেছেন, ০৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য ও গ্রাম পুলিশের প্রতিবেদন মতে বিগত ১০/০৩/১৯৭৭ সালে বাধ্যক্যজনিত কারনে মৃত্যুবরণ করেন দুর্গা বালা দে।
গত ১৪/০১/২০২৩ ইং তারিখে মৃত্যু নিবন্ধন নং ০০১১৮২ উল্লেখ করে একটি মৃত্যু সনদ ইস্যু করেন হাইলধর ইউপি চেয়ারম্যান কলিম উদ্দীন, সেখানে তিনি লিখেছেন স্থানীয় ০৭ নং ওয়ার্ডেও সদস্য ও গ্রাম পুলিশের প্রতিবেদন মতে বিগত ১০/০৩/১৯৭৭ ইং তারিখে বার্ধক্যজনিত কারনে মৃত্যুবরণ করেন দুর্গা বালা দে। ০৪/০৪/২০২৩ ইং তারিখে ’১৯০৭১৫১০৪৭৬১৩৮৪৪৬’ নং আরেকটি মৃত্যু সনদে তিনি লিখেছেন দুর্গা বালা দে’র জন্ম ২২/০১/১৯০৭ ইং এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০/০৩/১৯৭৭ ইং তারিখে। প্রস্তুতকারী হিসেবে ইউনিয়ন সচিব শিবু পালিতের স্বাক্ষরও রয়েছে ওই সনদে। ৪টি মৃত্যু সনদেই মৃত্যু তারিখ একই থাকলেও (১০/০৩/১৯৭৭ ইং) এর এক মাস পরে অর্থাৎ ৩০/৫/২০২৩ ইং তারিখে আরো একটি মৃত্যু সনদ ইস্যু করেন চেয়ারম্যান কলিম উদ্দীন। যেখানে নিবন্ধন নং উল্লেখ করা হয়েছে ’১৯০৭১৫১০৪৭৬১৩৮৭৩৯’ এবং মৃত্যুর তারিখ দেখানো হয়েছে আরো ৯ বছর পর অর্থাৎ ১০/০৩/ ১৯৮৬ ইং তারিখ। একই ব্যক্তির নামে ইস্যু করা ৫ টি মৃত্যু সনদ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
এই বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, দুর্গা বালা দে ১৯৭৭ সালেই মৃত্যুবরণ করেছেন, স্থানীয় একটি মন্দিরেও তাঁর নাম ফলকে মৃত্যুর তারিখ ১০/০৩/১৯৭৭ লেখা রয়েছে। তাদের জমিজমা নিয়ে উত্তসুরীদের মাঝে একটা ঝামেলা চলছে। এই নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান আছে। সম্ভবত মামলায় ফায়দা নিতে একটি পক্ষ চেয়ারম্যানকে বায়াস্ট করে নয়তো অনৈতিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মিথ্যা মৃত্যু সনদ ইস্যু করাতে পারেন। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং প্রকৃত দোষীদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও দাবী জানান।
এক ব্যক্তির নামে একাধিক মৃত্যু সনদ ইস্যু করার বিষয়টি স্বীকার করে, ১০ নং ইউপি চেয়ারম্যান কলিম উদ্দীন বলেন, আমার অফিসের রেজিস্টার অনুযায়ী একজন ব্যক্তির একাধিক মৃত্যু সনদ ইস্যু করা হয়েছে। আগের চেয়ারম্যান ইস্যু করেছে, আবার আমিও ইস্যু করেছি। আমাদের তদন্তে কোথাও ভুল হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি আমরা আরো অধিকতর তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে যেটা সঠিক সেটা রেখে বাকীগুলো বাতিল করা হবে।
এমএসএম / এমএসএম
ভূরুঙ্গামারীতে বিদেশে পাঠিয়ে উপকার করার পর হুমকি ও মারধরের অভিযোগ
নালিতাবাড়ীতে স্বপ্নময় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ
গলাচিপায় গণভোট জনসচেতনতায় ওপেন এয়ার কনসার্ট
সরিষাবাড়িতে আইন-শৃংখলা ও মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
কোটালীপাড়ায় গণভোট সচেতনতা সৃষ্টিতে শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অবহিতকরণ সভা
ঠাকুরগাঁওয়ে তিন লাখ টাকার ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনী যথা যথ ভূমিকা পালন করবে: নৌবাহিনী প্রধান এম নাজমুল হাসান
মাদারীপুর জেলা শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা
নোয়াখালীতে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভূমি দখল, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ
সংস্কার ইস্যুতে গণভোট নিয়ে অজ্ঞতা: মনপুরায় নেই তেমন প্রচার-সচেতনতা
জয়পুরহাটে ০১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা
ঘোড়াঘাটে জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা,গুলিবর্ষণ;গ্রেপ্তার-৫