আশুলিয়ায় ব্যাপক লোডশেডিং
উৎপাদন ব্যাহত, জনজীবনে চরম ভোগান্তি; পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও দুই সপ্তাহ
ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়াজুড়ে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক কম, সেখানে ডিজেল ব্যবহার করে জেনারেটর চালাতে গিয়ে প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় গুনতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সময়মতো শিপমেন্ট সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন লাইন বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে।
আশুলিয়ার জামগড়া, নরসিংহপুর, জিরাবো, বাইপাইল, কাঠগড়া, পল্লীবিদ্যুৎ, শিমুলিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিনে কয়েক দফা এবং রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও এক ঘণ্টা, কোথাও আবার দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় অসহনীয় দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত আলো না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করতে বাধ্য হচ্ছেন। অভিভাবকরা বলছেন, বিদ্যুতের এমন অনিয়মিত সরবরাহে সন্তানদের লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ, কুলার, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। খাবার সংরক্ষণে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় অনেকের আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে। এছাড়া অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা, কম্পিউটার সার্ভিসসহ বিদ্যুুৎনির্ভর বিভিন্ন সেবাখাতেও উৎপাদনশীল সময় নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আখতারুজ্জামান লস্কর বলেন, বর্তমানে দেশে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। মন্ত্রনালয়ে কথা বলেছি, তারা বলেছেন, পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ চলছে। সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে আরও প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে অনেক সাধারণ ভোক্তার অভিযোগ, আশুলিয়ায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাতভর অসংখ্য ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। তবে এ দাবির পক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো পরিসংখ্যান বা নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন আশুলিয়ার বাসিন্দা, শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় বিদ্যুতের সংকট দূর করা হবে, যাতে উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্বাভাবিক জনজীবন আবারও সচল হয়ে ওঠে।
Aminur / Aminur
উৎপাদন ব্যাহত, জনজীবনে চরম ভোগান্তি; পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও দুই সপ্তাহ
জাগো বাঁশখালী পেইজের আবু ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে ২লাখ চাঁদাদাবির অভিযোগ
পাবনায় ব্র্যাক স্কুল শিক্ষিকার মৃতদেহ টয়লেট ট্যাংকির ভেতর থেকে উদ্ধার
রাণীশংকৈলের শিক্ষক ঢাকায় প্রক্সি পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা খেয়ে বরখাস্ত
বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে পেকুয়ায় দুই দফা অগ্নিকাণ্ড, সর্বস্ব হারাল ৬ পরিবার
চাঁদপুর পৌরসভার ২০৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
নেত্রকোনায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন
জয়মনিহাট ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার রোধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
টাঙ্গাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে নিজ দপ্তরে মদের টাকার লেনদেনের অভিযোগ : ভিডিও ভাইরাল
কাপ্তাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহাফুজ আলম ও সম্পাদক রিপন মারমা নির্বাচিত
নোয়াখালীতে বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণ, ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা
রোগী আছে ডাক্তার নেই নিজেই ‘রোগাক্রান্ত’ বঞ্চিত সেবাপ্রার্থীরা