রেলে দায়িত্ব এড়াতে কর্তৃব্যে অনীহা
রেলের একমাত্র প্রিন্টিং বিভাগের দায়িত্ব এড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক/জেনারেল(জি)আসিফ উল ইসলাম । অনিয়মতান্ত্রিক ও অর্গানোগ্রাম বর্হিভূতভাবে জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক(জি) তাঁর দায়িত্ব তুলে দিচ্ছেন জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক(পাহাড়তলী) এর কাঁধে। আবার অদৃশ্য কারণে কেন যেন জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক(পাহাড়তলী) এই দায়িত্ব লুফে নিতে চাচ্ছেন। এমন অভিযোগ উঠেছে খোদ ডিপো এবং প্রিন্টিং প্রেসে কর্মরত থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে পাহাড়তলীস্থ রেলের একমাত্র টিকেট প্রিন্টিং প্রেসে। গত সপ্তাহে ট্রেড ইউনিয়ন তথা রেল শ্রমিকলীগ ও বিক্ষুব্দ শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দফতরে শোডাউন করেছেন ।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, রেলের একমাত্র প্রিন্টিং প্রেসে থাকা সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দফতরসহ সংশ্লিষ্ট ডিপোর ‘কে’, ‘এল’ এবং ‘এম’ ওয়ার্ডকে জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক/পাহাড়তলী এর আওতায় নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত অব্যাহত আছে। গত বছরের মে মাস থেকে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক/জি এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে চিঠি চালাচালি করছেন। এমনকি এ কর্মকর্তা নিজ দায়িত্ব এড়াতে অন্যরা কোন ধরনের ষড়যন্ত্র করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৬ মে এ বিষয়ে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। ওই চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল রেলের একমাত্র প্রিন্টিং প্রেস পরিচালার জনবল কাঠামো। সংযুক্তি হিসেবে এতে স্বাক্ষর করেছেন, তৎকালীন প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রুহুল কাদের আজাদ, অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক(ক্রয়) প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সার্বিক)আসিফ উল ইসলাম।
প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ বলেছেন, সুনির্দিষ্টভাবে অতিরিক্ত কাজ(ওভারটাইম) করা কর্মচারীরা ছাড়াও অন্যান্যরা ওভারটাইম ভাতা নিতে চান। অতিরিক্ত কাজ না করে সকল কর্মচারীরা ওভার টাইমের ভাতা নেওয়ার অপচেষ্টা করায় সরকারের জন্য ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এমন ঝামেলা এড়াতে ডিসিওএস/জি এর কার্যক্রমকে ডিসিওএস/পাহাড়তলীর আওতায় নেওয়ার পক্রিয়া চলছে।
এ ব্যাপারে ডিরেক্টর অব ইনভেন্ট্রী কন্ট্রোল প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ডিসিওএস/জি এর আওতায় থাকা কার্যক্রম ডিসিওএস/পাহাড়তলী নিতে চায়। কেউ যদি স্ব-প্রনোদিত হয়ে আরেক দফতর বা কর্মকর্তার দায়িত্ব নিতে চান তাহলে তো কিছু করার নেই। এতগুলো দায়িত্ব ডিসিওএস/পাহাড়তলী পালন করতে পারবেন কিনা এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তখন দেখা যাবে।
অভিযোগ উঠেছে, ‘কে’ ‘এল’ এবং ‘এম’ ওয়ার্ডের প্রিন্টিং মালামাল ও যন্ত্রাংশ মুষ্টিমেয় কিছু সরবরাহকারী কুক্ষিগত করে রেখেছে। এদিকে, ইজিপি বা ওপেন টেন্ডার বাদ দিয়ে শুধুমাত্র এলটিএম বা লিমিটেড টেন্ডার কার্যক্রম অব্যহত রেখেছিলেন এই ডিসিওএস/জি । সুনির্দিষ্ট কিছু সরবরাহকারী ব্যতিত অন্য কোন সরবরাহকারীকে পণ্যের ফরমায়েশ নিতে দেওয়া হয় না এমন অভিযোগ সরবরাহকারীদের। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার বাকবিতন্ডার ঘটনাও ঘটেছে। অপরদিকে অন্যান্য সরবরাহকারীদের চাপের কারণে ডিসিওএস/জি এই দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, ১৯৯২ সাল থেকে রেলের একমাত্র প্রিন্টিং প্রেস ডিসিওএস/জি এর নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তাছাড়া সরকারী নির্দেশনা(জিও) ও সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রিন্টিং প্রেস বিভাগটি ডিসিওএস/জি রক্ষণাবেক্ষন করার কথা। তবে অর্গানোগ্রাম পরিবর্তন ছাড়া চিঠি চালাচালি করে দায়িত্ব এড়ানোর কোন সুযোগ নেই।
