ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

ধোবাউড়ায় বিএনপি পরিচয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা

শিশু বৃদ্ধকে তালাবদ্ধ করে ঘরে আগুন


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩-২-২০২৫ দুপুর ৩:৫৬

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার লাঙ্গল জোড়া গ্রামের বয়োবৃদ্ধ শফিকুল ইসলাম ও তার অসুস্থ বয়োবৃদ্ধা স্ত্রী এবং তাদের বাসায় অবস্থান করা নাতি নাতনী ৩ শিশু সন্তানকে ঘরে বন্দী রেখে বাহিরে থেকে তালাবদ্ধ করে পেট্রোল ঢেলে ঘরে আগুন দিয়েছে ওই গ্রামের উশৃংখল একটি আগুন সন্ত্রাসী চক্র। ১৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের সময় সন্ত্রাসীরা এই জঘন্য কাজ করলে তাদের সামনে কোন লোক আগুন নিবারণের জন্য এগিয়ে আসতে সাহস করেনি। আবাসিক বসতি ওই বাড়ির একটি অংশ পুড়তে থাকলে প্রতিবেশী কোন লোকে ফোন পেয়ে স্থানীয় ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঘরে থাকা বন্দীদের উদ্ধার করে। বন্দীদের উদ্ধার করতে ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা সন্ত্রাসীদের বাঁধার সম্মুখীন হয়।

আগুন সন্ত্রাসীদের পরিচয় সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায় মুসাব্বির হাসান মেহেদী ঢাকা কলেজের ছাত্র এবং ধোবাউড়া উপজেলার সমন্বয়ক তার পিতা সোহাগ তালুকদার স্থানীয় বিএনপির নেতা পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেই তাদের সঙ্গীদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। অন্য অন্য সন্ত্রাসীদের নাম সুজন রাজন ও সুমন। এদের মধ্যে সুমন ছিলো আওয়ামী সন্ত্রাসী দলের নেতা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সরকার উন্নয়ন মূলক কাজ কন্টাক্ট নিয়ে সেই কাজ অর্ধেক বা আংশিক করে সরকারি পুরো বিল উত্তলন করে আত্মসাৎ করছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে সুমনের নামে একাধিকবার অভিযোগ জমা পরেছিলো। আওয়ামী সন্ত্রাসী দলের মদদদাতা হওয়ায় অতীতের সরকারের আমলের সুমনকে বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে দৈনিক সকালের সময় ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করছে দৈনিক সকালের সময়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলছেন এলাকার লোকেরা যদি বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারে তাহলে দু'পক্ষের জন্যই ভালো হয়। তিনি বলেন, কিছু দিন আগে নরসিংদির কাদির মোল্লা স্কুলের এক ছাত্র আত্মহত্যা করছে, সেই আত্মহত্যার ঘটনার সাথে কিছু মানুষের আবেগ থেকে হিংস্রতার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা সেই হিংস্রতার বহিঃপ্রকাশ। আইনের কাছে তো আবেগ আর বাস্তবতা ভিন্ন। আমার কাছে কোন লিখত অভিযোগ আসলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এসআই মিলনের বরাদ দিয়ে ওসি বলছেন গতকাল আমি ময়মনসিংহ ছিলাম। খোঁজ পেয়ে আমি ফোর্স পাঠিয়েছিলাম। ভুক্তভোগীর দেয়া লিখিত অভিযোগ এসআইর কাছে আছে হয়তো। বিষয়টি আজ আমি দেখবো। এর পরে থানার এসআই মিলন সকালের সময়ের এই প্রতিবেদকের সাথে টেলিফোনে আলাপ কালে জানিয়েছেন ওই এলাকায় আমি কর্তব্যরত থাকায় ঘটনার টের পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের হাত থেকে শফিকুল ইসলাম তালুকদারকে উদ্ধার করে থানায় নিরাপদে নিয়ে এসেছিলাম। থানায় অবস্থানকালে শফিকুল ইসলাম তালুকদার একটি মামলার আবেদন করছে। মামলাটি তদন্তের জন্য থানা থেকে আমাকেই দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

