তীব্র খরা ও তাপদাহে পুড়ছে পাটক্ষেত" দিশেহারা কৃষক
❝সোনালী আঁশে ভরপুর ভালবাসি ফরিদপুর❞ দেশের এই অন্যতম প্রধান অর্থকরি ফসল পাট নিয়ে ফরিদপুর জেলার ব্যান্ডিং। তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সেই ভালবাসার ফসল নষ্ট হলে শুধু কৃষকেরই নয়, কৃষি খাতেরও ক্ষতি বয়ে আনবে। যা দেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই চলমান তাপদাহের দুশ্চিন্তায় এখন কৃষকের থেকে বিস্তার পাচ্ছে আরো অনেকের মনে। সরেজমিনে মাঠ পর্যায়ে ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে স্থানীয় কৃষিবিভাগ বলছে, এই খরায় পাটের ওপর প্রভাব পড়বে না।
দেশজুড়ে চলছে তীব্র তাপদাহ ও খরা একদিকে জনজীবন অতিষ্ঠ, অন্যদিকে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে পড়েছে পাট চাষীরা। মাস দেড়েক আগে সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের বীজ বপ করেন কৃষকেরা। এরপর থেকে আর বৃষ্টির দেখা মিলছে না।দেশের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি হলেও ফরিদপুরের সদরপুরে এখনো কোন বৃষ্টি হয়নি। কৃষকরা পানির জন্য হাঁ-হাঁকার করছেন। এমন অবস্থায় তীব্র খরার তাপদাহে নুয়ে পড়ছে ক্ষেতের পাট। অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শ্যালো মেশিন দিয়েও ঠিকমতো সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত খরায় ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে আছে।
পাট উৎপাদনে অন্যতম ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চিত্র এটি। তাই দুর্ভাবনা জেঁকে বসেছে এখানকার কৃষকদের মনে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ফরিদপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি পাট আবাদ হয়ে থাকে। যে কারণে ফরিদপুরকে পাটের রাজধানীও বলা হয়ে থাকে।
রবিবার (৫ মে) সকালে সদরপুরের ভাষানচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শহীদ মৃধা নামের ৬০ বছর বয়সী এক পাট চাষী তাঁর জমিতে একা একা ছাঁ-তা নিয়ে ক্ষেত পরিচর্যা করছেন। এ সময় তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরমের মধ্যে কেউ ক্ষেতে কাম (কাজ) করতে পারতেছে না, কামলা (শ্রমিক) পাওয়া যাচ্ছে না। তাই নিরুপায় হয়ে একা একা পাটক্ষেত পরিচর্যা করছি। এবছর আমি তিন বিঘা জমিতে পাট বীজ বপ করেছি।
তিনি আরো বলেন, বৃষ্টি না নামায় অতিরিক্ত রোদের তাপে সব জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, পাটের চারাও বেড়ে ওঠছে না। এক থেকে দেড় মাসে প্রতিটি পাটের গাছ দুই হাত করে লম্বা হওয়া কথা। কিন্তু পানির অভাবে এখন পর্যন্ত ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে লম্বা হয়েছে পাটের গাছ। এমন অবস্থায় বাড়তি টাকা খরচ করে শ্যালো মেশিন দিয়ে ঘনঘন সেচ দিতে হচ্ছে। কিন্তু এতেও কাজ হচ্ছে না। সকালে সেচ দিলে বিকালে শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই এবার ভাল ফলন পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পশ্চিম চন্দ্রপাড়া গ্রামের চাষী খালেক হাওলাদার বলেন, এবার পাটচাষ করে চরম সমস্যায় আছি। তীব্র দাবদাহ ও খরায় পাটক্ষেতে বাড়তি সেচ দিতে গিয়ে ডিজেল কিনে কুল কিনারা পাচ্ছিনা। বৃষ্টির কোন দেখা নেই এক থেকে দেড় মাস যাবত। শ্যালো মেশিন দিয়েও ঠিকভাবে পানি ওঠেনা, খরার কারণে পাতাল থেকে ঠিকমত পানি উঠে না। আবার অনেক সময় পানি উঠাতে ব্যর্থ হই। এমন অবস্থা চলতে থাকলে তাহলে আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব। আল্লাহ যদি একবার মেঘ (বৃষ্টি) দেয় তাহলে হয়তো ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পাবো।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিটুল রায় বলেন, সদরপুরে এবার প্রায় ৭ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। এই পর্যন্ত পাটের তেমন ক্ষতির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। তীব্র খরায় পাট গাছগুলো কিছুটা ধীরগতিতে বেড়ে ওঠছে। তবে আরও এক সপ্তাহ পরেও যদি বৃষ্টি নামে, তাহলে মাত্র ৭-৮ দিনেই পাটগাছ মানুষ সমান বেড়ে ওঠবে। তিনি আরও বলেন, জেলাব্যাপী মাঠে কাজ করছে আমাদের টিম। ভাল মানের পাট উৎপাদনের লক্ষে সব সময় কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এমএসএম / এমএসএম
টুঙ্গিপাড়া ফিলিং স্টেশনে তেল কম দেওয়ায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, বাজার মনিটরিং জোরদার
যশোর জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত, আইন-শৃঙ্খলা জোরদারে নানা নির্দেশনা
নাচোলে বন্ধ থাকা পেট্রোল পাম্প চালুর দাবিতে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
বাগেরহাটে তথ্য অধিকার ও জবাবদিহিতা বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
নরসিংদীতে অ্যাথলেটিকস প্রশিক্ষণের উদ্বোধন, অংশ নিচ্ছে ৪০ শিক্ষার্থী
আত্রাইয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
রাজশাহীতে পরিত্যক্ত আ.লীগ কার্যালয়ের জায়গায় ‘অর্পিত সম্পত্তি’র সাইনবোর্ড
রায়গঞ্জে ইটভাটায় অভিযানে দুই ভাটায় ৯ লাখ টাকা জরিমানা
শ্রীমঙ্গলে পুলিশের জালে ৪ ছিনতাইকারী
যশোরে বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা ওয়ারেন্ট থাকায় আদালত চত্বরেই বাদী আটক
জনতার হৃদয়ে এখনো ‘মিঠু’: অসুস্থতা জয় করে ফের মাঠে, কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত সাবেক চেয়ারম্যান
মাগুরা শহরের যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নবনিযুক্ত পুলিশ সুপারের বিশেষ অভিযান