গায়েবী মামলা প্রত্যাহার না করলে থানা ঘেরাওঃ আবু সুফিয়ান
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেছেন, অতীতের গায়েবী মামলার ধারাবাহিকতায় গত ১৬ দিনে লোহাগাড়া, পটিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ এবং বোয়ালখালী থানায় বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামী করে ৫ টি গায়েবী মামলা দায়ের করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এসব মিথ্যা মামলা সুষ্ঠু তদন্ত করে অবিলম্বে প্রত্যাহার না করলে প্রয়োজনে থানা ঘেরাওর মতো কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
বৃহস্পতিবার (৩ আগষ্ট) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাঁচ থানায় বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামী করে দায়ের করা মিথ্যা গায়েবী মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক এনাম।
এসময় আবু সুফিয়ান বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ভোট চুরির নির্বাচনে জোর করে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের মানুষের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র
পুনরুদ্ধার ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে বিএনপি। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচীতে দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং দাবী আদায়ে অনড় রয়েছে। সরকারের প্রতিটি ক্ষেত্রে দলীয়করণ, সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন দেখে বিশ্ববাসী সরকারের উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের উপর ভিত্তি করে ভিসানীতি প্রয়োগ করেছে। দেশে বিদেশে মানুষের কাছে আস্থা হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে সরকার। মানুষ তাদের আর ক্ষমতায় চাইছে না সেটা দেখে তারা গদী রক্ষায় মরিয়া হয়ে ওঠেছে।
তাই তারা তাদের পুরোনো কায়দায় নতুন করে সারা দেশে মিথ্যা এবং গায়েবী মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আন্দোলন থেকে দূরে সরানোর পায়তারা করছে।
তিনি বলেন, গত ১৬ জুলাই থেকে ১ আগষ্ট পর্যন্তএই ১৬ দিনে লোহাগাড়া, পটিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ এবং বোয়ালখালী থানায় বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামী করে
পাঁচটি মামলা করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। গত ১৬ জুলাই পটিয়া থানায়, ২০ জুলাই বাঁশখালী থানায়, ২২ জুলাই লোহাগাড়া থানায়, ২৮ জুলাই
চন্দনাইশ থানায় এবং ১ আগস্ট বোয়ালখালী থানায় এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়। প্রত্যেক থানায় রুজু করা মামলায় একই ধারা গুলো ব্যবহার করে শুধুমাত্র
স্থান, সময়, বাদী এবং আসামিদের নাম ব্যতীত সম্পূর্ণ মিল রেখে ঘটনা বর্ণনা করেছে। প্রতিটি মামলায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনের ধারা উল্লেখ করেছে,
যাতে করে মামলা কঠিন হয়। অথচ ঐসময় ঐ এলাকাতে কোন প্রকার জমায়েত, মিছিল সমাবেশ বা অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। এটা শুধুমাত্র আগামী নির্বাচনে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করার জন্য করা হয়েছে। ঘটনা বর্ণনায় যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক, ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। আমরা খবর
পেয়েছি অন্যান্য থানায়ও এধরনের মামলা করার জন্য তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, চন্দনাইশ থানার মামলায় যাদের আসামী করা হয় তাদের মধ্যে পবিত্র হজ পালনের জন্য দেড় মাস সৌদি আরবে ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী ও সাইফুল করিম। তাঁরা দেশে আসেন গত ৩০ জুলাই। অথচ ২৮ জুলাই চন্দনাইশ পৌরসভা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তার মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আগের দিন সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে হজে থাকা ওই দুজনসহ ১২০ জন মিলে তাঁকে মারধর করেছেন। ওই সময় তাঁদের হাতে ছিল লাঠিসোঁটা ও পেট্রলবোমা। বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইন এবং ভাঙচুর মারধরের অভিযোগে এই মামলা হয়। ঘটনার সময় উল্লেখ করা হয়েছে ২৭ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টা। ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে পৌরসভার গাছবাড়িয়া এলাকা। অথচ সেদিন ঐ এলাকাতে এধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, ১৬ জুলাই পটিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খোরশেদ আলমকে প্রধান আসামী করে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে পটিয়া থানায় একটি মিথ্যা এবং বানোয়াট মামলা দায়ের করেন পৌরসভা যুবলীগের নজরুল ইসলাম। অথচ সেদিন ঐ এলাকাতে এধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি এবং বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম সহ অনেক নেতাকর্মী সেদিন চট্টগ্রামের বাহিরে ছিলেন। এরপর ২০ জুলাই বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবু মুছা মেম্বার সহ বিএনপির ১২০ জনকে আসামী করে বাঁশখালী থানায় মামলা করেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বৈলগাঁও এলাকার মো. ওসমান। পাশাপাশি ২২ জুলাই লোহাগাড়া থানা বিএনপির আহবায়ক নাজমুল মোস্তাফা আমিনকে প্রধান আসামী করে ১৭০ জনকে আসামী করে লোহাগাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায়ও পটিয়া থানায় রুজু করা মামলা মতো একই ধারা গুলো ব্যবহার করেছে। মামলা নং- ৩৪/২৭৫। সর্বশেষ ১ আগষ্ট বোয়ালখালী থানায় বোয়ালখালী পৌরসভা বিএনপি সদস্য সচিব ইউসুফ চৌধুরীকে প্রধান আসামী দিয়ে ১৬০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায়ও অন্যান্য থানায় রুজু করা মামলার মতো একই ধারা গুলো দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মিছিল সমাবেশ ও সভা অনুষ্ঠান করা আমাদের সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক অধিকার। বর্তমান অবৈধ সরকারের উপর জনগণের কোন আস্থা নেই। আর
তাই ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা বিএনপি নেতা কর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে, হয়রানী করে দমন পীড়ন চালাচ্ছে। আওয়ামীলীগ চট্টগ্রামের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশকে পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করছে। প্রশাসন যন্ত্রকে তাদের অবৈধ ক্ষমতায় টিকে থাকার খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এসব মামলা দিয়ে
হয়রানী করে বিএনপিকে একদফার আন্দোলন থেকে পিছু হঠাতে পারবে না বরং আরো ইস্পাত কঠিন দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি চূড়ান্তবিজয় ছিনিয়ে আনবে।
এমএসএম / এমএসএম
বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আপিল ঘিরে বিতর্ক, ভাইরাল অডিওতে তোলপাড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪
বোয়ালমারীতে ইউনাইটেড আরব আমিরাতের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ
দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু গ্রেফতার
সরিষার হলুদে রঙিন ত্রিশাল : বাম্পার ফলনের আশা
গোপালগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি
নাঙ্গলকোটে দু'জনকে গুলি করে হত্যা
মনপুরায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে আসা তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে এলপিজি সংকটে দাম দ্বিগুণ, তবু মিলছে না গ্যাস
কালো ধোঁয়ার দখলে রায়গঞ্জ, ঝুটে পুড়ছে চাতাল
কুমিল্লার মুরাদনগরে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার
সিডিএ’র নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