ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬

চট্টগ্রামের পটিয়ায় জমবে ঈগল’র সাথে নৌকা’র লড়াই


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ১৯-১২-২০২৩ দুপুর ৩:৪
সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনেও জমে ওঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। এই আসনে বিভিন্ন দলের আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও মূল লড়াইটা হবে নৌকার সাথে ঈগল প্রতিকের।  টানা ১৫ বছর সংসদ সদস্য পদে থাকা সামশুল হক চৌধুরী এবার স্বতন্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকলেও তুমুল জনপ্রিয়তার ফলে এবারও বিজয়ী হওয়া সম্ভাবনা দেখছেন তাঁর অনুসারীরা। আবার অনেকে মনে করছেন নৌকা প্রতিক নিয়ে অংশ গ্রহণ করা সরকার দলীয় মনোনীত প্রাথী মোতাহেরুল ইসলামের রাজনৈতিক দক্ষতা ও দলীয় সমর্থনের ফলে এই নির্বাচনে জয়ী হতে পারে। জয়ে আশাবাদী বিএনএম’র এয়াকুব আলী ও জাতীয় পার্টির নুরুচ্ছফা সরকারসহ অন্য প্রার্থীরাও।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের  সাথে কথা বলে জানা গেছে, পরপর তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবারের স্বতন্ত প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী, তিনি জাতীয় সংসদের হুইপও হয়েছেন। এই ১৫ বছরে সরকারের নানা উন্নয়ন প্রকল্প উপহার দিছেন পটিয়াবাসীর জন্য। সরকারের এই উন্নয়নের পেছনে তাঁর ভূমিকাও কম নয়। দলীয় অনেক নেতাকর্মীর সাথেও রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এছাড়া তিনি আমজনতার সাথে মিশেছেন ভালো করে। যেকোন কাজে সাধারণ জনতার ডাকে স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণের ফলে দলমতের বাইরে অনেকেই তাকে ভোট দিবে। মার্কা যাই হোক ব্যক্তি হিসেবে তিনি সকলের কাছেই সুপরিচিত। সাধারণ ভোটাররা যদি নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তাহলে তাঁর বিজয় নিশ্চিত। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকেরা অতি উৎসাহী হয়ে ভোটদানে বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন কেউকেউ। সম্প্রতি ২/১ টি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সামশওল হক চৌধুরীর সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।  
আবার সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী পটিয়া থেকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয় লাভ করেছিলেন। তাঁরও একটি নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। তাছাড়া তিনি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর সাথেই থাকবেন। ১৫ বছরে সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে নৌকাকেই জনগণ বেছে নিবে।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী দলীয় শতভাগ ভোট পাবেনা। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতিকের প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী ভাগ বসাবে। কারন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হয়েই তিনি ১৫ বছর এমপি ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অনেকেই কোন না কোনভাবে উপকৃত হয়েছেন।  প্রকাশ্যে তার পক্ষ না নিলেও ভিতরে ভিতরে অনেকেই চাইবে তিনি আবারো নির্বাচিত হউক। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের ভোট পেতে পারে সামশুল হক চৌধুরী। আবার দলের বাইরেও তিনি অনেক লোকের উপকারে এসছেন সেক্ষেত্রে দলমতের বাইরে গিয়েও অনেকে তাকে ভোট দিতে পারে। আরেকটি বড় ভোট ব্যাংক হচ্ছে এন্টি আওয়ামী লীগ। যেহেতু বিএনপি সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেনা তাহলে তাদের ভোট এবার একটি ফ্যাক্টর হতে পারে। রাজনৈতিক অবস্থানে তারা আওয়ামী লীগের বিপরীতমূখী তাই স্বাভাবিক কারনেই তারা নৌকায় ভোট দিবেনা। ফলে সেখান থেকে কিছু ভোট ঈগল প্রতিকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার কিছু ভোটার ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকতে পারে বলেও মনে করছেন তাঁরা। সেই হিসেবে নৌকার চেয়ে ঈগরের পাল্লা একটু ভারী হওয়ার সম্ভাবনা উড়য়ে দেয়া যায়না।
এব্যপারে ঈগল প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী বলেন, ”আমি টানা ১৫ বছর এই আসন থেকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছি। সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের সুফল সমবন্টনের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌছে দিয়েছি। দিন বা রাত যেকোন সময় যে কারো বিপদে আপদে আমাকে সবসময় কাছে পেয়েছে। আমার দরজা তাদের জন্য সবসময় খোলা রেখেছি। তারা আমার সম্পর্কে ভালো করে জানে। আমার মতো এমন আন্তরিক এমপি এই আসনে পাবে বলে মনে হয়না। আমার সাথে অনেকেই কথা বলেছে, বিভিন্ন স্থানে গ্রুপ তৈরি হয়েছে আমাকে ভোট দেয়ার জন্য। সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রদানের পরিবেশ থাকলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো।” 
এব্যপারে জানতে চাইলে সরকার দলীয় মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ”১৫ বছর সরকারে থেকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে আওয়ামী লীগ। এখনো মানুষের ভাগ্য পরিবর্তণে কাজ করছে সরকার। আর আমি এই সরকারের প্রতিনিধি। সরকারের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে জনগণ আমাকে তথা নৌকাকে ভোট দিবে। আমি যেহেতু দলীয় প্রার্থী সেহেতু দলীয় ভোট নৌকা প্রতিকেই পড়বে। আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী নৌকার সাথে বেঈমানী করবেনা। নৌকা হচ্ছে শান্তির প্রতিক জনগণের আস্থার প্রতিক। ”
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ঈগল প্রতীক। এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন পটিয়া উপজেলার সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। এই আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন (মোমবাতি), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) এম এয়াকুব আলী (নোঙ্গর), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ’র কাজী মুহাম্মদ জসীম উদ্দীন  (চেয়ার), বাংলাদেশ কংগেস’র সৈয়দ মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন জেহাদী (ডাব), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নুরুচ্ছফা সরকার (লাঙ্গল) ও তৃণমূল বিএনপি’র রাজীব চৌধুরী (সোনালী আঁশ)  প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।
উল্লেখ্য আগামী ৭ জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এমএসএম / এমএসএম

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে হামলা, ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

রাঙ্গামাটি পর্যটন উন্নয়নের জাতীয় মডেলে পরিণত হওয়ার সক্ষমতা রাখে: গোবিপ্রবি উপাচার্য

তিতাসের মাদক কারবারি মালেক মিয়ার জুয়া ও মাদক থেকে পরিত্রাণ চায় এলাকাবাসী

নড়াইলে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় মানুষের ঢল

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্জ্য যুক্ত পানি, দুর্গন্ধ ও আবর্জনার স্তূপ

হাতিয়ায় অস্ত্র দিয়ে ছাত্র দল নেতাকে ফাঁসানোর প্রতিবাদে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আপিল ঘিরে বিতর্ক, ভাইরাল অডিওতে তোলপাড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪

বোয়ালমারীতে ইউনাইটেড আরব আমিরাতের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ

দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু গ্রেফতার

সরিষার হলুদে রঙিন ত্রিশাল : বাম্পার ফলনের আশা

গোপালগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি

নাঙ্গলকোটে দু'জনকে গুলি করে হত্যা