ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬

চট্টগ্রামে শিক্ষা প্রকৌশলে অনিয়ম: সরকারের ৭ কোটি টাকা গচ্ছা


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ১৭-১২-২০২৩ দুপুর ১১:৫৩

চট্টগ্রামে শিক্ষা প্রকৌশলে ব্যাপক অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। অনিয়ম ও অফিসার-ঠিকাদার সিন্ডিকেটের কারনে সরকারের মোটা অংকের টাকা গচ্ছা যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এটি নিছক অবহেলা নাকি দুর্নীতি তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদাররা।
জানা যায়, নকশায় ত্রæটির কারণে পাঁচ বছর আগে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করেছিল চট্টগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু সেই পুরোনো নকাশাতেই আবারও সাড়ে ৪৬ কোটি টাকার দরপত্র আহŸান করেছে সংস্থাটি। তবে নকশা অপরিবর্তিত রাখলেও কাজের দর ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ঠিকই বাড়ানো হয়েছে। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নকশায় এবারের ভুল ইচ্ছাকৃত। প্রকল্পের সম্পন্ন হওয়া কাজ গোপন রেখে মূলত অর্থ লোপাটের পরিকল্পনা হিসেবেই অপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 
চট্টগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, পাঁচ বছর আগে চট্টগ্রামে ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ভবন নির্মাণের দরপত্র আহŸান করা হয়। ঠিকাদারদের কার্যাদেশও দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ করতে গিয়েই দেখা দেয় বিপত্তি। ‘মাটি খারাপ’ তাই কাজ করা যাবে না। অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা গিয়ে দেখেন, মাটি নরম হওয়ার কারণে সেখানে কাজ করতে গেলে পাইলিং করতে হবে। আবার কোনো কোনো প্রকল্পে দেখা গেছে, যত বড় ভবন নির্মাণের জন্য প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেখানে তত বড় জায়গা বাস্তবে নেই। 
এসব কারণে প্রকল্পগুলোর কাজ আর শুরু করা যায়নি। নির্ধারিত সময়ে অধিদপ্তর থেকে সংশোধিত নকশা সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ার কারণে পরে কোনো কোনো ঠিকাদার কাজ থেকে অব্যাহতি নিয়ে জামানতের টাকা তুলে নেন। কারও জামানতের টাকা এখনো রয়ে গেছে। এরই মধ্যে গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের ১৯টি প্রকল্পের দরপত্র আহŸান করেন অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার সরকার। যার মধ্যে ১০টিই পুরোনো প্রকল্প। পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব প্রকল্পের জন্য পুনঃদরপত্রের কথা উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু ডিজাইন রয়ে গেছে সেই ২০১৯ সালের। 
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক ঠিকাদারের সঙ্গে আলাপে জানান, এই দরপত্রে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। যেসব ত্রæটির কারণে প্রকল্পগুলো বাতিল করা হয়েছিল, তা সারাতে গেলে নকশায় পরিবর্তন আনা আবশ্যক। ভবনের ফাউন্ডেশনে পাইলিং করলে একধরনের ডিজাইন হয়, না করলে হয় অন্যধরনের। সবচেয়ে বড় কথা হলো, কোনো জমিতে প্রকল্প নেওয়ার আগে জমিটি পরিমাপ করতে হবে। একজন নির্বাহী প্রকৌশলী এসব বিষয় বেশ ভালোভাবেই জানেন। তিনি এও জানেন, এর আগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে এ ধরনের ইচ্ছাকৃত ত্রæটির অভিযোগে। তবু কেন এসব ত্রæটি রেখেই দরপত্র আহŸান করা হয়েছে, তা রহস্যজনক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যম হালিশহর বেগমজান উচ্চবিদ্যালয়ে ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের জন্য দরপত্র আহŸান করা হয়, যার প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। পাঁচ বছর আগে এই কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। অথচ এই প্রকল্পের পাইলিংয়ের কাজ করা হয়েছে আলাদা দরপত্র দিয়ে। সেখানে সরকারের অর্থ ব্যয় হয়েছে। গত জুন মাসে ঠিকাদারকে বিলও প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু পাইলিংয়ের তথ্যটি গোপন রেখে প্রধান কার্যালয়ে ভুল তথ্য দিয়ে কমবাইন্ড ফুটিংয়ের প্রাক্কলন (যা পাইলিংয়ের কাজের প্রাক্কলনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়) দিয়ে দরপত্র আহŸান করা হয়েছে। 
একাধিক ঠিকাদারের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, মূলত এখানে শিডিউলে যেসব আইটেমের কাজ হবে না অথবা পরিমাণে কম হবে, সেসব আইটেমের দর কম দিয়ে অন্য যেসব আইটেমের কাজ হবে সেখানে দর বেশি দেওয়ার মাধ্যমে টাকা লোপাটের সুযোগ রাখা হয়েছে। তারা উদাহরণ দিয়ে বলেন, পাইলিং করা ফাউন্ডেশনে স্যান্ড ফিলিং করতে হয় না। মাটি কাটা, মাটি ভরাট, সিসি ঢালাই, ফাউন্ডেশনের আরসিসি ঢালাই, সাটারিং, রড ইত্যাদি কম লাগে। কিন্তু ডিজাইন সংশোধন না করে সেই পুরোনো ডিজাইন অনুযায়ী এই দরপত্রের এসব খাতেও অর্থ বরাদ্দ রেখে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। 
