ভ্যাট অফিসে ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ: রাজস্ব আদায়ে অন্তরায়
চট্টগ্রামের কাস্টমস্, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট অফিসে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার অভিযোগ ওঠেছে। অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে না পারলে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করা হয় বলে জানা গেছে। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীর কাছে ডাবল ভ্যাট দাবি করে বিআইএন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
এসব বিষয় নিয়ে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন চট্টগ্রাম কাগজ ও সেলোফিন ব্যবসায়ী গ্রপি ও বাংলাদেশ পেপার ইম্পোর্টার্স এসাসিয়েশন। সেখানে বলা হয়েছে ডায়হান এক্সিম নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালে আমদানি হওয়া পণ্যের সকল পাওনা বুঝে নেওয়ার পরেও একই পণ্যের পূর্ণ ভ্যাট ২য় বার দাবি করা হয়েছে।
একই প্রতিষ্ঠানের জানুয়ারি ২০১৮ হতে জুন ২০১৯ কয়েকটি আমদানির বিপরীতে সকল পাওনা পরিশোধের পরও ভ্যাট ফাঁকির কাল্পনিক অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মোটা অংকের জরিমানা করা হয়েছে। এমনকি ওই ব্যবসায়ীর ভ্যাট আইডিন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে করে ওই ব্যবসায়ীর ব্যবসা পরিচালনা করতে যেমন সমস্যা হচ্ছে অপরদিকে সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এসব বিষয় নিয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর সার্বিক সহায়তার জন্য এফবিসিসিআই’র নিকট একটি লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ডায়হান এক্সিম এর স্বত্ত্বাধিকারি ও বাংলাদেশ পেপার ইম্পোর্টার্স এসাসিয়েশনের সহসভাপতি মো. বেলাল।
লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামস্থ কাস্টমস্ এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের বেআইনি কার্যকলাপের ফলে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মূসক ফাঁকির অযুহাতে মূসক আইন ভঙ্গকরে অর্থদন্ড প্রদানসহ বিপুল অংকের জরিমানার আদেশ প্রদান, প্রতিষ্ঠানটির বিন বন্ধ করে রাখা ইত্যাদির ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
অক্টোবর ২০১৩ হতে মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত সময়কালে আমদানিকৃত পণ্য খালাসের সময় পণ্যের বিল অব এন্ট্রির ভিত্তিতে অগ্রীম ট্রেড ভ্যাটসহ সকল প্রকার শুল্ক কর ও ১৫% ভ্যাট সমেত সাকুল্যে ২৬.৬৭% এর চেয়ে অধিক হারে অগ্রীম কর আদায় করা হয়েছে। ফলে সরকারের নিকট প্রতিষ্ঠানটির কর ফাঁকি দেওয়ার কোন সুযোগ ছিল না বা পাওনা নেই। আমাদের ভ্যাট আইনে দক্ষ জনবলের অভাব থাকায় অজ্ঞতার কারণে মূল্য ঘোষনা দাখিলকালে ২৬.৬৭ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর না দেখিয়ে ভুলবশতঃ ৩৩.৬৭% মূল্য সংযোজন কর দেখানো হয়েছে। এ ভূলটি শুনানিকালে কমিশনারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
ঘোষনাপত্রে উল্লেখিত ৩৩.৬৭ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতঃ আমদানীকৃত পন্য বিক্রয় করা হতো তাহলে অবশ্যই মূসক আইনের ৯ ধারামতে কর রেয়াত গ্রহন করা হতো, আমরা সে সুবিধা গ্রহন করিনি।
মূসক দাবীনামা নির্ধারনের ক্ষেত্রে ধারা ৫৫ অনুযায়ী ঘোষিত সময়কাল বিবেচনায় না নিয়ে অযৌক্তিক ও বেআইনীভাবে কাস্টমস্ এক্সাইজ ও ভ্যাট দপ্তর বিগত ২০১৭ সালের ১৮ জুন ১,৩৮,৬৬,৮১৮.০০ (এক কোটি আটত্রিশ লক্ষ ছেষট্টি হাজার আটশত আঠার) টাকা আদায়যোগ্য দাবীনামা প্রদান করেন। উক্ত দাবীনামার প্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই ২০১৭ইং তারিখে জবাব প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ডেপুটি কমিশনার জনাব শাহাদাত জামিল গত ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ইং তারিখে একটি কমিটি গঠন করে। উক্ত কমিটি কোন প্রকার রিপোর্ট প্রদান না করে প্রায় ৪ বছর অতিবাহিত হবার পর ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হালিম ভুইয়া প্রাক্তন দাবী মোতাবেক মূসক পরিশোধের চিঠি প্রদান করে।
পরবর্তীতে ন্যায় নির্ণায়ক কাস্টমস কমিশনার কোন প্রকার কারণ দর্শানো নোটিশ না দিয়ে গত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ইং তারিখে পূর্বের দাবীকৃত কর বেআইনি এবং একতরফাভাবে বহুগুণ বৃদ্ধি করে ৬ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার ৭২৮ দশমিক ০৬ টাকা এবং অর্থদন্ড ৪ কোটি টাকার আদেশ প্রদান করেন। যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মূসক আইনে অর্থদন্ডের বিধান না থাকা স্বত্বেও এক্ষেত্রে মূসক আইনের ৩৭ ধারা সংরক্ষিত হয়েছে। একটি কর দাবী আদেশের পর দ্বিতীয়বার একই কর বহুগুণে বৃদ্ধিক্রমে দাবী করা সম্পূর্ণ বেআইনি। ১৯৯১ সনের মূসক আইনে অর্থদন্ড প্রয়োগের কোন সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও অর্থদন্ড প্রদান এবং একই ভাবে ৩৭ ও ৫৫ নং ধারা প্রতিপালনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে চট্টগ্রামস্থ ভ্যাট কমিশনার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
গত ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এর এক আদেশে একই প্রতিষ্ঠানকে মূসক বাবদ ৫৬ লাখ ৬১ হাজার ১১৮ টাকা ৮২ পয়সা এবং ৪০ লাখ টাকা অর্থ দন্ড দাবী করা হয়েছে। ওই আদেশের আলোকে ডায়হান এক্সিম’র পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ”ডায়হান এক্সিম আমদানী পর্যায়ে সকল প্রকার শুল্ক কর ও ১৫% হারে ভ্যাট এবং ৫% হারে অগ্রীম ট্রেড ভ্যাট পরিশোধ করে পণ্য আমদানী করেছে। আমদানীকৃত পণ্যের সকল তথ্য কাষ্টমস এর এমআইএস ডাটাবেইজ এ সংরক্ষিত থাকে ফলে আমদানীকৃত পণ্যের তথ্য গোপনের কোন সুযোগ নাই। তাই মূসক এবং অর্থ দন্ডের চূড়ান্ত দাবীনামার আদেশটি সম্পূর্ণ বেআইনী এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাতিল মূসক আইন ১৯৯১ এর ভিত্তিতে প্রদত্ত দন্ড প্রদানের আদেশটি এখতিয়ার বহির্ভূত। মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১ এর ধারা ৩৫ এবং মূল্য সংযোজন কর বিধিমালা ১৯৯১ এর ২৪ বিধি অনুযায়ী জানুয়ারি ২০১৮ হতে জুন ২০১৯ পর্যন্ত প্রতিমাসে নিয়মিতভাবে দাখিলাপত্র (মূসক ফরম ১৯) এর মাধ্যমে আমদানীকৃত পণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য যাচাইয়ের জন্য জমা দেয়া হয়েছে। মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১ এর ধারা ৩৬ ও মূল্য সংযোজন কর বিধিমালা ১৯৯১ এর ২৫ বিধি অনুযায়ী দাখিলাপত্র জমাদানের পর কোন ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হলে ৩০ দিনের মধ্যে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে জানানোর কথা কিন্তু তা না জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমদানী তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এমআইএস অনুসারে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য ২১ কোটি ৪৩ লাখ ৮১ হাজার ৮৫৩ টাকা ৯০ পয়সা টাকা এবং আমদানীকৃত পণ্যের মোট বিক্রয় মূল্য ২৫ কোটি ৮৫ লাখ ৯৬ হাজার ২৪৫ টাকা ৯৬ পয়সার তথ্য ভ্যাট দপ্তরে সংরক্ষিত থাকলেও আদেশনামায় তা উল্লেখ করা হয় নাই। সকল রেকর্ড দপ্তরে সংরক্ষিত থাকার পরও অনাকাংখিত ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত অন্যায় আদেশ দেয়া হয়েছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও এখতিয়ার বহির্ভূত অন্যায় আদেশের ফলে ব্যবসায়ী ও কর্মচারিাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। মূসক আইনের অধীনে অর্থদন্ড প্রদানের আদেশ কাস্টমস্, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারের এখতিয়ার বহির্ভূত এবং ৩৭ নং ধারার সুষ্পষ্ট লংঘন বলেও বলঅ হয়েছে।
এবিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস্, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এর কমিশনার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, আমাদের কারো সাথে কোন বন্ধুত্ব বা শত্রুতা নেই। সঠিক উপায়ে সরকারের রাজস্ব আহরণই আমাদের দায়িত্ব। কেউ রাজস্ব ফাঁকি দিতে চাইলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব এটাই স্বাভাবিক। আমার আদেশে কেউ অসন্তুষ্ট হতেই পারে, সেক্ষেত্রে তিনি সুবিচার পাওয়ার জন্য আপিল করতে পারেন। তা না করে কেউ উল্টো পথে যেতে চাইলে আমাদের কিছু করার নেই।
এমএসএম / এমএসএম
সলঙ্গায় মা-বাবার দোয়া খাবার হোটেলের আড়ালে বিক্রি হচ্ছে মাদক
মাদারীপুরে পরকীয়ার জেরে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তনের অভিযোগ, স্ত্রী আটক
হাতিয়ায় শিক্ষা ট্রাস্ট বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্বর্ধণা ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান
ট্রাক মালিক সমিতির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মজমপুরে শ্রমিক নেতাদের সভা
ঠাকুরগাঁওয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে দশম শ্রেণির শির্ক্ষার্থীর আত্মহত্যা
সাভারে শীতার্তদের মাঝে যুবদল নেতার শীতবস্ত্র বিতরণ
বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটে ৩৯ শিক্ষার্থীর প্রতীকী পরিবর্তন ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
মিরসরাই প্রেসক্লাবে ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভা সম্পন্ন
খোলা বার্তা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম : অতিথি সাংবাদিকরা
খাস জমির পথ বন্ধ, সাজানো মামলার ফাঁদ:চিতলমারীতে অবরুদ্ধ ১০টি পরিবার
অনুপস্থিত বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে সুবর্ণচরে ভূমিহীনদের বিক্ষোভ
দেবীগঞ্জ অলদিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনঃভর্তিতে কৌশলে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে প্রধান শিক্ষক