পুলিশের রেশনে নিম্নমানের চাল
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ও জেলার পুলিশ সদস্যদের জন্য সরবরাহকৃত রেশনের চালে নিয়ে ঘোর আপত্তি ও নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। রেশনে আটা, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল ও জ্বালানি কাঠ নিয়ে তেমন আপত্তি না থাকলেও ভর্তুকি মূল্যে দেয়া সিদ্ধ ও আতপ চালের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সদস্যরা। পাশাপাশি সদস্যরা, এসব চালের নমুনা পরীক্ষারও দাবি জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের লজিস্টিক শাখার উপকমিশনার (রেশনিং ও ট্রান্সপোর্ট বিভাগ) কৌশিক রায়।
পুলিশ সদস্যদের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর/জানুয়ারি মাসের চাল উত্তোলন করতে গেলে আতপ চাল অপ্রতুল জানিয়ে রেশনের গুদাম কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধ চাল নেয়ার অনুরোধ করেন। প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়েই সিদ্ধ চাল উত্তোলন করা হয়। কিন্তু এ চালের ভাতে অনীহা প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ পুলিশ সদস্য।
এমনকি চট্টগ্রামে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যারা সিদ্ধ চালের পরিবর্তে আতপ চাল নিতেন তারা রেশন স্টোরে গিয়ে আতপ চাল পাননি। এর পরিবর্তে অত্যন্ত নিম্নমানের সিদ্ধ চাল বিতরণ করেছেন একাধিক পুলিশ সদস্যদেরা। জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সব ইউনিট থেকে এসব পণ্যের গুণগত মান রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
অতীতেও এর সত্যতা জেনে সদর দফতরে চিঠি পাঠিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছিলেন, কঠোর পরিশ্রম শেষে নিম্নমানের এসব খাবার খাওয়ায় পুলিশ সদস্যদের মনোবলের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। ওয়ারেন্টি প্রথা শিথিল করলে রেশন হিসেবে উন্নত মানের চাল ও গম সংগ্রহ করা যাবে বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে গত কয়েক বছরে পুলিশের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে, এর মধ্যে রেশন সুবিধাও রয়েছে। রেশন পণ্যের মধ্যে রয়েছে— চাল, ডাল, আটা, চিনি ও ভোজ্য তেল। এই পাঁচ পণ্যের মধ্যে চারটি নিয়ে কোনও অভিযোগ না থাকলেও চাল নিয়ে পুলিশ সদস্যদের আছে অসন্তুষ্টি। গন্ধযুক্ত ও নিম্নমানের রেশনের চাল নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ। পুলিশ সদস্যরা বলছেন, মোটা হলেও সমস্যা নেই, কিন্তু চালটা যেন ভালো হয়। পুলিশে রেশনের চাল সরবারহ করেন টেন্ডারের মাধ্যমে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ করা হয় এসব চাল।
রেশন হিসেবে যা দেওয়া হয়:
নিয়মানুযায়ী পুলিশের (কর্মকর্তা-কর্মচারী) প্রতিটি পরিবারের চারজন সদস্য রেশন পাবেন। পরিবার এক সদস্যের হলে তিনি প্রতিমাসে ১১ কেজি চাল (সিদ্ধ বা আতপ), আটা ১২ কেজি, চিনি এক কেজি ৭৫০ গ্রাম, আড়াই লিটার ভোজ্য তেল, সাড়ে তিন কেজি ডাল ও ৩৭ কেজি ৩২৪ গ্রাম জ্বালানি কাঠ পাবেন।
দুই সদস্যের পরিবার হলে মাসে ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, তিন কেজি চিনি, সাড়ে চার লিটার ভোজ্য তেল, সাড়ে পাঁচ কেজি ডাল পাবেন। তিন সদস্যের পরিবার হলে মাসে ৩০ কেজি চাল, ২৫ কেজি আটা, চার কেজি চিনি, ছয় লিটার ভোজ্য তেল ও সাত কেজি ডাল পাবেন।
আর চার সদস্যের পরিবার পাবে প্রতিমাসে ৩৫ কেজি চাল, ৩০ কেজি আটা, পাঁচ কেজি চিনি, আট লিটার ভোজ্য তেল ও আট কেজি ডাল।
উল্লেখ্য, জ্বালানি কাঠ পাবেন শুধুমাত্র নন গেজেটেড পুলিশ সদস্য এবং পুলিশ ইউনিটে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনও পুলিশ সদস্য যদি মারা যান, তবে স্বাভাবিক অবস্থায় চাকরি থেকে তার অবসর গ্রহণের যে মেয়াদ (পিআরএলসহ), সেই পর্যন্ত সর্বাধিক তিন সদস্যের পরিবারকে রেশন সুবিধা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
যেভাবে রেশন দেওয়া হয়:
যারা রেশন পাবেন তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজ নিজ নামে রেশন কার্ড ইস্যু করাবেন। এরপর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত হারে রেশন তুলতে পারবেন। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের কর্মরত জেলা ও ইউনিট ছাড়াও অন্য যেকোনও জেলা ও ইউনিট থেকে রেশন তুলতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে বিষয়টি নিজ নিজ ইউনিট প্রধানকে কমপক্ষে ৩০ দিন আগে অবহিত করতে হবে। ইউনিট প্রধানকে আবার বিষয়টি পুলিশ সদর দফতরকে অবহিত করতে হবে। শান্তিরক্ষা মিশনে প্রেষণে, বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বা অন্য কোনও সরকারি কাজে বিদেশে দায়িত্ব পালনের সময় একই নিয়মে রেশন তুলতে পারবেন।
