ঢাকা শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬

চট্টগ্রামে নির্বিচারে বন উজাড়


এসএম পিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো photo এসএম পিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ১৩-৮-২০২৩ দুপুর ১২:১৯

 চট্টগ্রামে বনের পরিচার্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় নির্বিচারে বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। নিয়মিত চাঁদা আদায় করে নিজেদের পকেট ভারী করতে এরাব বনদস্যুদের সহায়তা করে আসছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ বিপর্যয়ের কবলে পড়ছে দেশ অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব। আর দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠছে বনদস্যুরা। রাস্তায় রাস্তায় ফরেস্টের চেকপোস্ট থাকলেও তারা গাছ চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার চেয়ে চাঁদাবাজিকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। চাঁদার টাকা না পেলে দুয়েকটা চালান আটক হলেও বেশিরভাগই নির্বিঘ্নে গন্তব্যে চলে যায় বলে বিশ্বস্ত একাধিক সুত্র জানিয়েছে।  তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনকে বাঁচানোর পক্ষে মত পরিবেশবিদের। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরেস্ট এর একাধিক কর্মচারি জানান, আইনে আছে গাছ যে কেউ রোপন করতে পারবে কিন্তু নিজের গাছ হলেও ফরেস্টের অনুমতি ছাড়া কাটা বা পরিবহনের কোন সুযোগ নেই। কর্মকর্তাদের সদিচ্ছা থাকলে এই আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে  চোরাই গাছ কাটা পুরোপুরিভাবে বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু বেশিরভাগ কর্মকর্তাই বন রক্ষার বদলে অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে গাছ চোরদের সহায়তা করে বন ধ্বংসের খেলায় মত্ত রয়েছে। যার ফলে দেশে, আগের মতো আর বন নেই। বেশিরভাগ বন উজার করা হয়েছে। এর ফলে ঘটেছে পরিবেশের বিপর্যয়। পরিবর্তন হয়ে গেছে জলবায়ু। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে গাছ চোরদের পাশাপাশি ঘুসখোর কর্মকর্তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবী করছেন তারা।
সুত্র জানায়, একশ্রেণির লোক আছে যাদের কাজ হচ্ছে শুধু গাছ কাটা, পারমিটের তোয়াক্কা না করে তারা নির্বিচারে গাছ কেটে বন সাবাড় করছেন, বিনিময়ে তারা সামান্য পারিশ্রমিক পেলেও পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি ভেবে দেখার মতো চিন্তা চেতনা তাদের নেই। অপর একটি গ্রুপ সেই কাটা গাছগুলো করাতকলে পৌছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিছু গাছ সেখানে বিভিন্ন সাইজে কাটার পরে শহর এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে পৌছে দেন। আবার কিছু গাছ রদ্দা বা চাহিদা অনুযায়ী টুকরো করে ব্যবসায়ীদের কাছে পৌছে দেন। ব্যবসায়ীরা মোটা অংকের দাম ধরে ব্যবহারকারীর কাছে পৌছালেও সরকারের রাজস্ব পুরোটাই গচ্ছা যাচ্ছে।  আর বনের এসব গাছ কাটা থেকে ব্যবহারকারীর কাছে পৌছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই বন কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তা রয়েছে বলে সুত্র জানায়। 
সুত্র জানায়, অনৈতিক টাকার কাছে নত হয়ে কতিপয় অসাধু লোভী কর্মকর্তা আইনের তোয়াক্কা না করে কমিশনের বিনিময়ে চোরদের গাছ কাটা ও পাচারে নিরব ভূমিকা পালন করছেন। তবে যারা কমিশন দিতে চায়না তাদের বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নানা অযুহাতে হয়রানি করা হয়ে থাকে। সুত্র জানায় প্রতিটি বনের আশেপাশে ফরেস্টের বিট অফিস এবং দেখবালের জন্য গার্ড ও কর্মকর্তা রয়েছে। শহরে আসার রাস্তায় রয়েছে চেকপোস্ট। ফরেস্টেও সদিচ্ছা থাকলে একপিস গাছও পারমিট ছাড়া কাটা বা পরিবহনের সুযোগ নাই। কিন্তু এতো কিছু থাকার পরেও বিভিন্ন এলাকায় বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। তাহলে কোন দায়িত্বটা তারা পালন করছে এমন প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
জানা যায়, নগরের শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক, ফিরিঙ্গী বাজার, বাদুরতলা, বলির হাটসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় এসব চোরাই কাঠ বেচাকেনার বড় হাট। এসব এলাকায় রয়েছে বহু করাতকলও, যারা ফরেস্ট অফিসের জন্য নিয়মিত অর্থ প্রদান করে থাকেন ফলে এখানে কোন ঝামেলাও হয়না আবার কেউ টাকা দিতে না চাইলে তার মালামাল আটকের হুমকী ও নাজেহাল করার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে চালানো হয় শহরের বাইরে হাটহাজারী, রাঙ্গুনীয়া, ফটিকছড়ি, রাউজান, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলার করাতকল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।
সরকারী জমিতে বাগান থাকলে সেগুলো ব্যবহার উপযোগী হলে ফরেস্ট অফিস টেন্ডারের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ করতে পারে কিন্তু সংশ্লিষ্ট এলাকার বিট অফিসাররা চোরাকারবারীদের সাথে সিন্ডিকেট করে তা চুরি করে বিক্রি করে দিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করার কাজে মগ্ন থাকে। এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার হাত থেকে উপকারভোগীদের করা বাগানও রেহাই পায়না। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক উপকারভোগিরা জানান, ’আমাদের শ্রম ও অর্থ দিয়ে গড়া বাগানের ন্যায্য পাওনা থেকে আমরা বঞ্চিত হলাম। এলাকার চিহ্নিত গাছ পাচারকারি ও সন্ত্রাসি সিন্ডিকেট ফরেস্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় দিনে রাতে গাছ কেটে নিলেও আমাদের কিছুই করার নেই। 
এব্যপারে  চট্টগ্রামের বন সংরক্ষক (সিএফ) বিপুল কৃষ্ণ দাস বলেন, আমরা বন রক্ষায় সর্বাত্মাক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অনিয়মের সাথে কেউ জড়িত থাকলে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি নিয়ে ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (ডিএফও)’দের সাথে কথা বলব।

এমএসএম / এমএসএম

ঠিকাদারের গাফিলতিতে ধ্বসে গেছে মাদ্রাসা ভবন

আত্রাইয়ে সেই কারামুক্ত অসহায় বৃদ্ধা রাহেলার পাশে ইউএনও শেখ মো. আলাউল ইসলাম

আত্রাইয়ে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজুর গণসংযোগে নেতাকর্মীদের ঢল

বেনাপোল বন্দরে শুল্কফাঁকির পার্টসের চালান জব্দ

রাজস্থলীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত

বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম ইমাম উদ্দিনের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কুড়িগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারনা শুরু

কুমিল্লায় নির্বাচনি প্রচারে মাঠে প্রার্থীরা

রাঙ্গামাটিতে সিএনজির উপর মালবাহী ট্রাক চাপায় এক নারী যাত্রী নিহত

শালিখায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত

মান্দায় গরীবের সম্বল কেড়ে নিলেন- এক ইউপি সদস্য

বাগেরহাটের ফকিরহাটে চুরি করতে এসে গৃহিণীকে হত্যার অভিযোগ

তারাগঞ্জে জামায়াতের নির্বাচনী স্বাগত মিছিল