মামলার বাদি ও তার পরিবার আতঙ্কিত
প্রবাসির কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদাদাবি, হত্যাচেস্টা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে
সারাদেশে খুন, হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী ঘটনার প্রবাহ বাড়তে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ইতালি প্রবাসী মাসুম শেখের ওপর ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হত্যাচেষ্টার মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রকাশ্যে এলাকা ও রাজধানীতে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেফতারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
২০ আগস্ট আদালতে মামলা দায়ের করেন প্রবাসী মাসুম শেখের স্ত্রী, উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পলি আক্তার। মামলায় বালিয়াকান্দি বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মশিউল রহমান আজম ওরফে চুন্নুসহ তার দুই ছেলে খন্দকার শফিউল আজম শিবলু, খন্দকার শোভন আরেফিন এবং আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ১৫ আগস্ট দেশে আসার পর মাসুম শেখকে পথরোধ করে আসামিরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা এলোপাথাড়িভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে, সেখান থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাদী পলি আক্তার জানান, আসামিরা ২৩ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন নিয়ে বের হন। ৩ নভেম্বর তাদের জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তারা নিম্ন আদালতে হাজির না হয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন, মিছিল–মিটিং করছেন। প্রধান আসামির ছেলে খন্দকার শোভন আরেফিন তাকে ও তার ননদ বেবী সুলতানাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, যা থানার কিছু পুলিশ সদস্যও জানেন বলে দাবি তার। কিছু দিন আগে প্রকাশ্যে অস্ত্র আনার প্রস্তুতি নিতেও দেখা যায় শোভনকে—তখন স্থানীয়রা বাধা দেয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এসব দাগী অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধে লিপ্ত। বহু বছর ধরে তারা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। তাদের দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে পুনরায় আগের মতো অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তাই সাধারণ মানুষ থানায় অভিযোগ দিতে ভয় পাচ্ছেন। বাদী দাবি করেন, থানায় দাঁড়িয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হলেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি।
একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে যখন মামলার প্রধান আসামি চুন্নু বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বালিয়াকান্দি চৌরাস্তায় হাজারো মানুষের সামনে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন। পুলিশ দায়িত্বে থাকলেও তাকে গ্রেফতার না করায় এলাকাবাসী হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। পরে পলি আক্তার, প্রবাসী মাসুম শেখ ও স্থানীয়রা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
বালিয়াকান্দি থানার ওসি জানান, জামিনের মেয়াদ চলাকালে পুলিশ হস্তক্ষেপ করতে পারে না। জামিন শেষ হলে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা দিলে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর স্বামীর সঙ্গে আসামিদের পূর্ব বিরোধ ছিল; তবে তদন্ত কর্মকর্তা নিরপেক্ষ তদন্ত চালাচ্ছেন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়ায় সুযোগ নিচ্ছে প্রভাবশালী এই চক্র। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার দিন কাটাচ্ছে আতঙ্কে; তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এমএসএম / এমএসএম
শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ
গ্লোবাল স্কলার্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক পেলেন জুড়ীর ওয়ারিশা রাহমান
আওয়ামিলীগের সাথে কোন আপোষ নয় - মনিরুল হক চৌধুরী
প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে বিএনপির গফুর ভূঁইয়ার রিট
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে: পিআইবি মহাপরিচালক
সাভারে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা
আত্রাইয়ে ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষে অল্পের জন্য শত শত যাত্রী প্রাণে রক্ষা
আমার উপজেলা আমার দায়িত্ব—শিশুর জীবন হোক বাল্যবিবাহ মুক্ত
রূপগঞ্জে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া
নেত্রকোনার মদনে লাহুত হত্যা মামলার আট মাসেও মিলেনি চার্জশীট
দেয়াল পত্রিকা ইভেন্টে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজের লাবিবা
তানোরে ভাতের সাথে বিষ মিশিয়ে নির্বিচারে হাঁস মুরগী মেরে ফেলার অভিযোগ