ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬

পটিয়ায় সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব শুরু করেছে:হুইপ সামশুল হক


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ২১-১২-২০২৩ দুপুর ৩:৩
 চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী বলেছেন, মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর অনুসারী কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী আমার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা দিয়ে আসছেন। যেখানেই আমার কর্মি-সমর্থকরা গণসংযোগে যাচ্ছেন সেখানেই হামলা করছে। আমার নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করছে। তিনি আমার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ও বিষোদগার মূলক বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন সভা-সমাবেশে। আমার নেতা-কর্মিদের ওপর হামলা করা, তাদের মাঠে নামতে না দেয়ার নির্দেশমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। ওনার সঙ্গে কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ সুবিধাভোগী শ্রেণী জুটেছে। এইসব সন্ত্রাসীরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরেপটিয়ায় রীতিমতো তাণ্ডব শুরু করেছে ।
 
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ারআবদুল খালেক মিলনায়তনে সরকার দলীয় সমর্থিত নৌকার প্রাথী মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী ও তার অনুসারীদের সহিংস আচরণ, হামলা, ভাংচুর ও নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদানের প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে হুইপ আরো বলেন, "আমি চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে 'ঈগল' প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছি।দলীয় নেতাদের অনৈক্য ও আভ্যন্তরিন ষড়যন্ত্রের ফলে ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করার পর থেকে এই পটিয়া আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ২০০৮ এর আগে কখনো জয়লাভ করতে পারেনি।  আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী পটিয়ায় বারবার পরাজিত হয়েছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এ আসন থেকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। বিপুল ভোটে আমি সে সময় জয়লাভ করি। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকার মনোনয়ন দেন এবং যথারীতি আমি জয়লাভ করি। সর্বশেষ মেয়াদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন। এই দায়িত্বও আমি যথাযথভাবে পালন করেছি। তা ছাড়া গত ১৫ বছরে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় পটিয়ায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছি, অধিকাংশ সময় এলাকার মানুষের সুখে দুখে পাশে থেকেছি ও সন্ত্রাসমুক্ত রেখেছি। চট্টগ্রামের ১৬ টি আসনের মধ্যে পটিয়া এখন উন্নয়নের মডেল।"
তিনি বলেন, "বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহন মূলক নির্বাচনের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামালীগের নেতা কর্মীদের অনুমতি দিয়েছেন এবং আমি মনে করি এটি প্রধানমন্ত্রীর একটি অন্যতম সেরা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। মাঠে জনগনের কাছে জনপ্রিয় বাক্তি বাহাইয়ের এমন সুযোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে আর আসেনি। নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে এবং প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাই করতে এই সুযোগ করে দিয়েছে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ক্রীড়া সংগঠক থেকে রাজনীতির মাঠে এনেছেন। আমাকে দিয়ে পটিয়াবাসীর ১৫ বছর সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। এবারও তিনি সকলের মতো আমাকে অনুমতি দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন করে জনপ্রিয়তা যাচাই করার। দলের নির্বাচনী কৌশল হিসেবে অনেক জনপ্রিয় সংসদ সদস্যদের স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। নির্বাচন করার জন্য পটিয়ার সাধারণ ভোটার এবং মানুষও আমাকে অনুরোধ করেন। তাদের ইচ্ছার প্রতিও আমি সম্মান জানিয়েছি। ঈগল প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে সেই জয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করি। আপনারা জানেন স্থানীয় নেতা কর্মীদের দলের সাধারন সম্পাদক বার বার বলেছেন যার সাথে খুশী তার সাথেই কাজ করতে এখানে কোন বাধা নিষেধ বা দল থেকে কোন নেতা কর্মীদের বহিস্কার করা হবে না। আমি মনে করি ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য এই কৌশল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
 
তিনি বলেন  "দুঃখজনক হলেও সত্য যে, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর দিন থেকেই পটিয়ায় আরেকজন প্রার্থীর নির্দেশে সন্ত্রাসীরা নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছে।
  আমি শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। আমার গণসংযোগে সাধারণ মানুষের বিপুল উপস্থিতি ও ঢল দেখে মোতাহেরুল ইসলাম হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। তাই আমাকে ঠেকাতে তিনি সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছেন। সন্ত্রাসীদের দলে ভিড়িয়েছেন। যাদের নাম শুনলে পটিয়ার মানুষ এখনও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
 
