রায়গঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছাদ বাগানের মডেল স্কুল শিক্ষিকা মাহবুবা খাতুন
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছাদ বাগানের মডেল স্কুল শিক্ষিকা মাহবুবা খাতুন। শখের বসে ছাদ বাগান করলেও এখন বাগান থেকে পরিবারের ফল-সবজির চাহিদা মেটাচ্ছে। পাশাপাশি গাছের চারা বিক্রি করে বছরে আয় করছেন তিনি।
স্কুল জীবনে বিয়ে করা মাহমুবা খাতুন এইচএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি আর লেখাপড়া করে হয়েছে বিএসসি ও স্কুল শিক্ষিকা। সাংসারিক জীবনে অধিকাংশ সময়ই কেটেছে কর্মস্থল উপজেলার ভুইয়াগাতী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। বর্তমানে নিজ বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন বিশাল আকৃতির ছাদ বাগান। সিরাজগঞ্জ জেলার ভিতর সব থেকে ভালো মানের ছাদ বাগানের মালিক এ গৃহিনী ও শিক্ষক। সাংসারিক কাজের পাশাপাশি এ শখের বাগান থেকে প্রতিবছর ইনকামও করছেন।
‘শখ থেকেই মূলত সেই বাগান করা শুরু। সেখান থেকে নেশা। আর এখন একজন সফল ছাদ বাগানের মালিক। বাগান থেকে আয় করতে হবে, পুরস্কার পেতে হবে এ চিন্তা কখনওই মাথায় ছিল না তার। অথচ অল্প সময়ে মিলেছে বিভিন্ন পুরস্কার।’ এ বাগান মালিক মাহবুবাকে দেখে অনেকে গড়ে তুলেছেন ছোট বড় অনেক ছাদ বাগান। স্কুল শিক্ষক মাহবুবা ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার ছাদ বাগান মালিকদের মডেল হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছে।উপজেলার সর্ববৃহত চান্দাইকোনা বাজারের ভিতর মসজিদের পাশে দু তলা ভবন। এ বাড়িটি শিক্ষক মাহবুবার। দুতলায় স্বামী ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকেন পুরস্কার পাওয়া এ বাগান মালিক মাহবুবা খাতুম। এ বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন ছাদ বাগান।
সূত্র জানায়, নানা প্রতিকুলতা পেরিয়ে মাহবুবা পেয়েছিলেন উপজেলার শ্রেষ্ঠ জয়ীতা এ্যাওয়ার্ড,হয়েছেন উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকাও ।শিশুকাল থেকে মাকে দেখেছেন নানা ফল ও ফুলের গাছ লাগিয়েছেন বাড়িতে। এ পরিবেশে বড় হয়ে ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয় তার। গুটি কয়েক টবে করে গাছ নিয়ে এসেছিলেন। সেই টব দিয়ে তখন থেকে শুরু করেন ছাদে বাগান করা। অল্প অল্প করে গড়ে তুলেছেন বিশাল আকৃতির এ বাগান। বাগান সমৃদ্ধ করতে দেশের নামকরা নার্সারিগুলোতে গিয়েছেন এই স্কুল শিক্ষিকা। গিয়েছেন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ছাদবাগান দেখতে। সেখান থেকে ট্রেনে করে, বাসে করে অনেক কষ্টে জোগাড় করা ওই ছাদবাগানের চারাগুলো। বর্তমানে ছাদবাগান সংক্রান্ত একটি ফেসবুক গ্রুপ চালান মাহবুবা। যুক্ত আছেন এ সংক্রান্ত অর্ধ শতাধিক ফেসবুক গ্রুপে। এর মাধ্যমে চারা সংগ্রহ করেন, পরিচর্যা শেখেন, অন্যদের পরামর্শ দেন। বিভিন্ন জেলায় চারা বাজারজাতকরণও তাঁর ফেসবুকের মাধ্যমেই। ফেসবুকে তাঁর শুধু গাছের সঙ্গে মিতালী। ধ্যান-জ্ঞানে সর্বক্ষণ তাঁর গাছ আর গাছ। সমৃদ্ধ ওই ছাদ বাগান থেকে তিনি চারা বিক্রি করেন। তাঁর এখান থেকে কিনে নেওয়া চারা থেকে অনেকেই গড়ে তুলেছেন ছাদবাগান। নিজে গিয়ে পরামর্শ দেন ছাদবাগান পরিচর্যার। এভাবে তাঁর অনুপ্রেরণায় অনেক বাড়িতে বাগান গড়ে উঠেছে।
