দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির বদলে পঙ্গুত্ব
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানকে আহ্বায়ক ও বোয়ালখালীর মোস্তাক আহমদ খানকে সদস্য সচিব করে ৬৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৯ সালে। সদস্য সচিব নিস্ক্রিয়, যুগ্ম আহ্বায়ককে অব্যাহতি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপিরা কমিটির বাইরে ছিল। এ কমিটি তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় চার বছরে পূর্ণাঙ্গ হওয়াতো দুরের কথা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে এ কমিটি। এ কমিটি দেয়ার পর থেকে তৃণমূল নেতা কর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছিল। দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটিতে আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে সাবেক এমপি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, সাবেক পৌর মেয়র, জেলার সাবেক ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের স্থান হয়নি। যার কারণে দলীয় কর্মসূচীতে তাদের কাছে কোন দায়িত্ব না থাকার কারণে উপস্থিত হতে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে সাবেক এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়রসহ পরিচিত নেতারা কর্মসূচিতে না থাকায় প্রশাসনও বিএনপির নেতা কর্মীদের সম্মান দেখাচ্ছে না বলে দলীয় নেতা কর্মীরা জানায়।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে ৩ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাবেক সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েলের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ জেলা বিএনপির ১৫১ সদস্যের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ৩ মাসের মধ্যে পুর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার শর্তে ৬৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে আলী আব্বাস ও সদস্যসচিব করা হয় মোস্তাক আহমদ খানকে। কমিটি হওয়ার কিছুদিনের মাথায় উপজেলা ও পৌরসভা কমিটি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে প্রতিবাদ করায় দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিদ্দীন ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি লিয়াকত আলী চেয়ারম্যানকে দল থেকে অব্যাহতি দেন। এছাড়াও কমিটির প্রায় ১৫/২০ সদস্য মৃত্যুও বরণ করেছে। এরপর থেকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিকভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে বলে দলীয় নেতা কর্মীরা জানায়। দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বয়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সাবেক সাংসদ গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং সাবেক সাংসদ সওয়ার জামাল নিজাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল আলম বুলবুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর কবির চৌধুরী, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি বদরুল খায়ের চৌধুরী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হক, কামরুল ইসলাম হোসাইনী, মফজল আহমদ চৌধুরী, লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান, হুময়ান কবির আনসার, জসিম উদ্দীন সহ অনেকে সাবেক ছাত্র নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে বাদ হয়েছে। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাসকে অব্যাহতি ও সদস্য সচিব দলীয় কর্মকান্ডে দীর্ঘদিন গরহাজির হওয়ায় দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকান্ড দলীয় নেতা কর্মীরা দলের প্রতি ভালোবাসায় অংশ নিলেও সাংগঠনিকভাবে অনেকটা পঙ্গু। দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি থেকে সাবেক দুই এমপির বিষয়ে হাই কমান্ডকে ভুল তথ্য দিয়ে বাদ দেয়া হয়েছে বলেও তাদের অনুসারীরা জানায়। বিশেষ করে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েলের অনুসারীরা কমিটি গঠনের পর থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি আলাদাভাবে পালন করে আসছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি বদরুল খায়ের চৌধুরী বলেন, প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও গাজী মোহাম্মদ শাহাজাহান জুয়েলের মধ্যে বিরোধ থাকলেও তারা দুইজনই আলাদা কর্মসূচি দিয়ে নেতা কর্মীদের চাঙ্গা রাখতেন, তারা দুইজনই নেতা কর্মীদের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান যারা আছে তারা এ কাজটি করছেন না, কর্মীদের মধ্যে একে অপরের সাথে অভিমান থাকতে পারে সিনিয়র নেতারা বসে তা ঠিক করে দিবে এখন সেটা না করে কাকে কিভাবে দুরে সরিয়ে দেয়া যায় এটা নিয়ে ব্যস্ত, যার ফলে গুটিকয়েক ব্যক্তির কারণে দলের বৃহত্তর ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, বিষয়টি হাইকান্ডের বুঝা উচিত।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকান্ডে নিস্ক্রিয় থাকার বিষয়ে জানার জন্য সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও রিসিভি করেনি। এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, সদস্য সচিব অসুস্থ থাকায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না। চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছিলেন বলেও তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রসঙ্গে আন্দোলন সংগ্রাম কমিটি দুটো এক সাথে করতে হচ্ছে কমিটি গঠনের কাজ প্রক্রিয়াধিন রয়েছে বলে তিনি জানান।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পর কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইলের নেটের সমস্যা বুঝতে সমস্যা পরে কথা বলব এই বলে লাইন কেটে দেন।
উল্লেখ্য ২০০৯ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী সভাপতি ও অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে এ কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সভাপতি ঠিক রেখে সাবেক সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক এবং শেখ মহিউদ্দিনকে সিনিয়র সহসভাপতি করা হয়। পরে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
এমএসএম / এমএসএম
বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আপিল ঘিরে বিতর্ক, ভাইরাল অডিওতে তোলপাড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪
বোয়ালমারীতে ইউনাইটেড আরব আমিরাতের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ
দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু গ্রেফতার
সরিষার হলুদে রঙিন ত্রিশাল : বাম্পার ফলনের আশা
গোপালগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি
নাঙ্গলকোটে দু'জনকে গুলি করে হত্যা
মনপুরায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে আসা তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে এলপিজি সংকটে দাম দ্বিগুণ, তবু মিলছে না গ্যাস
কালো ধোঁয়ার দখলে রায়গঞ্জ, ঝুটে পুড়ছে চাতাল
কুমিল্লার মুরাদনগরে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার
সিডিএ’র নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