প্রিন্টিং বিভাগের আওতায় থাকা কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন, ২০২২ সালের মে মাস থেকেই ডিসিওএস/জি কোন অদৃশ্য শক্তির চাপের মুখে পড়ে এ দায়িত্ব এড়াতে চাচ্ছেন। কর্মচারীরা দাবি করছেন ডিসিওএস/জি যদি এ গুরু দায়িত্বটি পালন করতে না পারেন তাহলে তিনি একটি ডিপার্টমেন্টের ক্ষতি না করে অন্যত্র সরে গেলেই পারেন। তাই বলে একটি ডিপার্টমেন্টের সরকারী কাঠামো পরিবর্তন করতে পারেন না। আর তা কতটুকুই বা যৌক্তিক। আবার অতিউৎসাহী হয়ে ডিসিওএস/পাহাড়তলী এ বিভাগকে অসৎ উদ্দেশ্যে সরকারী নির্দেশনা বা সাংগঠনিক কাঠামো অমান্য করে কুক্ষিগত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ। এছাড়া ডিসিওএস /জি ও ডিসিওএস/ পাহাড়তলী এর এমন কর্মকান্ডে ফুঁসে উঠছে কর্মচারীরা। যে কোন সময় ট্রেড ইউনিয়নের নেতা কর্মীরা কর্মঘন্টা বিরতি, প্রতিবাদ সমাবেশ বা অনশনের মাধ্যমে রেলের একমাত্র টিকেট প্রিন্টিং প্রেসের উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে।
অপরদিকে, প্রিন্টিং প্রেসের হেড ডেসপাসার তরিকুল ইসলাম তারেক ও ‘এম’ ওয়ার্ডের অফিস সহকারী ফোরকান এ বিষয়ে ইন্ধন দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ধরে অফিস সহকারী ফোরকান ও তরিকুল ইসলাম প্রকাশ তারেক হেড ডেসপাসার হিসেবে একই বিভাগে কর্মরত থাকায় সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগসাজস করে প্রিন্টিং প্রেসের বিভিন্ন আইটেম, মেশিন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষনের নামে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। হাতেগোনা সরবরাহকারীকে সুবিধা পাইয়ে দিতে এ ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছেন তাঁরা। একই স্থানে দীর্ঘদিন থাকার কারণে এ ধরনের কর্মকান্ড ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েক প্রেস কর্মচারী। এমনকি প্রেস কর্মচারীদের সঙ্গে তিনিও ওভারটাইম বিল আদায়ের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। উল্ল্যেখ, রেলের ২ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তারেকের ভাগিনাও জড়িত রয়েছে। প্রায় বছর দুয়েক আগে অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা/ চট্টগ্রাম এর আওতায় থাকা জুনিয়র অডিটর ফয়সাল মাহমুদ আইবাস++ (ইন্টিগ্রেটেড বাজেটেড একাউন্টিং সিস্টেম) থেকে পরিকল্পিত ভাবে অবসর প্রাপ্ত পেনশানের ২ কোটি টাকা টাকা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এ ঘটনায় রেলের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর কারাবন্দী রয়েছেন ফয়সল।
এমএসএম / এমএসএম
হাতিয়ায় অস্ত্র দিয়ে ছাত্র দল নেতাকে ফাঁসানোর প্রতিবাদে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আপিল ঘিরে বিতর্ক, ভাইরাল অডিওতে তোলপাড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪
বোয়ালমারীতে ইউনাইটেড আরব আমিরাতের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ
দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু গ্রেফতার
সরিষার হলুদে রঙিন ত্রিশাল : বাম্পার ফলনের আশা
গোপালগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি
নাঙ্গলকোটে দু'জনকে গুলি করে হত্যা
মনপুরায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে আসা তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে এলপিজি সংকটে দাম দ্বিগুণ, তবু মিলছে না গ্যাস
কালো ধোঁয়ার দখলে রায়গঞ্জ, ঝুটে পুড়ছে চাতাল
কুমিল্লার মুরাদনগরে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার