ঢাকা মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

বেনাপোল পৌরসভার দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড প্রকৌশলী মোশারফ


সুমন হোসাইন, শার্শা photo সুমন হোসাইন, শার্শা
প্রকাশিত: ২৯-১০-২০২৪ বিকাল ৫:৭

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একে একে বের হচ্ছে বেনাপোল পৌর কর্তৃপক্ষের লাগামহীণ অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র। এসব অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোশারফ হোসেন। অন্তর্বর্তী সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে বর্তমানে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

অতিরিক্তি অর্থ গ্রহণপূর্বক পৌর এলাকার বাসিন্দাদের নতুন ভবন নির্মাণকাজের অনুমোদন প্রদান, অর্থ আদায়ের কৌশলপূর্বক বেনাপোল পৌরসভার নিবন্ধিত প্রকৌশলী ছাড়া অন্য প্রকৌশলীর দেয়া বাড়ি তৈরির নকশা গ্রহণ না করা, বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে পৌরসভার ধার্যকৃত ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা আদায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিল আটকে দিয়ে কমিশন গ্রহণসহ ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে সহায়তা করা এবং পৌর এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন চলমান কাজে কৌশলে বাধা প্রয়োগ করে অর্থ আদায়, উৎকোচপ্রাপ্তিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ নির্মাণাধীন কাজের সিডিউল মোতাবেক কাজ বুঝে না নেয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রকৌশলী মো. মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে।

পৌরসভার নিজেস্ব অর্থায়নে নির্মিত উন্নয়ন ও সংস্কারকাজের প্রকল্পে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে প্রকৌশলী মোশারফের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ ও পৌর এলাকার ২২ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন সম্প্রসারণ ও পানির মিটার স্থাপন কাজের বিনা রসিদে পৌর নাগরিকদের কাছ থেকে পানির সংযোগ ফি বাবদ পৌরসভার নামে টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে পৌর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও দীঘিরপাড় ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজিম উদ্দিন গাজীর সাথে কথা বললে বিনা রসিদে এবং পৌর কর্তৃপক্ষের রেজুলেশন ছাড়া পানির লাইনের সংযোগ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের সত্যতা মেলে। এমনকি প্রকৌশলী মোশারফের দেয়া পরিকল্পনামাফিক সাবেক মেয়ররা কাউন্সিলরদের মতামত ছাড়াই সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন বলে জানা গেছে। বেনাপোল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে থাকাবস্থায় বেনাপোল পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ, সড়কবাতি স্থাপন, ড্রেন, ডিভাইডার ও ফুটপাথ নির্মাণসহ যত কাজ হয়েছে, তা নিন্মমানের ও কোনোটাই টেকসই হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ জানান।

প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও পানির লাইনের সংযোগপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনকারী নারায়ণপুর গ্রামের মহাসিন পৌর এলাকার এক হাজারের অধিক গ্রাহকের কাছ হতে বিনা রসিদে ৩০০ টাকা করে নেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ৫ আগস্ট-পরবর্তী ৫৫ হাজার টাকা প্রকৌশলী মোশারফের কাছে জমা দিয়েছেন। পানির লাইনের সংযোগপ্রত্যাশীদের টাকা তার কাছে জমা রাখার কারণ জানতে চাইলে প্রকৌশলী মোশারফ তা অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঝিকরগাছা উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকৌশলী মোশারফ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ছত্রছায়ায় বেনাপোল পৌরসভাকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করে কালো টাকার পাহাড় গড়লেও তার হয়রানি ও নির্যাতনের ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন না ভুক্তভোগী পৌর নাগরিকরা।

অভিযোগের বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাজিব হাসান জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের মো. আব্দুল গফুর প্রামাণিকের ছেলে মোশারফ চাকরির সুবাদে ২০০৯ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বেনাপোল পৌরসভায় যোগদান করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অনেকটাই আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো রাতারাতি ভোল পাল্টে বনে যান প্রচুর সম্পদ ও অর্থবিত্তের মালিক। বিদেশে নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় নিজের ছেলেকে পাঠিয়েছেন কানাডা। লবিং করে বদলি ঠেকিয়ে একই কর্মস্থলে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান করে দুর্নীতিগ্রস্ত সাবেক মেয়রদের দোসর হয়ে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। প্রকৌশলী মোশারফের নিজ এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করা ও রাজধানীর সাভার এলাকাসহ অন্য এলাকায় একাধিক বিলাসবহুল বহুতল ভবন থাকার গুঞ্জন রয়েছে, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সুষ্ঠু তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে প্রকৌশলী মোশারফ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান। সম্পদ বিবরণীর হিসাব জানতে চাইলে তিনি সংযোগ কেটে দেন।

দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এই প্রকৌশলীর অফিসিয়াল সকল কর্মকাণ্ডের পুনঃতদন্ত দাবি করেছে এলাকাটির সুশীল মহল।

বেনাপোল পৌরসভার অধীন কাস্টমস হাউস, স্থলবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন, হাট-বাজার, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক হোটেল, বাস ও ট্রাক টার্মিনালসহ নানা স্থাপনা রয়েছে, যেখান থেকে একটি বড় অঙ্কের কর জমা হয় পৌরসভায়। দেশের অন্যান্য পৌরসভার তুলনায় বেনাপোল পৌরসভার আয় বেশি হলেও কমেনি জনসাধারণের ওপর আরোপিত কর।

T.A.S / জামান

শ্রীমঙ্গলে শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু আশ্রম ও মিশন পরিদর্শনে ভারতের সহকারী হাই-কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস

৩১৫ কেজি পলিথিন জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মাদকসেবনের দায়ে যুবকের জেল-জরিমানা

সমবায়ের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান, কাউনিয়ায় বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত

রাজস্থলী বাঙ্গালহালিয়া সঙ্গীত নিকেতন এর বার্ষিক সঙ্গীত সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

শিবচরের পাঁচ্চর বাজারে অভিযান, ১৬ হাজার টাকা জরিমানা

মাদারীপুরে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেফতার

রাণীশংকৈলে ৩দিন ব্যাপি কৃষি-প্রযুক্তি মেলা

বটিয়াঘাটা সালেহা হত্যা মামলার পলাতক আসামি সিজার গ্রেফতার

মাগুরায় ১৫০ মিটার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন, মনোয়ার হোসেন

শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'চেষ্টা'র উদ্যোগে দুই গৃহহীন নারী পেলেন বাড়ি

নওগাঁ জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন

নন্দীগ্রামে মাদক ও ওয়ারেন্ট মূলে গ্রেফতার ৭