ভোলায় তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙনে ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন
চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু হতে তেতুঁলিয়া নদী উত্তাল হওয়ায় তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে বসতি ঘর-বাড়ি। এতে বহু ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বহু স্থাপনা। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সীমান্তবর্তী তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে কুতুবা ও গংগাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে চলে গেছে এবং কিছু গ্রাম বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। ওই দুই ইউনিয়নের মানুষের দিন কাটছে আতংকের মধ্যে। কখন যেন তাদেরও ভিটেমাটিসহ ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, এ চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। ভেঙে যাচ্ছে পাকা রাস্তাও।
গংগাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আওলাদ হোসেন জানান, আমাদের আশপাশে সব ঘর-বাড়ি তেঁতুলিয়া নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমার পাশের বাড়ির মোকলেছুর রহমান নামে এক ব্যক্তির ঘর কয়েক দিন আগে নদীতে ভেঙে যায়। সে এখন অন্যত্র চলে গেছে। এ বর্ষা মৌসুমে অব্যাহত ভাঙনে আমাদের পুকুর নদীগর্ভে চলে গেছে। আর কিছুদিন এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে ঘর-বাড়ি নদীতে চলে যাবে। আমরা এখন কোথায় যাব? পরিবার-পরিজন নিয়ে খুবই দুঃচিন্তায় আছি। ঘর ভেঙে যাওয়ার ভয়ে আমার ছোট বাচ্চাসহ বউকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। দ্রুত তেঁতুলিয়া নদীতে স্থায়ী ব্লক না দিলে এ এলাকাগুলো নদীতে তলিয়ে যাবে।
ছোট মানিকা ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. হামিম, সুমাইয়া, মারজিয়া জানান, আমাদের এলাকার অধিকাংশ তেঁতুলিয়ী নদীর গর্ভে চলে গেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে আসতে ভয় লাগে। কখন জানি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
ছোট মানিকা ফাজিল মাদ্রাসাসংলগ্ন ওই নদীর পাড়ে ৬ একর ৪০ শতাংশ জমির পুকুর লিজ নিয়ে মাছের ঘের করে মাছ চাষ করছেন ৪ বন্ধু মিলে। তারা প্রায় ১৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ওই ঘেরে মাছ চাষ শুরু করেছেন। তারাও খুবই দুঃচিন্তায় রয়েছেন। যে কোনো সময় তাদের ওই মাছের ঘের তেঁতুলিয়া নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
ছোট মানিকা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. সাইফুল উল্লাহ জানান, তেঁতুলিয়া নদী হতে আমাদের প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব ১০০ হতে ১৫০ মিটার। এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নিয়ে খুবই চিন্তায় রয়েছি আমরা। তিনি তেঁতুলিয়া নদীতে স্থায়ী ব্লক নির্মাণ করে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বহু স্থাপনা রক্ষার দাবি জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
গংগাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রিয়াজ জানান, তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙনে ধানীভাঙ্গা ও ধারিয়া গ্রামের অধিকাংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন ১, ২, ৩নং ওয়ার্ডের কিছু অংশ রয়েছে। ওই এলাকাগুলোও খুবই হুমকি মুখে রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী ব্লক দিয়ে এ এলাকার লোকজনের ঘর-বাড়ি রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।
কুতুবা ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জোবায়েদ মিয়া জানান, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে ২, ৩ ও ৫নং ওয়ার্ডসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকি মুখে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল হওয়ায় বেড়িবাঁধের বাইরের অনেক ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তিনি আরো জানান, দ্রুত স্থায়ী ব্লক না দিলে এসব ওয়ার্ড নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান জানান, ভোলার চারদিকেই নদী। নদীবেষ্টিত এলাকার মধ্যে মেঘনাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে মেঘনা নদীর পাশাপাশি তেঁতুলিয়া নদীর ওই সকল এলাকাও নজরে আনা হচ্ছে। ধাপে ধাপে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী ব্লক নির্মাণ করা হবে।
এমএসএম / জামান
শিক্ষক নিয়োগে ভয়ংকর জালিয়াতি
কুড়িগ্রামে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন
জনবল ও অবকাঠামো সংকটে নরসিংদী সদর উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার
সেনাবাহিনীর কর্তৃক রাজস্থলীতে হেডম্যান-কারবারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত
শীর্ষ মাদক কারবারি আফরিনার বাড়িতে অভিযান: ফেনসিডিল, ইয়াবা, নগদ টাকা ও ৪৬ মোবাইল উদ্ধার
ঘোড়াঘাটে বজ্রপাতে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু
মনপুরায় লবণাক্ততা-জলাবদ্ধতায় আমন চাষে শঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চান কৃষকরা
পেকুয়ায় বৃদ্ধ আবু তাহের হত্যায় তিনজনকে আসামি করে মামলা
বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান কাদা, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
আত্রাইয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
কচুয়ায় বসতঘরের সিদ কেটে চুরি, বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধা খুন
আদমদীঘিতে মাদক কারবারির জেল-জরিমানা