জাল সনদে বিএসইসিতে চাকরি!
জাল সনদ দিয়ে ও তদবীরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের (বিএসইসি) ম্যানেজার/ বাণিজ্য পদের চাকরি বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে জেনারেল ইলেক্ট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানী লিমিটেডের (জেইএমসিএল) বর্তমান উপ- মহাব্যবস্থাপক/কমার্শিয়াল হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে। চাকরি নেওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুয়া অভিজ্ঞতা দেখিয়ে চাকুরীতে নিয়োগ প্রাপ্তি, উৎকোচের মাধ্যমে পদোন্নতিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের কর্মকর্তারা চেয়ারম্যান, জেইএমসিএল ও প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দফতরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমডি হওয়ার স্বপ্নে সেখানে শ্রমিক অসন্তোসের কারিগর হিসেবেও অগ্রভাগে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তাও বিরুদ্ধে।
লিখিত অভিযোগে সেময় বলা হয়েছিল, বিএসইসিতে অতীতে অনেক নিয়োগ প্রক্রিয়া, নিয়োগ বানিজ্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০১১ সালে বিভিন্ন পদে নিয়োগকৃত বেশীরভাগ কর্মকর্তাদের, নিয়োগ বিজ্ঞাপ্তির শর্ত না মেনে উৎকোচের বিনিময়ে অযোগ্য ও অদক্ষ ব্যক্তিদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র অফিসার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে, যা বিএসইসির ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ও ন্যাক্কারজনক। সেই নিয়োগ প্রাপ্তকর্মকর্তা বর্তমানে করপোরেশনের নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। তাদের কারনে করপোরেশনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। তারমধ্যে জেনারেল ইলেক্ট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানী লিমিটেডের (জেইএমসিএল) বিতর্কিত ডিজিএম/কমার্শিয়াল হুমায়ুন কবির একজন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিগত ০৭-০৩-২০১১ ইং দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবস্থাপক (প্রশাসন/বানিজ্য) পদে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্নদেও আদেন করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ব্যবস্থাপক (প্রশাসন/বানিজ্য) পদে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের চাহিদার বিপরীতে হুমায়ুন কবির, পিতা: মোহাম্মদ আলী, মাতা: সাবেরা বেগম গ্রাম: শিকার জনার্দনপুর, পো: চৈতন্যের হাট, থানা: মিরসরাই, জেলা: চট্টগ্রাম মিথ্যা তথ্য ও ভুয়া অভিজ্ঞতা দেখিয়ে বিপুল অংকের উৎকোচ প্রদান করে ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) পদে নিয়োগ পেয়েছেন যা বিএসইসিতে একটি বিরল ঘটনা।
বিজ্ঞাপ্তি অনুযায়ী কর্পোরেশনের চাহিদা, যে কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সহ সরকারী/ আধাসরকারী/ স্বায়ত্বস্বাশিত প্রতিষ্ঠান বা সুপ্রতিষ্ঠিত সংস্থায় প্রথম শ্রেণীর সমমর্যাদা সম্পন্ন ক্রমউন্নত দায়িত্বশীল পদে ১০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
হুমায়ুন কবির তার চাকুরির আবেদনে উল্লেখ করেছেন, তিনি ২০০০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান) পাস করেছেন। কিন্তু তার সার্টিফিকেট থেকে দেখা যায়, বিএসসি (সম্মান) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে মে-জুলাই ২০০৩ সালে অর্থাৎ তিনি ২০০৩ সালে বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার আবেদন পত্রে তিনি ২০০১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাস করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। যেহেতু তিনি ২০০৩ সালে বিএসসি (সম্মান) পাশ করেছেন, স্বাভাবিক ভাবেই তিনি ২০০৪ বা ২০০৫ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার সার্টিফিকেট থেকে দেখা যায়, এমএসসি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ২৯ মে ২০০৫ সালে।
নিয়োগ বিজ্ঞত্তির শর্ত মোতাবেক এমএসসি ডিগ্রি অর্জনের পর তার কর্মঅভিজ্ঞতা ৫-৬ বছরের বেশী হওয়ার কথা নয়। কিন্তু চাকুরীর আবেদন পত্রে তিনি অভিজ্ঞতা দেখিয়েছেন ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০১ সাল হতে ১০ বছর অর্থাৎ তিনি অনার্স দ্বিতীয়/তৃতীয় বর্ষের ছাত্রাবস্থায় প্রথম শ্রেণীর চাকুরীতে যোগদান করেছেন যা তথ্য গোপন ও জালিয়াতির শামিল।