যেসব শর্ত অনুসরণ করা হয়:
প্রতিটি পুলিশ পরিবারের সর্বাধিক দু’জন সন্তান রেশন পাওয়ার যোগ্য এবং সন্তানদের অনধিক ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত রেশন দেওয়া হয়। কিন্তু এ সময়সীমার আগে যদি কোনও সন্তান বিয়ে করেন এবং অর্থ উপার্জনে সক্ষম হন, তাহলে ওই সন্তানকে আর রেশন দেওয়া হয় না।
তবে শারীরিকভাবে অসমর্থ, পঙ্গু অথবা বিকলাঙ্গ সন্তান যদি বাবা-মায়ের ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে যতদিন তিনি নির্ভরশীল থাকবেন, ততদিন রেশন পাবেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত থাকলে তাদের যেকোনও একজন রেশন সুবিধা পাবেন।
অন্যজন পরিবারের সদস্য হিসেবে রেশন পাবেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়ই যদি ভিন্ন ভিন্ন রেশন সুবিধা সম্বলিত সংস্থায় কর্মরত থাকেন, তাহলে উভয়ের যেকোনও একজন তার নিজ সংস্থা থেকে রেশন উত্তোলন করতে পারবেন এবং অন্যজন পরিবারের সদস্য হিসেবে রেশন পাবেন। এলপিআর-এ (পিআরএল) থাকার সময়ে প্রত্যেক সদস্য একইহারে রেশন পাবেন। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সদস্য নিজের এবং পরিবারের জন্য রেশন পাবেন। প্রসঙ্গত, বিশেষ দিনগুলোতে প্রীতিভোজ উপলক্ষে পুলিশ সদস্যদের পোলাউর চাল দেওয়া হয়।
একাধিক পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশের প্রত্যেক সদস্যকে যে পরিমাণে রেশন দেওয়া হয়, তা একজন সদস্যের জন্য পর্যাপ্ত। রেশন হিসেবে দেওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে চাল ছাড়া সব উপকরণই ভালো। ডাল, আটা, চিনি ও ভোজ্য তেল নিয়ে কারও কোনও অভিযোগ নেই। তবে যে চাল দেওয়া হয় সেটা অত্যন্ত নিম্নমানের।
রেশনের চালের মানটা বাড়ানো গেলে ও খাবার উপযোগী চাল সরবরাহ করা হলে সরকার যে উদ্দেশ্যে পুলিশ সদস্যদের রেশন সরবরাহ করছে, সেই উদ্দেশ্যটা সফল হতো। পুলিশ সদস্যরাও রেশনের চাল নিয়ে খেতে পারবেন।
সাধারণত দেখা যায়, নিম্নমানের হওয়ায় চাল তোলার পর বেশির ভাগ পুলিশ সদস্য খুব কম দামে তা বিক্রি করে দেন। এটা কারও প্রত্যাশিত নয়। খাওয়ার উপযোগী রেশনের চাল সরবরাহ করা জরুরি।
রেশন নিয়ে কথা হয় সিএমপি পুলিশের এক কনস্টেবলের সঙ্গে। তিনি জানান, রেশনের পরিমাণ ও পণ্যের মান নিয়ে তার কোনও অভিযোগ নেই। রেশনের মান খারাপ না। শুধু চালটাই সমস্যা। মোটা হলেও সমস্যা হয় না। কিন্তু খাদ্য গুদাম থেকে আসা চালটা প্রায়ই সময় নিম্নমানের হয়। এছাড়া, তেল, চিনি, আটা ও ডাল খুবই ভালো। কর্মকর্তারা যে মানের রেশন পণ্য পেয়ে থাকেন, আমরাও একই মানের রেশন পণ্য পেয়ে থাকি।’
চট্টগ্রাম পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক ইন্সপেক্টর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অনেক কাজ করে থাকেন, তাঁদের অনেক বেশি দৈহিক ও মানসিক শক্তির দরকার হয়। এসব কারণে রেশনের সব পণ্যই গুণগত মানসম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। এটা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।’
নিম্নমানের চালের বিষয়টি অস্বীকার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের লজিস্টিক শাখার উপকমিশনার (রেশনিং ও ট্রান্সপোর্ট বিভাগ). কৌশিক রায় বলেন, আমাদের চালগুলো সরকার সরবরাহ করে থাকেন। নিম্নমানের চাল সরবরাহের সুযোগ নেই। যারা বলছে নিম্নমানের তারা ভুল বলেছে।
এমএসএম / এমএসএম
মিরসরাই প্রেসক্লাবে ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভা সম্পন্ন
খোলা বার্তা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম : অতিথি সাংবাদিকরা
খাস জমির পথ বন্ধ, সাজানো মামলার ফাঁদ:চিতলমারীতে অবরুদ্ধ ১০টি পরিবার
অনুপস্থিত বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে সুবর্ণচরে ভূমিহীনদের বিক্ষোভ
দেবীগঞ্জ অলদিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনঃভর্তিতে কৌশলে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে প্রধান শিক্ষক
কুমিল্লা সীমান্তে ৭৬ লাখ টাকার ভারতীয় বাজি জব্দ
শহীদ ওসমান হাদী স্মরণে ভূরুঙ্গামারীতে আলোচনা সভা ও পাঠক সমাবেশ
বড়লেখায় ৬৯ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২০, ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬ টি কেন্দ্র
রাস্তা কার্পেটিংয়ে নিজস্ব মিক্সার ব্যবহারে অনিহা, আয় বঞ্চিত চসিক
অবৈধ নিয়োগ ও ভূয়া সনদে চাকুরীর অভিযোগ উঠেছে প্রভাষক ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে
শেরপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে শিশুদের ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
বাগেরহাটের মোংলায় মাছ শিকারে অবৈধ জাল উদ্ধারপূর্বক পুড়িয়ে ধ্বংস