রায়গঞ্জে পোকা দমনে সারা ফেলেছে আলোক ফাঁদ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় আমন ধান খেতে কীটনাশকের ব্যবহার কম করে আলোর ফাঁদ পেতে ক্ষতিকর পোকা দমন করা হচ্ছে। খেত সুরক্ষায় আলোর ফাঁদের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। এতে ক্ষতিকর পোকা দমনের পাশাপাশি উপকারী পোকা শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুবিধা হয়। ইতোমধ্যে রায়গঞ্জে এ পদ্ধতি কৃষকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে উপজেলার ১৯ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। বাড়ন্ত বোরো ক্ষেত ইতিমধ্যেই পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেতে কৃষকরা কিটনাশক স্প্রে করছেন। তবে আলোক ফাঁদ ধানের পোকা দমনে একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। কিটনাশক প্রয়োগের চেয়েও অধিক কার্যকারী।
আলোক ফাঁদ তৈরিতে হারিকেন, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও সৌরবিদ্যুতের সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ধানখেত থেকে ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূরে ফাঁকা জায়গায় বাঁশের খুঁটির সাহায্যে মাটি থেকে ২-৩ ফুট ওপরে একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে এর নিচে একটি পাত্রে ডিটারজেন্ট পাউডার অথবা কেরোসিন মিশ্রিত পানি রাখা হয়। সন্ধ্যার পর এই আলোক ফাঁদের আলোয় আকৃষ্ট হয়ে ধানখেতের বিভিন্ন পোকামাকড় এসে পাত্রের পানিতে পড়ে।এভাবে আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে ধানসহ ফসলের ক্ষতিকর ও উপকারী পোকার উপস্থিতি নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অতি অল্প খরচে তৈরি এ আলোক ফাঁদ অন্ধকার রাতে দেখতেও বেশ দৃষ্টিনন্দন।
স্থানীয় পরিবেশবিদরা জানান, কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, পশুপাখি ও মানুষের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। কীটনাশক প্রয়োগে ফসলের শত্রু পোকার পাশাপাশি মিত্র পোকাও ধ্বংস হয়। এতে ফসলি জমির পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে দিনদিন। যা ভবিষ্যতে কৃষিক্ষেত্রের জন্য একটি বড় রকম বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।তাছাড়া উপকারী পোকার সংখ্যা বেশি আর অপকারী পোকার সংখ্যা খুবই কম। কীটনাশক ব্যবহারে উপকারী পোকা মারা যাচ্ছে এতে করে পরাগায়ণ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করেন তারা।
কৃষকেরাও পরিবেশবান্ধব আলোক ফাঁদ ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এতে জমিতে অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহারের মাত্রা কমছে। ফলে একদিকে কৃষকের সাশ্রয় হচ্ছে উৎপাদন খরচ। অপরদিকে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা পাচ্ছে।
উপজেলার নলকা ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম ও গাজিউর রহমান জানান, অধিক খরচে কিটনাশক প্রয়োগ করেও পোকা কমছেনা। ধান খেতে আলোক ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে উপকারী ও ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি চিহ্নিত করে ক্ষতিকর পোকা দমন করা সহজ হয়েছে।
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষিকোলা গ্রামের কৃষক শামীম আহমেদ বলেন, এ পদ্ধতিতে আমরা আগের চেয়ে কম খরচে ক্ষতিকর পোকা দমন করে ফসল রক্ষা করতে পারছি। আবার উপকারী পোকাও বাঁচাতে পারছি। এতে করে আমাদের উৎপাদন খরচ কমছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, ব্লাস্ট ও কারেন্ট পোকা প্রতিরোধে কৃষকদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। হাটে-বাজারে ভিডিও প্রদর্শন, উঠান বৈঠক, দলীয় আলোচনা সভার মাধ্যমে আলোক ফাঁদের উপকারিতা সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করা হচ্ছে। আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি একটি পরিবেশবান্ধব ও অর্থ সাশ্রয়ী পদ্ধতি। এতে চাষিরা নিজেরাই ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এমএসএম / এমএসএম
কাশিয়ানীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৭
নান্দনিক রূপে নজর কাড়ছে ভিক্টোরিয়া কলেজের ‘স্বাধীনতা সৌধ’
জাতীয় হকি তারকা মিন্টু ও শামীম স্মরণে শোক র্যালি
রামপালে ইতু হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই সহোদরসহ গ্রেপ্তার ৩, রিমান্ড আবেদন
দেবীগঞ্জে হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠনকে ২২শ তালবীজ ও ফুলের চারা উপহার
টঙ্গীতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে বিএনপি-যুবদলের পৃথক বিক্ষোভ মিছিল
নেছারাবাদে নতুন ইউএনও আশিক আহমেদের সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রথম মতবিনিময়
রাজশাহী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেন আব্দুস সবুর
কুড়িগ্রামে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রতন পোদ্দার গ্রেপ্তার
"রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা)" পাচ্ছেন ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশের এএসআই ইকলাচুর রহমান
অভয়নগরে বিজ্ঞান মেলা ও পুরস্কার বিতরণ
শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগে অনিয়ম, পণ্য খালাসে জটিলতার আশঙ্কা
পাবনায় মানবকল্যাণ ট্রাষ্টের মতবিনিময় সভায় প্রধান মন্ত্রীর একনজর দেখতে আশার প্রত্যাশা ট্রাস্ট প্রধানের
Link Copied