একইভাবে দরপত্র আহŸান করা হয়েছে হাটহাজারী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের জন্যও। যাতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের পূর্বের প্রাক্কলন ছিল প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকা। অথচ এই প্রকল্পেও পাইলিংয়ের কাজ আলাদা দরপত্রের মাধ্যমে আগে হয়ে গেছে। কিন্তু বিষয়টি গোপন রেখে এখানেও কম্বাইন্ড ফুটিংয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। 
একই কায়দায় দরপত্র আহŸান করা হয়েছে পূর্ব বাকলিয়া সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের। এই প্রকল্পে ব্যয় প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া হাটহাজারী মীর নওয়াবুল হক মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার প্রকল্প, প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার আলহাজ এম এ সালাম উচ্চবিদ্যালয়ের ছয়তলা একাডেমিক ভবন প্রকল্প, প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকার রাঙ্গুনিয়া দক্ষিণ শিলক তৈয়বিয়া নূরীয়া সাত্তারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প, প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার মিরসরাই উপজেলার বারৈয়াখালী মাওলানা লকিয়ত উল্লাহ্ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প এবং প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার বাঁশখালীর কদমরসুল হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প। এসব প্রকল্পে আলাদা দরপত্রের মাধ্যমে প্রি-কাস্ট পাইলিংয়ের কাজ করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন রেখে প্রাক্কলন করা হয়েছে ‘কম্বাইন্ড ফুটিং’ অনুসারে।
হাসনা হেনা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং সীতাকুÐ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ প্রকল্পে কম্বাইন্ড ফুটিং ডিজাইনসংক্রান্ত সমস্যা ছাড়াও রয়েছে জমিসংক্রান্ত জটিলতা। সীতাকুÐ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের জন্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার দরপত্র আহŸান করা হয়েছে। যেখানে পাইলিংয়ের কাজটি আলাদা দরপত্রের মাধ্যমে আগেই করা হয়েছে। কিন্তু এখানে রয়েছে জায়গার স্বল্পতা। ২০১৯ সালের দরপত্রে এই প্রকল্পের অধীনে প্রতি ফ্লোরে তিনটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু জায়গা ছিল দুটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করার মতো। এবারও দরপত্র আহŸান করা হয়েছে তিনটি করে শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের জন্য, যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। 
অন্যদিকে হাসনা হেনা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পেও প্রি-কাস্ট পাইলিংয়ের কাজ আলাদা দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু তা গোপন করে কম্বাইন্ড ফুটিংয়ের ইস্টিমেট করা হয়েছে। এ ছাড়া জায়গার স্বল্পতার কারণে প্রতি তলায় তিনটি শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে দুটি শ্রেণিকক্ষ অর্থাৎ ছয়তলায় ১৮টি শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে সর্বমোট ১২টি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা যাবে,  যা পুরোনো ডিজাইনের। কিন্তু তা পরিবর্তন না করে এবারও প্রাক্কলনে ধরা হয়েছে ১৮টি শ্রেণিকক্ষ। এতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে গেছে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা। 
উল্লেখিত প্রকল্পগুলো আগের ডিজাইনেই করা হলেও সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ৭ কোটি টাকা। যা এসব অফিসারদের অজ্ঞতা বা দুর্নীতির কারনেই হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার সরকারের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদেবার্তা দিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এমএসএম / এমএসএম

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে হামলা, ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

রাঙ্গামাটি পর্যটন উন্নয়নের জাতীয় মডেলে পরিণত হওয়ার সক্ষমতা রাখে: গোবিপ্রবি উপাচার্য

তিতাসের মাদক কারবারি মালেক মিয়ার জুয়া ও মাদক থেকে পরিত্রাণ চায় এলাকাবাসী

নড়াইলে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় মানুষের ঢল

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্জ্য যুক্ত পানি, দুর্গন্ধ ও আবর্জনার স্তূপ

হাতিয়ায় অস্ত্র দিয়ে ছাত্র দল নেতাকে ফাঁসানোর প্রতিবাদে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আপিল ঘিরে বিতর্ক, ভাইরাল অডিওতে তোলপাড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪

বোয়ালমারীতে ইউনাইটেড আরব আমিরাতের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ

দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু গ্রেফতার

সরিষার হলুদে রঙিন ত্রিশাল : বাম্পার ফলনের আশা

গোপালগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি

নাঙ্গলকোটে দু'জনকে গুলি করে হত্যা