তার অভিজ্ঞতার সনদ বিশ্লেষর করলে দেখা যায় তিনি কর্ণফুলী ইন্ডাট্রিজ লিঃ এ ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০১ সালে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার (প্রশাসন) হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৫ মার্চ ২০০৪ ইং সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হিসেবে পদোন্নতি পান। আশ্চর্যের বিষয় হল তখনও তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেননি। ফলে তার পেশ করা অভিজ্ঞতার সনদটিও জাল বলে প্রতিয়মান হয়।
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, অক্টোবর ৩১, ২০০৬ এর ৪ ধারা ৬ (খ) উপ-ধারা অনুযায়ী "কোন ব্যক্তি সরকারী বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চাকুরীতে নিয়োজিত থাকাবস্থায় অন্য প্রতিষ্ঠানে দরখাস্ত করিতে হইলে তাহা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দাখিল করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু হুমায়ুন কবির করপোরেশনের সরকারী চাকুরীর জন্য দরখাস্ত দাখিল করার সময় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দাখিল করেনি এবং কর্পোরেশনের চাকুরীতে যোগদান করার সময়ও পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের কোন ছাড়পত্র জমা দেয় নাই। এতেও বুঝা যায় সে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরাসরি নিয়োগের যোগ্যতা হারিয়েছে।
বিগত ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরের বিএসইসির কমার্শিয়াল অডিটর হুমায়ুন কবিরের বিষয়টি যাছাই বাচাই করে এবং ২১ অনুচ্ছেদে আপত্তি উত্থাপন করেন। সেই সময়ে কমার্সিয়াল অডিটরগন অভিযোগ করেন যে, হুমায়ুন কবিরের এ সংক্রান্ত অডিট কার্যক্রমে বিএসইসি'র দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগন কোন সহযোগীতা করেনি। সেখান থেকে রহস্যজনক কারনে তিনি বেঁচে যান। এবং বর্তমানে তিনি উপ-মহাব্যবস্থাপক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই বিষয়ে কথা বলতে জেনারেল ইলেক্ট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানী লিমিটেডের (জেইএমসিএল) বিতর্কিত ডিজিএম কমার্শিয়াল হুমায়ুন কবিরের সাথে কথা বলতে মোবাইলে কল ও ক্ষুদেবার্তা দিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি বলে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এসব ব্যপারে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন তিনি (হুমায়ুন কবির) এখন প্রগতিতে নেই। যেহতু চেয়ারম্যান স্যারের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তাই তাঁরাই ব্যবস্থা নিবেন বলে আশা করছি।
এব্যপারে কথা বলতে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানের সরকারি মোবাইল নাম্বারে কল দিয়ে সংযোগ পাওয়া যায়নি বলে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এব্যপারে জানতে হুমায়ুন কবিরের বর্তমান কর্মস্থল জেনারেল ইলেক্ট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানী লিমিটেডের (জেইএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলামের মোবাইল কল ও ক্ষুদেবার্তা দিলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
এমএসএম / এমএসএম
সংগ্রাম ও ত্যাগের প্রতিফলন এই জাতীয় সংসদ
৫২০ নয়, কুমিল্লার জন্য বরাদ্দ ৫০০ কার্টন খেজুর
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১৪ মার্চ থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু: প্রধানমন্ত্রী
কামারখন্দে ইউপি সদস্য মদ খেয়ে মাতাল হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুর
কোটালীপাড়ায় ৫৮ প্রান্তিক জেলে পেল বকনা বাছুর, বিকল্প আয়ে নতুন আশার আলো
রামুতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত আটক
সীতাকুণ্ডে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১
সাভারে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত : থানায় দুই পক্ষের অভিযোগ
নরসিংদীর পলাশে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
সবুজে ঘেরা চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজার: প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য
গজারিয়ায় হাশেম প্রধান ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে ঈদ উপহার বিতরণ
চেক ডিজঅনার মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ১৫মাস পর গ্রেপ্তার