সরেজমিনে স্কুল শিক্ষিকার ছাদ বাগানে যেয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের গাছগুলো প্রজাতি অনুযায়ী সারি সারি সাজানো। লোহার পাত দিয়ে র্যাক তৈরি করে, তার ওপর রাখা অধিকাংশ টব। সরাসরি ছাদের ওপরও রাখা আছে অনেক টব। উত্তর ও দক্ষিণ পাশে পাকা করে করা হয়েছে হাউজ। সেখানে মাটি দিয়ে লাগানো হয়েছে গাছ।প্রতিটি সারির মাঝে আছে গলিপথ। গলিপথ ও গাছগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। নেই কোনো ময়লা-আবর্জনা। এমনভাবে গাছগুলো সাজানো, সব গাছে পড়ছে রোদ। প্রতিটি গাছের পাশে যাচ্ছে দাঁড়ানো। সবুজের সমারোহ আলতো বাতাসে দোলা খাচ্ছে, সে এক অন্যরকম নয়নাভিরাম দৃশ্য। দেশের নানা জায়গা থেকে জোগাড় করেছেন দেশীয় বিলুপ্ত প্রজাতির শ্বেত চন্দন ,রক্ত চন্দন ডেওয়া কদবেল, গাব ,সাদা লজ্জাবতী, চাপালিশ গোলাপজাম সোনালু,পারুল সহ বনজ ও ফলদ গাছ লাগিয়েছি।
এই ছাদ বাগান দেখতে প্রতিদিন শিক্ষর্থী ও সাধারন মানুষ ভিড় করছে।ছাদ বাগানের মালিক শিক্ষিকা মাহবুবা বলেন, শুরুতে যখন সংসার খরচের টাকা থেকে বাচাতাম। পাঁচ কেজি মাংসের জায়গায় দুই কেজি কিনেছি। ন্যূনতম দামের প্রয়োজনীয় কাপড় ছাড়া কাপড় কিনিনি। এভাবে সংসার খরচ থেকে বাচিয়ে গড়ে তোলা শখের এ বাগান। গত তিন বছর হলো চারা তৈরি করে বিক্রি করছি। এতে খরচ ওঠে, সংসার চলে। এছাড়া সংসারের প্রয়োজনীয় সবজি ও ফল তেমনটি কেনা লাগে না, বাগান থেকে উৎপাদন হয়। প্রতিবেশি ও আত্মীয়-স্বজনদের সবজি ও ফল দেই।
অন্যদের পরামর্শ দিতে গিয়ে তিনি বলছিলেন, বাগান করতে প্রথম লাগবে ধের্য্য। আর সন্তানের মতো ভালোবাসা। আমার একটি ছেলে যেমন প্রিয়, গাছগুলোও ঠিক তেমনি প্রিয়। গাছ কিন্তু বোঝে তাদের প্রতি আন্তরিকতা। কয়েকদিন গাছের কাছে না গেলে কেমন যেন মলিন চেহারা হয়। পাশে দাঁড়িয়ে একটু পাতা নাড়াচাড়া করলে বা টবের ঘাস পরিষ্কার করলে আবার সতেজ হয়ে ওঠে।নিজের একক আন্তরিকতায়ই গড়ে উঠেছে ।
এ সমৃদ্ধ ছাদবাগান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২ ঘণ্টা ব্যয় করি ছাদে। প্রতিদিনই পানি দিতে হয়। ঘাস পরিষ্কার করতে হয়,পোকা লাগলো কি না তা দেখা। কোনটার কি খাবার লাগবে, কখন লাগবে। এগুলো বুঝে চলতে হবে। তাহলেই আসবে সাফল্য।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, আমাদের উপ সহকারী কৃষি অফিসার নিয়মিত ছাদ বাগান পরিদর্শন করেন এবং কোনো সমস্যা হলে পরামর্শ দেন।
এমএসএম / এমএসএম
বোরো আবাদে স্বপ্ন বুনছেন বারহাট্টার কৃষকরা
তারাগঞ্জে রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
রামুতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিপুল অস্ত্রসহ ২ ডাকাত গ্রেফতার
সাভারে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৬ দফা দাবীতে শ্রমিক নেতাদের সংবাদ সম্মেলন
আত্রাইয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
শিবচরে প্রস্তুত হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থপনা ইউনিট, তৈরি হবে জৈব সার
কুমিল্লায় তারেক রহমান আগমন উপলক্ষে সমাবেশ মাঠ পরিদর্শন
রাজস্থলীতে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিরোধ সচেতনতামূলক সভা
চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের মাঝে প্রতিক বরাদ্দ
রাজশাহী-১ আসনে লড়াই হবে বিএনপি জামায়াতের
টাঙ্গাইলে ৮ আসনে এমপি প্রার্থী ৪৬ জন
শান্তিগঞ্জে ইরা’র উদ্যোগে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক প্রকল্প অবহিত করণ কর্মশালা
এনডাব্লিউইউতে কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
Link Copied