গত সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) পটিয়ার হল ওকে নামক একটি কমিউনিটি সেন্টারে অফিস উদ্বোধন, সংবাদ সম্মেলন ও আমার সমর্থনে একটি কর্মি সমাবেশ ছিল। ওই সভায় যাওয়ার পথে ইন্দ্রপুল বাইপাস মোড় ও হাবিলাসদ্বীপের পাঁচুরিয়া এলাকায় আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করে নৌকার  অনুসারীরা। রাতে জিরি ফকিরা মসজিদ এলাকায় আমার নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয় ও কর্মীদের আহত করা হয়। গত মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর)  সন্ধ্যায় শান্তিরহাট ও কুসুমপুরা এলাকায় আমার একাধিক নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়। বাকখাইন এলাকায় আমাদের একটি প্রচার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। প্রচার গাড়ির নিরীহ চালকের ওপর হামলা করে তারা। মঙ্গলবার রাতে প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর সামনেই মঈনুদ্দিন নামে আমার সমর্থক এক কিশোরকে বেধড়ক মারধর করে। আমার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার নেতা কর্মীদের বাড়ীতে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে।  সর্বশেষ বুধবার (২০ ডিসেম্বর)  বিকেলে আমি পটিয়ার কাশিয়াইশ ইউনিয়নে গণ সংযোগে যাই। গণসংযোগ শেষে আমাদের ইউনিয়নের নেতা নুরুল হুদা খানের বাড়িতে আমরা খেতে গেলে বাইরে অপেক্ষামান গণসংযোগে আসা কিছু সাধারণ লোকজন ও কর্মি সমর্থকদের ওপর হামলা করে মোতাহেরের মিছিল নিয়ে আসা সন্ত্রাসীরা, তারা আমার প্রচারণার ৬-৭ টি গাড়ির টায়ার কেটে দেয়। একজন ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রকাশ্য দিবালোকে রাম দা, কিরিচ ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে হামলা চালায়। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আমরা এইসকল ঘটনা নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং একটি ঘটনার ইতিমধ্যে মামলা দায়ের হয়েছে।"
 
তিনি বলেন, "গতকালকে (২০ ডিসেম্বর, বুধবার) একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, জনাব মোতাহেরের ঘনিষ্ঠ এক সাবেক ছাত্রনেতা, সাবেক একজন জনপ্রতিনিধি ও কয়েকজন সন্ত্রাসী মিলে পরিকল্পনা করছে নৌকার নির্বাচনী অফিস ভাংচুর বা পুড়িয়ে এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করে আমার নেতা কর্মী ও আত্মীয়দের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দেওয়ার। আমি একজন প্রার্থী হিসেবে প্রশাসনকে অনুরোধ করবো এই ব্যাপারে সজাগ থাকতে। আমার পক্ষ হতে আজকে সংবাদ সম্মেলনের পরে পটিয়া থানায় সাধারন ডায়েরী করা হবে।"
 
তিনি বলেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচন কমিশনও এ ব্যাপারে কঠোর। কিন্তু সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং ইচ্ছাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ অন্যান্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা করছে, নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করছে, এলাকায় তান্ডব চালাচ্ছে, ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে, সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তারা কখনোই সরকারের ভালো চায় না। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে পটিয়ায় নৌকার অনুসারী দাবিদাররা ততই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা প্রকৃত অর্থে নৌকার সমর্থক বা অনুসারী কিনা সেটিও আমার সন্দেহ হয়। কারন যারা অনেকেই আজকে নৌকার জন্য মায়াকান্না করে তাদেরই একজন মোতাহেরুল ইসলামের ষড়যন্ত্র ও বিরোধিতার কারনে ২০০১ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন পরাজিত হয়েছিল যার শাস্তি স্বরূপ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক মোতাহেরকে দলীয় পদ হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছিলো।
 
যাই হোক আমি একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে প্রার্থী মোতাহের ও তাদের অনুসারীদের এমন ঘৃণ্য কর্মকান্ড এখনই বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। নৌকা প্রার্থী এলাকায় যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে তা বন্ধ না হলে ৭ জানুয়ারি ভোট কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতিও কমে যাবে বলেও আমি আশঙ্কা প্রকাশ করছি। আর যদি ভোটার যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়; সে ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবে বলে আমার বিশ্বাস।
তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সুষ্ঠ অবাধ, অংশগ্রহনমূলক এবং উৎসবমুখর নির্বাচনে বিশ্বাস করি।"
এসময় অন্যনদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ নবী চৌধুরী, দেবব্রত দাশ, বিজন চক্রবর্তী, নাছির চেয়ারম্যান,  আবু ছালে চৌধুরী,  আলমগীর, মাজেদা বেগম, আব্দুল্লাহ আল হারুন, ওমর সুলতানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। 

এমএসএম / এমএসএম

অবৈধ নিয়োগ ও ভূয়া সনদে চাকুরীর অভিযোগ উঠেছে প্রভাষক ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে

শেরপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে শিশুদের ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বাগেরহাটের মোংলায় মাছ শিকারে অবৈধ জাল উদ্ধারপূর্বক পুড়িয়ে ধ্বংস

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে হামলা, ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

রাঙ্গামাটি পর্যটন উন্নয়নের জাতীয় মডেলে পরিণত হওয়ার সক্ষমতা রাখে: গোবিপ্রবি উপাচার্য

তিতাসের মাদক কারবারি মালেক মিয়ার জুয়া ও মাদক থেকে পরিত্রাণ চায় এলাকাবাসী

নড়াইলে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় মানুষের ঢল

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্জ্য যুক্ত পানি, দুর্গন্ধ ও আবর্জনার স্তূপ

হাতিয়ায় অস্ত্র দিয়ে ছাত্র দল নেতাকে ফাঁসানোর প্রতিবাদে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আপিল ঘিরে বিতর্ক, ভাইরাল অডিওতে তোলপাড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪

বোয়ালমারীতে ইউনাইটেড আরব আমিরাতের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ

দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু গ্রেফতার