ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

জনবল সংকটে বারহাট্টায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত, ভোগান্তিতে রোগীরা


নিজস্ব সংবাদদাতা photo নিজস্ব সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ২৫-১০-২০২৪ দুপুর ৩:৫১

কর্তৃপক্ষের উদাসীন মনোভাব, জনবল সংকট ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নেত্রকোনার বারহাট্টার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। ডাক্তার সংকট, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি বিকল, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পানি সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি তিন বছর আগে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ করা হয়। সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-২ (বারহাট্টা-নেত্রকোনা সদর) আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ আলী খান খসরু ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করলেও নতুন ভবনটিতে এখন পর্যন্ত রোগী স্থানান্তর করা হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন উপজেলার সাত ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা প্রায় দুই লাখ মানুষ। ইতোমধ্যে নবনির্মিত ভবনটির কিছু কিছু জায়গায় রং উঠে পুরাতন আকৃতি ধারণ করেছে। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে নবনির্মিত ভবনের তিনতলা ফ্লোরটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে ইসিজি, এক্সে-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় পুরুষ রোগীদের ইসিজি করেন ওয়ার্ডবয়। তবে মহিলা রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে ইসিজি করতে হয়। কাগজ-কলমে হাসপাতালটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও কার্যক্রম চলছে ৩১ শয্যার চিকিৎসক ও জনবল দিয়ে।

হাসপাতালের দেয়া তথ্যসূত্রে জানা গেছে, নিয়মানুযারী একটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে মোট ২৮ জন চিকিৎসক থাকার কথা। এরমধ্যে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এবং একজন করে জুনিয়র কনসালট্যান্ট শিশু, গাইনি, কার্ডিওলজি, অ্যানেসথেশিয়া, দন্ত, চক্ষু, ইউনানি, চর্ম ও যৌনসহ মোট ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এছাড়াও ১৭ জন মেডিকেল অফিসার, ৩১ জন সেবিকা (নার্স), ৭৩ জন তৃতীয় শ্রেণির এবং ২৮ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৭ জন ডাক্তার কর্মরত। এরমধ্যে দুজন ডাক্তার ডেপুটেশনে আছেন অন্য হাসপাতালে। ৩১ জন সেবিকার (নার্স) মধ্যে কর্মরত ২২ জন। এরমধ্যে ডেপুটেশনে আছেন একজন। বহুদিন ধরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির অনেক পদই খালি পড়ে আছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালের ৩১ শয্যাবিশিষ্ট পুরাতন বিল্ডিংটিতে রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে, মেঝেতেও জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আলাদা স্থানে রাখার নিয়ম থাকলেও জায়গা সংকটের কারণে অন্যান্য সাধারণ রোগীর সাথে মেঝেতেই জায়গা করে দিয়েছেন কর্তব্যরত সেবিকারা। হাসপাতালে সর্বরাহকৃত খাবারের মান নিয়েও রোগীদের অভিযোগ থাকলেও তা আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে ওষুধের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা গরিব রোগীরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করে বলেন, এর আগে নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মমেক) ওপর নির্ভরশীল ছিলেন এই উপজেলার মানুষ। জনসংখ্যা এবং ভৌগলিক অবস্থা বিবেচনায় বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে তিন বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়নি। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।

তারা আরো বলেন, অপ্রতুল চিকিৎসক ও  রোগ নির্ণয়ের ন্যূনতম সুবিধা না থাকার কারণে রোগীদের ময়মনসিংহ হাসপাতালে রেফার করার প্রবণতা প্রচুর। হাসপাতালে কিছু ওষুধ পাওয়া গেলেও বাকি সব বাইরে থেকে কিনতে হয়। রোগীর সংখ্যা বেশি থাকলেও বেড সংকট থাকার কারণে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়।

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাহতা গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এখানে চিকিৎসা নিতে এলে রোগীর অবস্থা একটু জটিল হলেই ডাক্তাররা ভালোভাবে পরীক্ষা না করেই ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠিয়ে দেন। আর ওষুধের বিষয়ে যদি বলি, ডাক্তারের লেখা বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে বলেন তারা। হাসপাতালে শুধু অল্প দামের স্যালাইন, প্যারাসিটামল, অ্যান্টাসিড ও অল্প কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। বাকি সব ওষুধ বাইরে থেকেই কিনতে হয়।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী সাইফুল আহমেদ বলেন, আমি বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তারের দেয়া বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে। আমরা যারা নিম্নআয়ের জনগণ, আমরা চাই সরকারি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হতে। কিন্তু আমরা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাই না। তাহলে আমরা সাধারণ জনগণ কিভাবে চিকিৎসা করাব?

হাসপাতালের নতুন ভবনে উন্নত বিছানা থাকতে পুরাতন ভবনে মেঝেতে নোংরা বিছানায় রোগীদের কেন রাখছেন এবং নতুন ভবনে কবে নাগাদ রোগীদের স্থানান্তরিত করা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোগীর চাপ অনেক বেশি তাই মেঝেতে জায়গা দিতে হচ্ছে। জনবলের অভাবে ৫০ শয্যার নতুন বিল্ডিংয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের পরও আমরা সেখানে যেতে পারছি না। জনবল সংকটসহ নানা সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই সংকট কেটে যাবে। তবে কম জনবল নিয়েও ভালো ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

T.A.S / জামান

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত ১, বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জে সওজের দখলকৃত জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে: নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম

কুমিল্লায় মেঘনা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচল বন্ধ

হালদা নদীর প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষায় হাটহাজারী মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযান

চৌগাছায় লেপ তোশকের গোডাউনে আগুন প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি

বাগেরহাটে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ বিত্রেুতা গেফতার

আদমদীঘি প্রেসক্লাবে বিএনপি নেতার মতবিনিময়

বাজেটকে কেন্দ্র করে পাবনায় আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

সাংবাদিকদের দেখেই ক্ষেপে গেলেন,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সুমী আক্তার

রায়গঞ্জে নারী অধিকার ও জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় মতবিনিময় সভা

প্রবাসীদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগটন "নয় বাড়ীয়া ফোরাম"র নতুন কমিটি ঘোষণা

লামায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

শালিখায় গঙ্গাদেবীর পূজা ও গঙ্গা স্নানের মেলা অনুষ্ঠিত