ঢাকা মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

বাঘা উপজেলার বাউসা ইউপিতে ভিজিডি কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম


বাঘা প্রতিনিধি photo বাঘা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৭-৮-২০২১ দুপুর ৩:৩৯

অন্যের জমিতে জরাজীর্ণ একটি বাড়ি। অসুস্থ বাবা, প্রতিবন্ধী (অবিবাহিত) বোন, মা,  স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে মোট ৭ সদস্যের জাহিদুলের সংসার। জীর্ণশীর্ণ বাড়িতেই কাটছে তাদের জীবন। চক্ষুলজ্জায় অন্যের কাছে হাত পাততে পারেন না। ৭ সদস্যের এই পরিবারে একমাত্র উপার্জনশীল ছেলে জাহিদুল। সেও শারীরিকভাবে অসুস্থ।  আয়ের একমাত্র সম্বল বলতে রয়েছে ব্যাটারিচালিত একটি ভ্যানগাড়ি। শরীর সুস্থ না থাকায় জাহিদুল ঠিকমতো ভ্যান চালাতেও পারেন না। তবে যা রোজগার হয় তা দিয়েই কোনোমতে চলে তাদের সংসার। হঠাৎই একদিন জাহিদুলের মনে হয় টানাপড়নের সংসারে যদি সরকারি কোনো সুবিধা পাই তবে একটু উপকার হয়। ওই ভাবনা থেকেই তিনি যোগাযোগ করেন স্থানীয় এক গ্রামপুলিশের সাথে। ওই গ্রামপুলিশের সহযোগিতায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে ভ্যানচালক জাহিদুলের বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। জাহিদুল ইসলাম রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেঁতুলিয়া জুলাপার গ্রামের মসলেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। 

জানা যায়, ভিজিডি কার্ড প্রদানের জন্য ভিটেমাটিহীন ভ্যানচালক জাহিদুল ও তার স্ত্রীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেয়া হয়। অবশেষে ভিজিডি কার্ড সম্পন্ন হয়। ওই কার্ডধারীর নাম মোসা. পলি আক্তার (৩২), স্বামী জাহিদুল ইসলাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ১৯৮৮৮১১১০২৩৩৩৮১৭৯ ব্যবহার করা হয়, যা ভুক্তভোগী জাহিদুলের স্ত্রীর নয়। ভিজিডি কার্ড নং- বাউসা/০৯/৩৪। বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা/প্রোগ্রাম অফিসার পঙ্কজ কুমার দাস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত ভিজিডি কার্ডের উপকারভোগীর তালিকাভুক্তি করা হয় ২৭/১২/২০২০ইং তারিখে এবং কার্ড বিতরণ করা হয় ৩০/১২/২০২০ইং তারিখে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম বলেন, কার্ডটি আমার বলে প্রথম দফায় ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্দ আলী আমাকে চাল দেন। ওই দিন আমি বাড়িতে চলে আসি কিন্তু পরদিন সকালেই গ্রামপুলিশ পাঠিয়ে চাল ফেরত চাওয়া হয়। আমি চাল ফেরত না দিলে মেম্বর আমাকে বলে এই কার্ড তোমার নয়, কার্ডটি তেঁতুলিয়া কান্দিপাড়ার মৃত জমশেদ আলীর ছেলে জাহিদুলের। প্রত্যুত্তরে জাহিদুল মেম্বারকে বলেন, কার্ড আমার না হলে কর্ডের ওপর আমার স্ত্রীর ছবি কেন?

