সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদসহ ১৬৪ জনের নামে সন্ত্রাসবিরোধী মামলা দায়ের
পাবনা-১ আসনের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদসহ ১৬৪ জনের বিরুদ্ধে পাবনার বেড়া মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়েছে। সাঁথিয়া উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার সেলিম হোসেন নামের একজন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও পাঁচজন সাংবাদিকও রয়েছেন।
বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলিউর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত শনিবার (১২ এপ্রিল) মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। তবে গতকাল (১৩ এপ্রিল) রোববার রাতে মামলাটির কথা জানাজানি হলে মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ এপ্রিল বিকেলে বেড়া পৌর এলাকার কাগমাইরপাড়ায় আবু সাইয়িদের নিজ বাড়িতে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আবু সাইয়িদেও নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ৩০০ লোক উপস্থিত ছিলেন। ওই সমাবেশে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন এলাকার সদস্য ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করেন। সেখানে প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র, পিস্তল, বন্দুকসহ বিভিন্ন ধরণের দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা বর্তমান সরকারকে উৎখাতের জন্য দেশবিরোধী স্লোাগান দিতে থাকেন। মামলার সাক্ষী ও এলাকার লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে আসামিদের নাম ঠিকানা জোগাড় করতে সময় লাগায় এজাহার দায়ের করতে দেরি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৬৪ জন আসামির মধ্যে আবু সাইয়িদকে এক নম্বর ও সাঁথিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রামানিককে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের পাবনা-১ (সাঁথিয়া ও বেড়ার একাংশ) আসনের আওতাধীন বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরও আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অলিউর রহমান বলেন, এটি মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আবু সাইয়িদ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাবনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য থাকার পাশাপাশি তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৮ সালে তাকে বাদ দিয়ে শামসুল হক টুকুকে (সাবেক ডেপুটি স্পিকার) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়। একপর্যায়ে আবু সাইয়িদ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। ২০১৮ সালে তিনি গণফোরামে যোগ দেন এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পাবনা-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। সেই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর কাছে পরাজিত হন। এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গণফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। সেই নির্বাচনেও তিনি শামসুল হক টুকুর কাছে পরাজিত হন।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ঢাকা থেকে তার নির্বাচনী এলাকা বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলায় মাঝেমধ্যে আসতেন। এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তিনি বেড়ায় এসে কাগমাইরপাড়ায় অবস্থিত তার নিজ বাড়িতে ঈদের পরদিন (১ এপ্রিল) শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। সেই সভায় তার অনুসারীসহ আওয়ামীলীগের একাংশের অনেক নেতাকর্মী যোগ দেন। এতে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। আবু সাইয়িদের নেতৃত্বে তার বাড়িতে সমাবেশের প্রতিবাদে বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলায় একাধিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তারা আবু সাইয়িদকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এমএসএম / এমএসএম
শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন ঢাকার এডিসি ফারজানা
দুই দিনের সফরে আজ কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বোদায় ইউএনও'র বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ঠিকাদারী করার অভিযোগ
কাশিমপুরে পানিবন্দী ৫০০ পরিবারের মাঝে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ত্রাণ বিতরণ
সিসি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনে ব্যাপক অনিয়ম
বাগেরহাটে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে
পেকুয়ায় ৮ শতাধিক পরিবার পেল যুবদলের ত্রাণ
ট্যালেন্টপুল বৃত্তিতে কৃতিত্ব দেখাল মুনতাসির আজমাঈন
দেশের একটি মন্দিরেও হামলা হয়নি গত দুই বছরে: চিফ হুইপ
পটিয়ায় বন্যার্তদের মাঝে এনসিপির উপহারসামগ্রী বিতরণ
নড়াইলে কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বৃত্তিপ্রাপ্তদের সনদ ও পুরস্কার বিতরণ
গোপালগঞ্জে বন্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, জনসচেতনতামূলক প্রচার জোরদার