বোয়ালখালী পৌরসভায় ‘খেয়ালখুশির’ নিয়োগ বাণিজ্য
চট্টগ্রামে বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়র মো. জহুরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোপনে নিয়োগ চূড়ান্ত, দরখাস্ত না করেই অনেকেই পৌরসভার বিভিন্ন পদে চাকরি পাচ্ছেন বলে বোয়ালখালী জুড়ে সমালোচনা চলছে। নাম স্বর্বস্ব পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জেলা প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে এসব নিয়োগে লাখ লাখ টাকার খেলা চলছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
এতে বিতর্কিত এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ রয়েছেন একই পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তারা। তাঁরা দ্রুত এসব অবৈধ নিয়োগ বাতিলসহ জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধান বলছে, গত কয়েক মাসে ‘খেয়ালখুশির’ এ নিয়োগ বাণিজ্যে কর আদায়কারী হিসেবে মো. নেজাম উদ্দীন, সার্ভেয়ার হিসেবে মোহাম্মদ রহমান, অফিস সহকারি হিসেবে মোহাম্মদ সিহাম ও মোহাম্মদ রবিউলকে নিয়োগ দিয়েছেন। এতে কোন ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করা হয়নি।
এরমধ্যে আবারও অতি গোপনে প্রধান সহকারি হিসেবে সাইফুদ্দীন খালেদ, অফিস সহকারি হিসেবে মো. নোমান এবং কার্য সহকারি পদ ও টিকাদান কর্মী হিসেবে আরও দুজনকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়। যারা সকলেই মেয়রের কাছের লোক বলে পরিচিত। দুদক এসব বিষয়ে অনুসন্ধান চালালে সত্যতা পাবে বলেও জানিয়েছেন পৌরসভার একাধিক কর্মচারিরা।
অথচ পৌরসভার নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মালি ছাড়া অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিধান নেই। কিন্তু আইন না মেনেই গত কয়েক মাসে বোয়ালখালী পৌরসভাতেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অসংখ্য জনবল। এদের অনেকেই স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মী। যারা টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাচ্ছেন বলে প্রচার রয়েছে। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসেও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বোয়ালখালী পৌরসভা নকশাকার ও নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ দিয়েছেন দুজনকে। যা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ আর সমালোচনা।
অন্যদিকে, বোয়ালীখালী পৌরসভায় স্থায়ী কর্মীর চেয়ে অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিষয়ে কোনো বিধিমালা না থাকায় মেয়র তাঁর খেয়ালখুশি মতো নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছেন। মেয়র দায়িত্ব পেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিজের কাছের ও দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও পাওয়া যায়। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পৌরসভাগুলোতে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ বন্ধ করতে বলা হলেও, সেটি মানা হচ্ছে না।
অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিষয়ে বোয়ালখালী পৌরসভার এক কাউন্সিলর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে বলেন, ‘কোন সময়, কাকে কী কারণে নিয়োগ দেওয়া হয়, সেটি মেয়র ছাড়া আর কেউ জানে না। বিজ্ঞপ্তি তো দূরের কথা, পৌরসভার মাসিক সভাতেও কর্মী নিয়োগের বিষয়টি পাস করার প্রয়োজন মনে করেন না। আর নিয়োগ পাওয়া বেশির ভাগ অস্থায়ী কর্মী নিয়মিত অফিসে আসেন না। অথচ তাঁদের বেতনের বোঝা বইতে হয় পৌরসভাকে।’
পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএসএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশের পৌরসভাগুলোতে বর্তমানে স্থায়ী কর্মী রয়েছেন ১১ হাজার ৬৭৫ জন। আর অস্থায়ী ভিত্তিতে বা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন এমন কর্মীর সংখ্যা ২০ হাজার ৩৫৫ জন। দেশের দুই শতাধিক পৌরসভায় ২ থেকে ৭০ মাস পর্যন্ত বেতন–ভাতা বকেয়া। এ বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৮৭৫ কোটি টাকা।
