ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

জবরদখলে বছর শুরু চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাবের


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ১-১-২০২৪ দুপুর ২:৫১

নতুন বছরের সূর্য উদয়ের আগেই রেলের জমি জবরদখলে নেমেছে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের নেতৃাত্বধীন অফিসার্স ক্লাব। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) বাঁধা, ৯৯৯ এ কলের মাধ্যমে পুলিশ কল করেও জবরদখল আটকাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। যাদের কাছে মানুষ ভালো কিছু আশা করে, যাদের দেখে পরবর্তী প্রজন্ম অনেক কিছু শেখার প্রত্যাশা করে, সমাজিক দায়বদ্ধতায় যারা আবদ্ধ এরূপ এলিট শ্রেণির ক্লাবের সদস্যদের এমন কর্মকাণ্ডে বিস্মিত বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলের একাধিক কর্মকর্তা। তবে এসব বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে নারাজ রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী ও সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ে সুত্রে জানা যায়, সোমবার ১ জানুয়ারি ভোর ৪ টা থেকে অফিসার্স ক্লাবের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়ে রেলের দেয়াল ভেঙে বাংলোর জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের জিএম ও এস্টেট শাখাকে বিষয়টি অবগত করা হলে পুলিশ ও আরএনবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে বাবুল নামের কোন এক ব্যক্তির নির্দেশে পুণরায় দেয়াল নির্মাণ করে রেলের জমি জবরদখলে নেয় ক্লাবটি।

এই বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান এবং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাকিব হাছানের মোবাইলে কল ও বার্তা দিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।সিআরবি হাসপাতাল কলোনীর বাংলো নং-এফ/৪ সংলগ্ন দেয়াল ঘেরা জায়গা অফিসার্স ক্লাব, চট্টগ্রাম কর্তৃক বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত অবৈধভাবে জবর-দখল করা প্রসঙ্গে রেলের জিএমসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন ওই বাংলোর বাসিন্দা ও রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের সিনিয়র বাজেট অফিসার সুকেন্দ্র নাথ হালদার।
ওই আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলোটির উত্তর পার্শ্বে চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাবের জন্য বহু পূর্বে আনুমানিক ৭-১০ শতাংশ জায়গা ইজারা প্রদান করা হয়। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষ ৭/৮ কছর পূর্বে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে স্টীল ট্র্যাকচার দিয়ে ক্লাবটি তিনতলা কমিউনিটি সেন্টারে পরিনত করে ভাড়া প্রদান পূর্বক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে এবং ক্লাবের পিছনে প্রায় ৭-৮ শতক জমি বাউন্ডারী ওয়াল তৈরী করে দখলপূর্বক পাকা রান্নাঘর সহ কিছু স্থাপনা নির্মাণ করে বিয়ে-সাদিসহ সামাজিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে।

গত ৭.৮.২০২৩ তারিখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করেই রাত সাড়ে ৭ টায় এডিসি (প্রশাসন), চট্টগ্রাম এর নেতৃত্বে কিছু সংখ্যক পুলিশ, আনসার ও ক্লাবের কর্মচারী দিয়ে বাংলোটির পাশের আউটহাউজ ভাংচুর করে এবং রাত ১ টা বা ২ টার দিকে বাংলোর মধ্যে বিপুল পরিমান ইট মজুদ করে। ০৮.০৮.২০২৩ তারিখে বাংলোর মূলভবন ঘেষেই আউটহাউজ ভেঙ্গে ওয়াল তৈরীর কার্যক্রম শুরু করলে রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (সিইও), ডিআরএম (চট্টগ্রাম) এবং ডিইএন-২ (চট্টগ্রাম) সহ সংশ্লিষ্টদেরকে অবহিত করা হলে ওয়াল তৈরীর কাজ বন্ধ রাখার জন্য অফিসার্স ক্লাব কর্তৃপক্ষকে বলা হয়। কিন্তু রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সহ কর্মকর্তাগণ চলে আসার পরেই তারা পুনরায় ভাংচুরসহ ওসাল তৈরীর কাজ অব্যাহত রাখে।

উল্লেখ্য, আবাসিক ভবনের ৩০ ফুটের মধ্যে কোন বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরী/ইজারা প্রদানের বিধান নেই বলে জানা যায়। তাছাড়া বাংলোটির আলোচা জায়গায় ১৫-১৬ টি ফলজ-ভেষজ গাছ ও রেলওয়ের ০২টি আউটহাউজ রয়েছে। তাই বাংলোটির ৩০ ফুটের মধ্যে ফলজ-ভেষজ গাছ নিধন করে এবং আউটহাউজ ভেঙ্গে কমিউনিটি ক্লবের ব্যবসা পরিচালনার পক্ষো মূল ভবন সংলগ্ন জায়গা জবর-দখল বন্ধ করে রেলওয়ে সম্পদ রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়।


প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এই চিঠির অনুলিপি রেল মন্ত্রনালয়ের সচিব, মহাপরিচালক (ডিজি), পুর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা,  ডিআরএম (চট্টগ্রাম), আরএনবি কমান্ড্যান্ট (চট্টগ্রাম) সহ সংশ্লিষ্ট অনেককেই 
সুকেন্দ্র নাথ হালদারের আবেদন ও রেলের আমিন/ কানুনগো’র প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে রেলভূমি অবৈধ জবর দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে বলছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (অঃদাঃ) জিষাণ দত্ত স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে লিখিত চিঠিতে এই অনুরোধ জানিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ’বাৎসরিক ৫ হাজার টাকার প্রতিকি মূল্যে ১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাবের অনুকূলে ৯.১১ কাঠা রেলভূমি বরাদ্দ প্রদান করা হয়। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কিছু সংখ্যক আনসার ও ক্লাবের কর্মচারীরা রেল বাংলোর অংশবিশেষ ভেঙ্গে বাংলোর সীমানার অভ্যন্তরে বিপুল পরিমাণ ইট ও নির্মাণ সামগ্রী মজুদ করেন। পরবর্তীতে বাংলোর অভ্যন্তরের প্রায় ১৬ শতাংশ জমি ক্লাবের আওতায় নেওয়ার জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করলে প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (পূর্ব), বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (চট্টগ্রাম), বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ (চট্টগ্রাম) সিনিয়র বাজেট অফিসার (পূর্ব) এবং নিম্নস্বাক্ষরকারী কর্তৃক সংশ্লিষ্টদের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষ সকল বাধা উপেক্ষা করে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে যা আপনাকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাংলোর অংশ বিশেষ ভেঙ্গে চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাবের আওতায় নেওয়ার প্রচেষ্টা বিধি সম্মত নয় । ফলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ বর্ণিত লেভূমি জবর দখল বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।’ একই চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে, রেল মন্ত্রনালয়ের সচিব, রেলের মহাপরিচালক, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, রেলের জিএম/পূর্ব, সিএমপি কমিশনার, জেলা প্রশাসক,  প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (পূর্ব), চীফ কমান্ড্যান্ট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী,  বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক, চট্টগ্রাম ও অফিসার ইনচার্জ কোতোয়ালীকে। রেলওয়ের অপর একটি সুত্র জানায়, অফিসার্স ক্লাবের বিতর্কিত রান্নাঘরের জমিটি লিজ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ভূসম্পত্তি শাখা থেকে রেলভবনে একটি প্রতবেদন পাঠিয়েছে। প্রকিবেদনে বলা হয়েছে, ”বাংলাদেশ রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২০ এর ৪৬ (খ) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে" সরকারি জনগুরুত্বপূর্ণ লাইন, যে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ ও অন্যান্য নির্মাণ কাজে রেলভূমি প্রয়োজন হলে বিভাগীয় ও আঞ্চলিক রেলভূমি বরাদ্দ কমিটি কেন্দ্রীয় রেলভূমি বরাদ্দ কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে মহাপরিচালকের প্রস্তাবমতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার প্রধানের অনুমতিক্রমে ভূমি মন্ত্রণালয়কে সম্পৃক্ত করে বিনা টেন্ডারে বাজারদর/রেয়াতি/প্রতীকী মূল্যে রেলভূমি হস্তান্তরের অনুমতি দেয়া যাবে”।
তবে, ”বাংলাদেশ রেলওয়ে ভূসম্পত্তি নীতিমালা ২০২০ অনুযায়ী কোন ক্লাবের নামে রেলভূমি বরাদ্দের কোন সুযোগ নেই।” বলে জানিয়েছে রেলের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা।
প্রতিবেদনের অপর অংশে বলা হয়েছে, ”প্লট নং "বি"-তে স্থিত গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস লাইন, বাংলোর আউটার হাউজ, বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা বিদ্যমান ও উক্ত রেলভূমি জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ সংরক্ষণ প্রয়োজন। অর্থাৎ উক্ত ভূমি অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুমতি প্রদান করা সমীচীন হবে না মর্মে প্রতীয়মান হয়।

 

এমএসএম / এমএসএম

সম্পদ বিলিয়ে আজ অনুতপ্ত ৮৫ বছরের শামসুল, বললেন ‘ভুল করেছি’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাগেরহাটে আগমনকে ঘিরে বিএনপি ও সাধারণ কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা

পটুয়াখালীতে আনসারের উচ্চতর প্রশিক্ষণের সমাপনী : গণপ্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান মহাপরিচালকের

তরিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শালিখায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

শিবগঞ্জে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

কালাইয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

বাউফলে ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের এডহক কমিটির সভাপতিকে সংবর্ধনা

রৌমারীতে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে ৫ দিন ধরে অনশন স্ত্রীর, বিচার প্রতারণায় পরিবার

নবীগঞ্জে মাদ্রাসাবিরোধী অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সমাবেশ

গুরুদাসপুরে কৃষকের বাড়িতে দফায় দফায় অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কে পরিবার

রায়পুরে চরবংশিতে ছুরিকাঘাত, বিএনপি নেতাসহ আহত ৪

বড়লেখায় ১৮ চা বাগানে শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রশাসনের প্রস্তুতি শুরু, ভোটার ৪ হাজার

আত্রাইয়ে ৫৬ জন শিক্ষার্থীকে পবিত্র কুরআনের সবক প্রদান