হালদা রক্ষা বাঁধ
কাজ শেষের আগেই ধসে পড়ছে ১৫৭ কোটি টাকার প্রকল্প
বিশ্বের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর তীর রক্ষা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ১৫৭ কোটি টাকার সিসি ব্লক প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই নানা অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের ফলে ধসে গিয়ে হালদায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখব, দেখছি বলে ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে সময় ক্ষেপণ করছে, যাতে মোটা কমিশন নিয়ে ঠিকাদারের বিল পাস করে দিতে পারে। এতে প্রকল্পের বারোটা বাজলেও যেন কিছুই হয়নি ভাবেই রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতির ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিন বছর মেয়াদি ১৫৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে ভূক্তভোগীরা জানান, কয়েক দিন আগে সমিতিরহাট-রোসাংগীরি হাজীপাড়া এলাকায় প্রকল্পের সিসি ব্লকগুলো ধ্বসে পড়েছে। তারও আগে গত বছর নাজিরহাট নতুন ব্রিজের পশ্চিম পাশে এবং সুয়াবিল মন্ধাকিনী খালের সংযোগ এলাকায় ব্লক ধসে পড়েছে। দেখা গেছে, সিসি ব্লকগুলো ধসে পড়েছে হালদা নদীর বুকে, ছিঁড়ে গেছে ব্লকের নিচে বসানো জিও টেক্সটাইল। ব্লক স্ল্যাপের স্থানে ইটের কনা আর বালুর পরিমাণ খুবই কম। এ বিষয়ে স্থানীয় জনসাধারণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এহসান অ্যান্ড জামান (জেবি)-এর ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল প্রকৌশলীদের অবহেলার অভিযোগ তোলেন। হালদাপাড়ের মানুষেরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
হালদাপাড়ের বাসিন্দা নাজমা খাতুন (৬৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হালদা নদী থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি নিয়ে আইল বেঁধে তার ওপর দিয়ে কোনোমতে ব্লক বসাচ্ছে।
সমিতিরহাট ইউপি সদস্য মো. আইয়ুব অভিযোগ করে জানান, সিসি ব্লকগুলো স্থাপনের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আমরা অভিযোগ করেছিলাম। বলেছিলাম, নদী থেকে তোলা মাটিগুলো শক্ত হওয়ার আগে যাতে ব্লক না বসায়। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কর্ণপাত না করেই ব্লক স্থাপন করে, যার ফলে এগুলো হালদার বুকেই আবার ধসে পড়ছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার আগে এভাবে ব্লক ধসে পড়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নদীর ভাঙন ঠেকাতে বাঁধ, বাঁধের ভাঙন ঠেকাবে কে?
এছাড়া বাইরে থেকে মাটি কিনে খালের বাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। এস্কেভেটর দিয়ে নদী-খালের কাছাকাছি ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করায় বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে যেমন প্রশ্ন আছে, অন্যদিকে চাষের সক্ষমতা হারাচ্ছে ফসলি জমিগুলো। অথচ এই প্রকল্পের প্রতি ঘনফুট মাটির জন্য ১৭ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কৃষকদের কোনো টাকা না দিয়ে জমির মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছে ঠিকাদার। তাছাড়া ওই সব জমি থেকে নিয়ম না মেনে মাটি কাটা হয়েছে। ফলে ওই সব জমিতে আর কোনো চাষাবাদ করা যাবে না বলে জানান স্থানীয় চাষিরা। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও কামনা করেন তারা।
সিসি ব্লক ধসে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকোশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা জানান, হালদা নদী ও ধুরংখালের তীর রক্ষা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান। আমরা এ কাজের জন্য এখনো কোনো বিল পরিশোধ করিনি। ধসে পড়া সিসি ব্লকগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় ঠিক করে না দেয়া পর্যন্ত আমরা কাজ বুঝে নেব না বা বিলও পরিশোধ করব না। স্থানীয় সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী হালদা নদী ও ধুরংখালের তীর রক্ষা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের বিষয়ে কাজের মান শতভাগ ঠিক রাখতে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে জন প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি টিম গঠন করে দিয়েছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
তদন্ত কমিটির বিষয়টি স্বীকার করে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিনুল হাসান বলেন, হালদা রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের অনিয়ম দেখভালের জন্য গত বছর একটি কমিটি করা হয়েছে। তবে আমি এখানে যোগদান করেছি বেশিদিন হয়নি। তাই এখনো পরিদর্শনে যেতে পারিনি। ওই কাজে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তবে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রকল্প কাজে সামান্য অনিয়ম হয়েছে স্বীকার করে হাটহাজারী সার্কেলের দায়িত্বে থাকা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, পুরো কাজের মধ্যে সামান্য কিছু জায়গায় সিসি ব্লকগুলো দেবে গেছে। তবে আমরা তাদের বলেছি এগুলো ঠিক করে দেয়ার জন্য।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চট্টগ্রাম, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলায় হালদা নদী ও ধুরংখালের তীর রক্ষা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ১৫৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরমধ্যে রয়েছে- ৪৬ কিলোমিটার মাটির বেড়িবাঁধ ও ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সিসি ব্লকের বাঁধ নির্মাণ। এরমধ্যে ৩৮ পয়েন্টে সিসি ব্লকের জন্য ১০৮ কোটি টাকা হালদা নদীতে এবং ১৩ পয়েন্টে ২৫ কোটি টাকা ধুরুংখালে বাকি টাকা বেড়িবাঁধের জন্য বরাদ্ধ দেয় সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সিসি ব্লক স্থাপনের ৬টি প্যাকেজে কাজ করছে রয়েল অ্যাসোসিয়েটস ও এমএম বিল্ডার্স (জেভি) ২টি, রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং, গোলাম রব্বানি, এসএএসআই ও আলম ব্রাদার্স ১টি করে। বেড়িবাঁধের ৬টি প্যাকেজ পেয়েছে আহসান-খলিল ও জামান-খলিল (জেভি) ২টি করে ৪টি, আহসান–জামান (জেভি) ১টি ও রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং ১টি। পানি উন্নয়ন বোর্ড তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও প্রকল্প এলাকায় বেশকিছু কাজ দৃশ্যমান হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে সিসি ব্লকগুলো ধসে পড়তে দেখা গেছে।
জামান / জামান
ত্রিশালে নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রাক-প্রস্তুতি সভায় সংস্কৃতি মন্ত্রী
লালমাই পাহাড়ের ‘সিলগালা’ কূপ ঘিরে রহস্য- ২০০৪ সালে গ্যাসের সন্ধান, কৌতূহলে স্থানীয়রা
দৌলতখানে সাজেদা ফাউন্ডেশনের 'স্টপ দ্য স্টিগমা ২.০' প্রকল্পের লার্নিং শেয়ারিং মিটিং অনুষ্ঠিত
কালকিনিতে জেলেদের চাল নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের চালবাজী!
সুন্দরবনে চোরাশিকারীদের কবল থেকে ২ হরিণ উদ্ধার, বনে অবমুক্ত
হাতিয়ায় নিখোঁজ শিশুর ভাসমান লাশ উদ্ধার
রেক্টিফাইড স্পিরিট পানে বিষক্রিয়া ও মৃত্যু প্রতিরোধে মেহেরপুরে সেমিনার অনুষ্ঠিত
মধুখালীতে নওপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান আটক
ধামইরহাট পৌরসভার রূপকল্প ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
শার্শায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২
পিরোজপুরে শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
গ্রাম পুলিশ নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ইউপি সদস্য