পৌরসভার কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নিয়োগ হয় ১৯৯২ সালের পৌর কর্মকর্তা–কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী। তাতে বলা হয়েছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার), মালি ও মিকচার মেশিন (রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত) চালক পদে খণ্ডকালীন নিয়োগ দেওয়া যাবে। অন্য সব পদে সরাসরি, পদোন্নতি এবং বদলির মাধ্যমে স্থায়ী নিয়োগ দিতে হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভাগুলোর স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মকর্তা–কর্মচারীর সংখ্যা, মাসিক বেতন–ভাতার পরিমাণ, বকেয়া বেতন–ভাতার তথ্য একটি সফটওয়্যারে হালনাগাদ করা হচ্ছে। এটি শেষ হলে পৌরসভার কর্মী সংখ্যার সার্বিক চিত্র পাওয়া যাবে। অন্যদিকে দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভাগুলোতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, এর মাধ্যমে পৌরসভার কার্যক্রম গতিশীল হবে এবং স্বচ্ছতা আসবে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘যাকে ইচ্ছা নিয়োগ দিচ্ছেন পৌরসভার মেয়ররা। এসব নিয়োগে খরচের খাত বেড়ে গেছে। জনগণের টাকায় অপ্রয়োজনীয় লোকবলকে বেতন দেওয়া হচ্ছে। পৌরসভার কর্মী নিয়োগের পুরো বিষয় মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে হওয়া প্রয়োজন। আর যাঁরা অনিয়ম করে নিয়োগ দিয়েছেন, সে সব মেয়রের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালখালী পৌরসভার সচিব মৃনাল কান্তি বলেন, ‘পৌরসভার নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার বিধান নাই সেটা সত্য। তবে আমরা নিয়ম মেনেই নিয়োগ দিয়েছি। সেটা স্থানীয় একটি পত্রিকা ও জাতীয় পত্রিকায় ছাপানো হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামের কোন পত্রিকা ও ঢাকার কোন পত্রিকায় জনবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাপানো হয়েছে জানতে চাইলে পৌর সচিব তাঁর মনে নেই বলে মেয়রের সাথে কথা বলতে অনুরোধ জানান।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালখালীর পৌর মেয়র মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘পৌর বিধিমালা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মালি ছাড়া স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিধান নেই। সেটা সঠিক নয়। বিধান আছে। তবে পৌরসভায় স্থায়ী নিয়োগ করতে হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনমুতি নিয়েই নিয়োগ দিতে হয়। যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমরা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েছি, নিয়োগে ডিসি সাহেবের প্রতিনিধি এসিল্যাণ্ডসহ মিলে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কোন রকমের অনিয়ম করা হয়নি। শতভাগ নিয়ম মেনেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অন্যান্যদের মতো সাইফুদ্দীন খালেদ ও মো. নোমান এরা আবেদন করেছেন। এখনো তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কোন পেপারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে আপনারা অফিসে এসে দেখতে পারেন।’
এমএসএম / এমএসএম
হাতিয়ায় অস্ত্র দিয়ে ছাত্র দল নেতাকে ফাঁসানোর প্রতিবাদে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আপিল ঘিরে বিতর্ক, ভাইরাল অডিওতে তোলপাড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪
বোয়ালমারীতে ইউনাইটেড আরব আমিরাতের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ
দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু গ্রেফতার
সরিষার হলুদে রঙিন ত্রিশাল : বাম্পার ফলনের আশা
গোপালগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি
নাঙ্গলকোটে দু'জনকে গুলি করে হত্যা
মনপুরায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে আসা তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে এলপিজি সংকটে দাম দ্বিগুণ, তবু মিলছে না গ্যাস
কালো ধোঁয়ার দখলে রায়গঞ্জ, ঝুটে পুড়ছে চাতাল
কুমিল্লার মুরাদনগরে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার
সিডিএ’র নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ
Link Copied