চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ: প্রতিরোধে নেই পর্যাপ্ত সচেতনতা
প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও রোগীর সংখ্যা। আগস্ট-সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুর মৌসুম। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। আর ব্যাপক গরমও পড়েছে। এই রকম পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু বাড়ার আশঙ্কা থাকে। লাগামহীনভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা। সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এতে মৃত্যুর সংখ্যাও। প্রথমবারের মতো দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপে আবির্ভূত হয় ২০১৯ সালে। ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত স্ত্রী মশা থেকে মানবদেহে বাহিত হয়। চার ধরনের ভাইরাস এই সংক্রমণের জন্য দায়ী।
সম্প্রতি ঢাকঢোল পিটিয়ে মশক নিধন কর্মসূচি ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ উদ্বোধন করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। উদ্বোধনের পর থেকেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান নগরের বাসিন্দারা। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, পরিস্থিতি এমন থাকলে সামনে আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। তাই চসিককে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চিঠির মাধ্যমে অনুরোধ জানিয়েছি। এর আগেও মেয়রসহ আরও কয়েকটি দপ্তরে আমরা বিষয়টি অবহিত করেছিলাম।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘ডেঙ্গু চোখ রাঙাচ্ছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ায় ক্রাশ প্রোগ্রাম নিয়েছিলাম। কিন্তু এক কাপ পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়তে পারে। তাই টনে টনে ওষুধ ছিটালেও গণসচেতনতার বিকল্প নেই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণালব্ধ সাজেশন অনুযায়ী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মশার ওষুধ কিনেছি। আগের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তাই সন্দেহের কারণ নেই। আমি মশক নিধন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি। সারা বছর মশক নিধন কার্যক্রম চলবে।
ওদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বর্তমানে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০-৪০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। তাঁরা এটাও বলছে, ডেঙ্গু রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাড়িতে রেখে বেদনানাশক দিয়ে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিয়ে রোগীর ব্যথা দূর করা হয়। অন্তত একবার আক্রান্ত ব্যক্তি পুনরায় আক্রান্ত হলে তাকে টিকা দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু হলে কী ধরনের চিকিৎসা নেবেন, বাসায় না হাসপাতালে থাকবেন—নির্ভর করে এর ধরন বা ক্যাটাগরির ওপর। ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ধরন বা ক্যাটাগরি আছে—‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’। প্রথম ক্যাটাগরির রোগীরা স্বাভাবিক থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী ‘এ’ ক্যাটাগরির। তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়াই যথেষ্ট। এই সময় ডেঙ্গু জ্বর বেড়ে যায়। ‘বি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগতে পারে। কিছু লক্ষণ, যেমন পেটে ব্যথা, বমি, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, অন্তঃসত্ত্বা, জন্মগত সমস্যা, কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াই ভালো।‘সি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। এতে লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর প্রয়োজন হতে পারে।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আমির হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূলমন্ত্র এডিস মশার বিস্তার রোধ করা। ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এ মশা তুলনামূলক পরিষ্কার ও স্বচ্ছ পানিতে বিস্তার করে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে সব সময় মশারির ভেতরে রাখুন। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরপরই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সিভিল সার্জন ডা. ইলিয়াস চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবন, কল-কারখানাসহ যেসব জায়গায় পানি জমার সম্ভাবনা রয়েছে- সেসব জায়গায় নজরদারি করছি। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গুরোধে জনবল বাড়িয়ে নগরীতে ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি অসচেতন ভবন মালিককে শাস্তির আওতায় আনছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা এম এ হাশেম বলেন, ডেঙ্গু নিধন কার্যক্রমে আমরা জনবল বাড়িয়েছি।
এ নিয়ে কীটতত্ত্ববিদ জানান, নগরে মশার ওষুধ ছিটানো হয় দিনের বেলায়। কিন্তু মশার ওষুধ ছিটানোর উপযুক্ত সময় সন্ধ্যা। চট্টগ্রামের জেলা কীটতত্ত্ববিদ এন্তেজার ফেরদৌস জানান, অ্যাডাল্ট মশা মারার জন্য ফগিং করতে হবে সন্ধ্যায়। সেটা করতে হবে- হটস্পটে। নগরীর আগ্রাবাদ, কদমতলী, বহদ্দারহাট, হালিশহর, সিডিএ আবাসিক এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা বেশি ডেঙ্গুপ্রবণ বলে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এমএসএম / এমএসএম
হাতিয়ায় অস্ত্র দিয়ে ছাত্র দল নেতাকে ফাঁসানোর প্রতিবাদে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আপিল ঘিরে বিতর্ক, ভাইরাল অডিওতে তোলপাড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪
বোয়ালমারীতে ইউনাইটেড আরব আমিরাতের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ
দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু গ্রেফতার
সরিষার হলুদে রঙিন ত্রিশাল : বাম্পার ফলনের আশা
গোপালগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি
নাঙ্গলকোটে দু'জনকে গুলি করে হত্যা
মনপুরায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে আসা তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে এলপিজি সংকটে দাম দ্বিগুণ, তবু মিলছে না গ্যাস
কালো ধোঁয়ার দখলে রায়গঞ্জ, ঝুটে পুড়ছে চাতাল
কুমিল্লার মুরাদনগরে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার
সিডিএ’র নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ
Link Copied