খুলনায় সিআইডির তদন্তে নুরুন্নাহার হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন
খুলনার নিউমার্কেটের পাশে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে জামাল ও নুরুন্নাহার। তাদের পরিচয়ের সম্পর্ক প্রথমে প্রেম, পরে অনৈতিক দৈহিক সম্পর্কের দিকে গড়ায়। হয় অর্থ লেনদেন। শুরু হয় ব্লাকমেইলিং। যে কারণে তাদের এ সম্পর্কের মধ্যে ধরে ফাটল। দীর্ঘ টানাপড়েনের একপর্যায়ে নুরুন্নাহারকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ২২ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় জামাল মহাজন ও ফারুক মহাজন নামে দুই ব্যক্তি হত্যা করে নুরুন্নাহারকে। আদালতে সিআইডির দাখিল করা চার্জশিটে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, আসামি জামাল মহাজন খুলনা নিউমার্কেট এলাকায় মানুষের কেনা মাছ বঁটি দিয়ে কেটে জীবিকা নির্বাহ করত। ওই এলাকার ইয়াছিন শেখের মাধ্যমে ভিকটিমের সাথে পরিচয় হয় জামালের। নুরুন্নাহার ও তার বোন প্রায়ই জামালের মাধ্যমে ওই এলাকার বিসমিল্লাহ হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করত। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নুরুন্নাহারের সাথে প্রায়ই দৈহিক মিলনে লিপ্ত হতো। নারীলোভী জামাল অর্থের বিনিময়ে তার সাথে বিভিন্ন স্থানে সময় কাটাতে শুরু করে।
অবৈধ এ সম্পর্কের কথা বলে নুরুন্নাহার একপর্যায়ে জামালকে ব্লাকমেইলিং শুরু করে। টাকা না দিলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রায়ই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত জামালকে। একপর্যায়ে গত বছরের অক্টোবর মাসে জামাল নুরুন্নাহারকে খুন করার পরিকল্পনা করে। গ্রামের পরিচিত দুলাভাই ফারুক মহাজনকে বিষয়টি খুলে বলে সে। নুরুন্নাহারকে হত্যার জন্য ফারুক মহাজনকে ৫ হাজার টাকা দিতেও রাজি হয় জামাল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ২২ নভেম্বর জামাল সাইকেল নিয়ে নগরীর ৫নং ঘাটে মামুর আস্তানায় গিয়ে ফারুক মহাজনের সাথে দেখা করে। সেখান থেকে সিমেন্টের বস্তা সেলাই করা সুতা সংগ্রহ করে। এরপর ফোন করা হয় নুরুন্নাহারকে। তারা তিনজন একসাথে ছাচিবুনিয়ার চৌরাস্তায় মিলিত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী দোকান থেকে জুস, আপেল ও ঘুমের ওষুধ ক্রয় করা হয়। জুসে ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়। যৌনমিলনের পর নুরুন্নাহারকে প্রথমে আপেল ও পরে জুস খাওয়ানো হয়। জুস খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়লেই সিমেন্টের বস্তা সেলাই করা সুতা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নুরুন্নাহারকে হত্যা করা হয়। এরপর যে যার মতো বাড়ি চলে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা লবণচরা থানাধীন খুলনা–বাগেরহাট মহাসড়কের খোলাবাড়িয়া ডেসটিনির পরিত্যক্ত জমিতে লাশ দেখে থানায় খবর দেন। পুলিশ লাশের সুরাতহাল রিপোর্ট তৈরি করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।
এ ব্যাপারে নিহতের ছেলে ওই দিন লবণচরা থানায় অজ্ঞাত আসামিদের নামে মামলা দায়ের করেন, যার নং ১৫। মামলাটি তদন্ত নিয়ে থানার এসআই শরীফুল আলম জামাল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করলে পুলিশকে ৯২ হাজার টাকা ধরিয়ে দেয়। টাকার ব্যাপার জানতে চাইলে জামাল কোনো উত্তর দিতে পারেনি। পরে মামলাটি খুলনা সিআইডির পরিদর্শক মোছা. মাহমুদা খাতুনের ওপর ন্যস্ত হলে তিনি এ রহস্য বের করেন।
পরিদর্শক মাহমুদা খাতুন বলেন, সিআইডি মামলাটি গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ক্লু উদ্ঘাটন করা হয়। সাক্ষী-প্রমাণসহ সবকিছু তৈরি করতে চার্জশিট দিতে কিছুটা সময় নেয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ৯ মাস পরে সিআইডি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন ভিকটিম নুরুন্নাহার হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে জামাল হাওলাদার ও ফারুক মহাজনকে আসামি করে রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) খুলনা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। জামাল বসবাস করেন বটিয়াঘাটার বাঁশবাড়িয়া এলাকায় আর ফারুক ৫ নম্বর ঘাট এলাকার বাসিন্দা।
এমএসএম / জামান
টঙ্গীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
তথ্যমন্ত্রীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা পেল ২০ হাজার মানুষ
দাউদকান্দি-মেঘনার ৬১ পূজামণ্ডপে ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের আর্থিক সহায়তা: ‘ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার’
ফুলবাড়ীতে মাদরাসার নবনির্মিত একাডেমিক ভবন উদ্বোধন
ঘোড়াঘাটে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু
হালদা প্রকল্প: কাপ্তাইয়ে মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু
প্রবাসীর কেনা জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ, সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা
ধুনটে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় চার আসামি গ্রেপ্তার
এই দেশের প্রতিটি নাগরিক, প্রতিটি সম্প্রদায়, প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী নিরাপদ-চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসক
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ডাকবাংলোয় অবহেলায় পড়ে আছে গাছ, নিলাম না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে কাঠ ,রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
ধামরাইয়ে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু, সুপারভাইজার ও জরিপকারীদের মাঝে ট্যাব বিতরণ
অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে রাসিক প্রশাসক রিটন