হামলাকারীদের ব্যাপারে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানাযায়, হামলায় নেতৃত্ব দেয়া মাহামুদুল হাসান সোহাগ আওয়ামী সরকারের আমলে উগ্রপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলো। তার ছেলে মেহেদী হাসান ঢাকা কলেজে পড়ালেখা করছে সেই সুবাদে ছেলে এলাকায় কখনও ছাত্রদলের নেতা কখনও ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দেয়। মেহদীর চাচা লাঙ্গলজোড়া এলাকার লোক গিয়াস উদ্দিনের তিন ছেলে সুজন রাজন সুমন আওয়ামী সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত। সুমন সবসময় এলাকায় থাকে না, তবে সে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশ কিছু সরকারি প্রজেক্টে কাজ করে বহু উপায়ে অবৈধভাবে অর্থসম্পদের মালিক হয়েছে। সুমন অধিকাংশ সময় গাজীপুরের কালীগঞ্জে ও কালিয়াকৈরে থাকে। এখন তিনি সরকারি কোন প্রজেক্টে ঠিকাদারি করে কিনা তার সত্যতা মেলেনি। ধোবাউড়া লাঙ্গলজোড়ার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বাড়িতে আগুন দেয়া ও তাদের ওপর হামলা করার সাথে জড়িত কি-না জানতে চাইলে সুমন বলেন- আমার মোবাইল নাম্বার পেলেন কোথায়? এমন একটা ঘটনা কিছু কিছু শুনছিলাম। পুরোপুরি জেনে আপনাকে জানাবো। এর পরে একাধিকবার তার মোবাইলে যোগাযোগ করলে কোন সারা দেয়নি। মন্তব্য জানতে অন্য হামলাকারীদের সাথে যোগাযোগ করলে হামলাকারীরা ফোন গ্রহণ করেনি।

আহত ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম সকালের সময়কে বলছেন আমি আমার পরিবার নিয়ে বাঁচতে চাই। আমাদেরকে বাঁচান। সন্ত্রাসীরা আমাদেরকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি অভিযোগের বর্ননা দিয়ে বলে, গত ১৭ ডিসেম্বর স্থানীয় রাজন নামের এক সন্ত্রাসী এসে আমার ছেলে তপনকে ২৪ ঘন্টার আলটিম্যাডাম দিয়ে বলছে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবি। পরের দিন ১৮ ডিসেম্বর  সকাল ১১ টায় সোহাগ নামের আরেক সন্ত্রাসী ও তার ছেলে মেহেদী আমার নিরীহ ছেলে তপনকে হুমকি দিয়ে দুই ঘন্টার মধ্যে বাড়ি ছাড়বি, যদি না ছারস মেরে ফেলব আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলবো কেটে টুকরা টুকরা করে ফেলবো, তার কয়েক ঘণ্টা পরে এসে বাসায় লাঠি সোটা  দাঁড়ালো অস্ত্র নিয়ে গেট ভেঙে আমার উপর হামলা করেছে পরে আশেপাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করেছে, ওই সন্ত্রাসীর তখন আমাদের বসতি ঘরে তালা দিয়ে চলে যায়। পরের দিন ১৯ ডিসেম্বর ধোবাউড়া লাঙ্গলজোড়া আমাদের গ্রামের বাড়িতে বাহির থেকে তালাবদ্ধ করে আমাদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে। বন্দী ঘরে আমি ও আমার অসুস্থ স্ত্রী এবং আমার ছেলে তপন তালুকদার ও তার স্ত্রী এবং বাসায় অবস্থান করা নাতি নাতনী ৩ শিশু সন্তান ছিলো। আমাদেরকে ঘরে বন্দী রেখে বাহিরে থেকে তালাবদ্ধ করে পেট্রোল ঢেলে ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে তখন রাত আনুমানিক ৩টা। সন্ত্রাসীরা আগুন দেয়ার পরে প্রতিবেশীরা আমাদের উদ্ধারে সাহায্য করতে আসলে সন্ত্রাসীরা তাতে বাঁধা দিয়েছে। বাড়ির একটি অংশ পুড়তে থাকলে প্রতিবেশীদের ফোন পেয়ে স্থানীয় ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঘরে থাকা বন্দীদের উদ্ধার করে। বন্দীদের উদ্ধার করতে ফায়ারসার্ভিস কর্মীরাও এই সন্ত্রাসীদের বাঁধার সম্মুখীন হয়। সোহাগ তালুকদার গং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে তিনিও পরিবর্তন হয়ে এখন বিএনপির নেতা পরিচয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি ডাকাতি ছিনতাই করে। তাদের প্রভাবে এলাকা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে থাকে। এই মুহূর্তে আমরা মৃত্যুর মুখে আছি। যেকোন মুহূর্তে তারা আমাদেরকে হত্যা করবে।

আত্মীয় স্বজন সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেছে ধৈর্য ধরতে সমাধান করে দিবে, আমরা দের মাস অপেক্ষা করলাম, কিন্তু তারা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে, দের মাস অপেক্ষা করার পর আত্মীয়-স্বজনেরা বলেছে যে ওরা বিএনপির নেতা। ওরা আমাদের কথা শুনছে না। ওরা কারো কথাই শুনতে চায় না, এমনকি পুলিশ প্রশাসনকেও ভয় পায় না। ওদের টাকার গরমে বেশি উশৃঙ্খলা হয়ে গেছে এখন আমাদের কিছুই করার নাই তোমরা আইনের আশ্রয় নেয়া ছাড়া। ফেব্রুয়ারীর ২ তারিখে আমরা ধোবাউরা উপজেলার ফায়ারসার্ভিসের পাশের বাসায় এসেছি। আমাদের আসার খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁটা, ধারালো শস্ত্র নিয়ে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আমাদের উপর হামলা করে, বসত বাড়ির জালনা গ্লাস ভেঙে ফেলেছে, এমন অবস্থায় থানায় যোগাযোগ করলে জরুরি ভিত্তিতে থানার ফোর্স এসে আমাদেরকে উদ্ধর করে। পুলিশ আমাদেরকে থানায় নিয়ে যায় এবং নিরাপত্তা দেয়। এই সন্ত্রাসীরা যেকোন মুহূর্তে আমাদেরকে হত্যা করবে। ৬৫ বছরের বেশি বয়স হয়েছে, এই বৃদ্ধ বয়সে আমরা বাড়িঘর ছেড়ে কোথায় যাব? আমাদের থাকার আর কোন জায়গা নেই। এমন অবস্থায় আমাদের বাড়িতে বসবাস ও জান মালের নিরাপত্তা চাই, আমাদেরকে একটু সাহায্য করুন, আমরা আইনের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, দয়া করে আমাদের আশ্রয় দিন।

এমএসএম / এমএসএম

উৎপাদন ব্যাহত, জনজীবনে চরম ভোগান্তি; পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও দুই সপ্তাহ

জাগো বাঁশখালী পেইজের আবু ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে ২লাখ চাঁদাদাবির অভিযোগ

পাবনায় ব্র্যাক স্কুল শিক্ষিকার মৃতদেহ টয়লেট ট্যাংকির ভেতর থেকে উদ্ধার

রাণীশংকৈলের শিক্ষক ঢাকায় প্রক্সি পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা খেয়ে বরখাস্ত

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে পেকুয়ায় দুই দফা অগ্নিকাণ্ড, সর্বস্ব হারাল ৬ পরিবার

চাঁদপুর পৌরসভার ২০৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

নেত্রকোনায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

জয়মনিহাট ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার রোধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

টাঙ্গাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে নিজ দপ্তরে মদের টাকার লেনদেনের অভিযোগ : ভিডিও ভাইরাল

কাপ্তাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহাফুজ আলম ও সম্পাদক রিপন মারমা নির্বাচিত

নোয়াখালীতে বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণ, ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

রোগী আছে ডাক্তার নেই নিজেই ‘রোগাক্রান্ত’ বঞ্চিত সেবাপ্রার্থীরা

রায়গঞ্জে দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো রফিকুলসহ ৮ জন পেলেন অটোরিকশা