ভ্যানচালক জাহিদুল অভিযোগ করে বলেন, গত ১৮ আগস্ট আমি কাউন্সিলে যাই এবং আমার ভিজিডি কার্ডের চাল দাবি করলে আমার ওপর চড়াও হয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দেন এই ইউপি সদস্য। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আওয়ামীপ্রেমী ৩ জন প্রবীণ ব্যক্তি জাহিদুলের হয়ে সুপারিশ করতে গেলে বাউসা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক দাম্ভিকতার সাথে তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেন। আটটি মাস অতিবাহিত হলেও কপালের ফেরে অসহায় পরিবারটির ভিজিডি কর্ডটির হয়নি কোনো পরিবর্তন ও সংশোধন। এদিকে কার্ডধারী জাহিদুল একজন সচ্ছল ব্যবসায়ী বলে জানা যায়। অনুসন্ধানে আরো

জানা যায়, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই সরকারি অনুদানের ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানে রয়েছে অসংগতি। সরকারি সকল সুবিধা টাকায় বিক্রি হচ্ছে- এমনটাই  গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে কিছু লোকজনের কাছে।

স্থানীয় সচেতন মহল জানান, মোহাম্মদ মেম্বার সকল জায়গায় শুধু টাকা ছাড়া কিছুই বোঝে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বয়স্ক মহিলা বলেন, আমার স্বামী নেই, আমি খুব অসহায় মানুষ। আমার বয়স্ক ভাতার কার্ড করার জন্য এই মোহাম্মদ মেম্বর ৩ হাজার টাকা নিয়েছে। 

স্থানীয় একজন ব্যাক্তি প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ের জন্ম নিবন্ধন কার্ড সংশোধন করার জন্য ২০০ টাকা নিয়েছে এই মেম্বার কিন্তু কোনো কাজ করে দেয়নি।  এরকম অনেক অভিযোগ রয়েছে এই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। 

উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী অস্বীকার করে বলেন, এই ভিজিডি কার্ড আমার মাধ্যমে করা হয়নি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে করা হয়েছে। তাই এ বিষয়ে আমি তেমন কিছুই জানি না।  

এ বিষয়ে বাউসা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক ভিজিডি কার্ডের অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, একটু গড়মিল হয়ে গেছে। দ্রুত সংশোধন করে দেব। তবে ওই কার্ডের সুবিধা ভোগ করছে স্থানীয় সাইদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। 

ভিজিডি কার্ডের সুবিধাভোগী সাইদুল ইসলাম বলেন, জমশেদের ছেলে জাহিদুলের স্ত্রীর নামে যে ভিজিডি কার্ড রয়েছে আমি সেই কার্ডের সুবিধা ভোগ করি। আমি এই কার্ডের বিনিময়ে তেঁতুলিয়া নওদাপাড়া গ্রামের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লালাকে নগদ ৪ হাজার টাকা দিয়েছি। সাইদুল ইসলামের পাকা ইটের বাড়ি, সচ্ছল জীবনযাপন করে আসছেন বলেও জানান।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পঙ্কজ কুমার দাস মুঠোফোনে বলেন, এ ব্যাপারে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বররা ভালো জানেন। আমার অফিসে সকল ডকুমেন্ট রয়েছে।

সকলেই দায়িত্বপূর্ণ জায়গা থেকে এড়িয়ে গেলেও চলমান এ সকল অসংগতির দায় কার?  জানতে চোখ রাখু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনর আগামী পর্বে।

এমএসএম / জামান

শ্রীমঙ্গলে শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু আশ্রম ও মিশন পরিদর্শনে ভারতের সহকারী হাই-কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস

৩১৫ কেজি পলিথিন জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মাদকসেবনের দায়ে যুবকের জেল-জরিমানা

সমবায়ের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান, কাউনিয়ায় বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত

রাজস্থলী বাঙ্গালহালিয়া সঙ্গীত নিকেতন এর বার্ষিক সঙ্গীত সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

শিবচরের পাঁচ্চর বাজারে অভিযান, ১৬ হাজার টাকা জরিমানা

মাদারীপুরে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেফতার

রাণীশংকৈলে ৩দিন ব্যাপি কৃষি-প্রযুক্তি মেলা

বটিয়াঘাটা সালেহা হত্যা মামলার পলাতক আসামি সিজার গ্রেফতার

মাগুরায় ১৫০ মিটার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন, মনোয়ার হোসেন

শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'চেষ্টা'র উদ্যোগে দুই গৃহহীন নারী পেলেন বাড়ি

নওগাঁ জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন

নন্দীগ্রামে মাদক ও ওয়ারেন্ট মূলে গ্রেফতার ৭