বিদ্রোহী বঙ্গবন্ধুসহ স্মৃতিতে বরেণ্য বাঙ্গালী
লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আরো পেয়েছি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সেইসব শহীদের রক্তে মাখা লাল পোশাকের স্মৃতিচিহ্ন। আর বাংলা মায়ের সবুজ প্রকৃতির আভায় গড়া আমাদের জাতীয় পতাকা হচ্ছে বিজয় নিশাণ। আমরা বাঙ্গালী এই গর্বটুকু করতে পারি শুধুমাত্র জাতির জনকের দেশপ্রেমের কারনে। আমরা বাংলাদেশী তাও বলতে পারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারনেই। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পেরিয়ে গেল। অর্ধশত বছরের এই রেকর্ড এখন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।
একমাত্র বঙ্গবন্ধুই তাঁর দেশপ্রেম জাগাতে এবং পাকিদের বিরুদ্ধে বাঙ্গালীদের জাগ্রত করতে কারাগার থেকেও হুঙ্কার দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বাংলার দামাল ছেলেসহ সকলকেই যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে আহবান জানান বঙ্গবন্ধু। আর এই আহবানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে স্বাধীন করেছেন।
পথচারী আর যাত্রীদের নজর কাড়তে নগরীর জামালখান মোড় থেকে শুরু করে কাটা পাহাড় সড়ক ঘিরে থাকা রিটেইনিং দেয়ালেই যেন এখন এক মাইলফলক। চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানে “বরেণ্য বাঙ্গালী” স্মরণে সড়কের দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ কবি-সাহিত্যিক আর বিদ্রোহীদের প্রতিকৃতি। বাঙ্গালী চেতনায় উদ্ভূদ্ধ করতে ২০১৮ সালে সিটি মেয়র আ.জ.ম নাসির উদ্দিনের নির্দেশনায় তৃতীয় প্রজন্মকে বিকশিত করতে ব্যতিক্রমী এই কর্মকান্ডের সূচনা হয়েছে।
তৃতীয় প্রজন্মের জন্য গড়ে তোলা এই মাইলফলকের শুরুতেই স্মরণ করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে। স্মরণ করা হয়েছে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ ভাষা সৈনিক, কবি সাহিত্যিক যারা আমাদের স্বধীনতার সূর্য টিকিয়ে রাখতে গান কবিতা আর ইতিহাস লিখে বাঙ্গালী জাতিকে সমৃদ্ধ করে দিয়ে গেছেন তাদের স্মরণেই এই আয়োজন। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়েছে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষেরা। সেখানে বিশিষ্টজনদের উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে বাঙ্গালীর দেশপ্রেম।
বাংলাদেশের স্রষ্টা তথা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই উক্তি যেখানে তিনি প্রকাশ করেছেন নিজের স্বাধীনতা অর্জনের মূলমন্ত্র। বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতির উদ্দেশ্যে বলেছেন-“এই স্বাধীনতা তখনই আমার কাছে প্রকৃত স্বাধীনতা হয়ে উঠবে যেদিন বাংলার কৃষক, মজুর ও দুঃখী মানুষের দঃখের অবসান হবে”।
বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সকলের উদ্দেশ্যে বলেছেন-“মনুষ্যত্ব্যের শিক্ষাটাই চরম শিক্ষা আর সমস্তই তার অধীন”। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন-“ বল বীর-বল উন্নত মম শির! শির নেহারী আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রীর”। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন-“ যে দেশে গুণের সমাদর নেই সে দেশে গুণী জন্মাতে পারে না”। এই বাংলাকে নিয়ে কবি জীবনানন্দ দাশ বলেছেন- “বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রুপ খুঁজিতে যাই না আর”। মাইকেল মধুসুধন দত্ত বলেছেন- জম্মিলে মরিতে হবে অমর কে কোথা কবে? চিরস্থির কবে নীর হায়রে জীবন নদে?”। ফকির লালন শাহ বলেছেন- “ খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায় তারে ধরতে পারলে মন বেড়ি দিতাম পাখির পা’য়”।
মাস্টারদা সূর্যসেন বলেছেন- “বিপ্লবের ঢেউ যা সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামের সীমাবদ্ধ পরিসরে তা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বাইরে আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়বে”। দেশের প্রতি প্রেম বোঝাতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে আত্মাহুতি দানকারী বীর বাঙ্গালী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বলেছেন- “ আমার পরিবারের জন্য আমার গভীর টান রয়েছে। কিন্তু যখন দেশের ডাক আসে তবে সেটাই আমার কাছে প্রাধান্য পাবে”। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেছেন-“ কোন কিছু গড়তে গেলে অবশ্যই ভাঙ্গতে হয়। স্বাধীনতা দীর্ঘ মেয়াদী সমঝোতার মধ্য দিয়ে অর্জিত হতে পারে না”।
শেরে বাংলা এ.কে.ফজলুল হক বলেছেন-“ জাতির স্বার্থই হবে ব্যক্তির স্বার্থ, জাতির কল্যাণই হবে ব্যক্তির কল্যাণ”। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বলেছেন- “ একজন নির্লোভ রাজনৈতিক ব্যক্তি তিনি, যিনি ভিক্ষুক বেশে রাজকীয় মৃত্যু বরণ করেন”। ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যা সাগর বলেছেন-“ কোন বিষয়ে প্রস্তাব করা সহজ, কিন্তু নির্বাহ করে ওঠা কঠিন”। অতীশ দীপঙ্করের মতে- “ আমার শারীরিক এবং মৌখিক কর্মকান্ডের সামগ্রিক পরিশুদ্ধতা দিয়ে আমি আমার অন্তরের কর্মকান্ড গুলো বিশুদ্ধ করবো”।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন বলেছেন-“ আপন শিল্প সৃষ্টির চেয়ে, আমাকে বেশী আনন্দ দেয় যখন দেখি সমাজে শিল্পের পরিচর্যা হচ্ছে”। পল্লীকবি জসীম উদ্দীন বলেছেন- “ তুমি যাবে ভাই- যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়, গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়”। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন বলেছেন-“ আমরা সমাজের অর্ধাঙ্গ আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কিরুপে”।
সুফিয়া কামাল বলেছেন-“ জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে মরি যেন এই দেশে”। কবি শামসুর রাহমান বলেছেন-“ আমি ধর্মের বিরুদ্ধে নই কিন্তু ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে”। আলহাজ্ব মোহাম্মদ আব্দুল খালেক বলেছেন-অধিকাংশের ভাষাকেই রাষ্ট্রীয় ভাষারুপে গ্রহন করা উচিত। তাহলে বঙ্গ ভাষাই হইবে রাষ্ট্রীয় ভাষা”।
এমএসএম / এমএসএম
হাতিয়ায় অস্ত্র দিয়ে ছাত্র দল নেতাকে ফাঁসানোর প্রতিবাদে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আপিল ঘিরে বিতর্ক, ভাইরাল অডিওতে তোলপাড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪
বোয়ালমারীতে ইউনাইটেড আরব আমিরাতের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ
দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু গ্রেফতার
সরিষার হলুদে রঙিন ত্রিশাল : বাম্পার ফলনের আশা
গোপালগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি
নাঙ্গলকোটে দু'জনকে গুলি করে হত্যা
মনপুরায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে আসা তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে এলপিজি সংকটে দাম দ্বিগুণ, তবু মিলছে না গ্যাস
কালো ধোঁয়ার দখলে রায়গঞ্জ, ঝুটে পুড়ছে চাতাল
কুমিল্লার মুরাদনগরে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার