ঢাকা রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করছে বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্রো- ২


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩-৪-২০২৪ দুপুর ৩:৫৩

অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে নানা কলা-কৌশলে গাড়ি মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্রো-২ সার্কেলের উপ- পরিচালক (ইঞ্জি:) সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরীর আস্থাভাজন সিল কন্ডাক্টর মহসিন সহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের বিরুদ্ধে।

টাকার বিনিময়ে এই দালাল সিন্ডিকেট এমন কাজ নেই করছে না। চক্রটিতে কিছু কিছু দালাল নামি দামি কোম্পানির পক্ষ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিআরটিএ চট্টগ্রামে কাজ করে আসছে। সিন্ডিকেটটির বাইরে গিয়ে কেউ কাজ করতে চাইলে পদে পদে হয়রানি শিকার হতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে চোরাই গাড়ির দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের মত কাজও তারা করে আসছে। চোরাই গাড়ি ও চোর সিন্ডিকেটের সাথেও রয়েছে চক্রটির সখ্যতা। টাকার বিনিময়ে চুক্তিতে গাড়ী না দেখে মালিকানা পরিবর্তন, মোটরসাইকেল পরিদর্শন না করে রেজিস্ট্রেশন, গাড়ী না দেখে ফিটনেস দেয়া, ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু করে নানা কাজে গ্রাহকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় সহ এমন কোন কাজ নেই তারা করে না।

দাপুটে দালালরা হলেন- সীল কন্ডাক্টর  মহসিন, অফিস পিয়ন নুরুল ইসলাম, জুয়েল, সোহেল, পঙ্কজ, সেলিম, মহিউদ্দিন সহ অনেকে। এদিকে উর্ধতন কর্মকর্তা কর্মচারী,  মোটরযান পরিদর্শক ইকবাল আহমেদ, উচ্চমান সহকারি ইমরান টিপু, নিম্নমান সহকারি এনামুল হক, মেকানিক্যাল সহকারী মোশারফ হোসেন সহ অফিস সহকারীরাও জড়িয়ে আছে নানা অপকর্মে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, অফিসে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে যিনি ঘুষ দেন তারই কাজ হয় তাড়াতাড়ি। আর কেউ ঘুষ না দিলে অনেক প্রতিবন্ধকতা দেখিয়ে বিদায় করা হয় সেবা প্রত্যাশীদের। এমন অনিয়মের আওতায় গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করতে গাড়ির সঙ্গে ব্যক্তির সশরীরে বিআরটিএ কার্যালয়ে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত টাকা বা ঘুষ দিলে তার দরকার হয় না। এর ব্যতিক্রম হলে আইনের মারপ্যাঁচে ফেলে করা হয় নানা রকম হয়রানি। এমন কি চক্রটি নিজস্ব একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে দালালদের দিয়ে সিন্ডিকেটটি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দেশের নামি দামি কোম্পানি, মোটর ও কারের শো রুমের মালিকদের সাথে গোপন চুক্তিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে বলে অভিযোগ আছে ।

বিআরটিএ অফিসে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করতে আসা একজন ভুক্তভোগী জানান, টিপু সুলতানের কাছে একটা গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করার জন্য গেলে সে বলে যে গাড়ি হউক না কেন চুক্তিতে আসেন টাকা দিয়ে যান আপনার কাজ হয়ে গেছে। এখানে ফেরেস্তা হতে বসেনি কাজ নিয়ে আসেন আপনারটা আপনি রেখে আমারটা আমাকে দিয়ে দিবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএ অফিসে কর্মরত দুই বহিরাগত যুবক জানান, গাড়ির ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ি রেজিষ্ট্রেশনসহ বিভিন্ন কাজে নুরুল ইসলামকে টাকা দিয়ে করতে হয়, না হয় সেই পরিচালক দিয়ে হয়রানি করবে মর্মে হুমকিও দেন। নিরুপায় হয়ে তাকে অথবা তার সিন্ডিকেট দিয়ে কাজ করাতে হয়। এক প্রকার এই সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে আছি।

বিআরটিএ এর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালরা নিজেরা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অবৈধভাবে কাজ করার কারণে সরকারের যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি করছে তেমন চক্রটির কারণে বিআরটিএ-এর সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিআরটিএ মেট্রো-২ সার্কেল কার্যালয়ে দুদকের অভিযানে ঘুষ বাণিজ্যের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে তিন কর্মচারি ও চার দালাল। এদের মধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে তিন কর্মচারিকে বাদ দিলেও চার দালালকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে দুদক। দুদকের অভিযানে ধরা তিন কর্মচারির মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন বিআরটিএ কার্যালয়ের নিম্নমান সহকারি এনামুল হক, উচ্চমান সহকারি ইমরান টিপু ও পঙ্কজ। কিন্তু অভিযানের কয়েকদিন পর আবার সেই আগের চিত্র ফিরে আসে। কেননা অন্তরালে থেকে যায় ঘুষ বাণিজ্যের মূল হোতারা। ফলে দালালদের দৌরাত্য ও ঘুষ বাণিজ্য কমেনি একটুও। নিজেরা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অবৈধভাবে কাজ করার কারণে সরকারের যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি করছে তেমন চত্রুটির কারণে বিআরটিএ-এর সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিআরটিএ মেট্রো-২ সার্কেল কার্যালয়ে দুদকের অভিযানে ঘুষ বাণিজ্যের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে তিন কর্মচারি ও চার দালাল। এদের মধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে তিন কর্মচারিকে বাদ দিলেও চার দালালকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে দুদক। দুদকের অভিযানে ধরা তিন কর্মচারির মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন বিআরটিএ কার্যালয়ের নিম্নমান সহকারি এনামুল হক, উচ্চমান সহকারি ইমরান টিপু ও পঙ্কজ। কিন্তু অভিযানের কয়েকদিন পর আবার সেই আগের চিত্র ফিরে আসে। কেননা অন্তরালে থেকে যায় ঘুষ বাণিজ্যের মূল হোতারা। ফলে দালালদের দৌরাত্ন্যু ও ঘুষ বাণিজ্য কমেনি একটুও।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্টো-২ সার্কেলের উপ-পরিচালক (ইঞ্জি:) সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরীর এর সাথে যোগাযোগ করা হলে মোবাইলে পাওয়া যায়নি।

উল্ল্যেখ, গত ২০১৫ সালে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ে আইনুল হুদা চৌধুরী সহকারী পরিচালকের দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দালালদের মদদ দিয়েছে। গড়ে তুলে ছিলেন ১০-১২ জনের দালাল সিন্ডিকেট। প্রকাশ্যে সেখানে দালালদের ঘুষ বাণিজ্যের 'ঘাঁটি' বসিয়ে ছিলেন।

Israt / এমএসএম

বড়লেখায় পৌর মার্কেটের ছাদ ধসে আহত ৩, ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার দাবি

নাচোলে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন

উলিপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

রৌমারীতে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালন

বাগেরহাটে ৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালন

নিয়ামতপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতিকে সম্মাননা প্রদান

তাড়াশে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

চাঁদপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৩ জন গ্রেপ্তার, ১৮ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার

জয়পুরহাটে ডিসির অপসারণ দাবিতে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

টুঙ্গিপাড়ায় নানা আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

সুবর্ণচরে জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

ভূরুঙ্গামারীতে ব্যবসায়ী হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ে গ্রেপ্তার ২

পোমরা চেক স্টেশনে অনিয়মের মহোৎসব, নেপথ্যে এসিএফ দেলোয়ার