ঢাকা মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

পঞ্চগড়ে প্রাথমিক শিক্ষক সিন্ডিকেটের ঘুষ বাণিজ্য: অসহায় শিক্ষকরা


সাইদুজ্জামান রেজা, পঞ্চগড় photo সাইদুজ্জামান রেজা, পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ১-৭-২০২৫ দুপুর ১২:১৪

পঞ্চগড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সিন্ডিকেটের ঘুষ বাণিজ্যে শিক্ষকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের কথা না শুনলে শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। শিক্ষক বদলি, অবসর ভাতা বা পেনশন, এমনকি কোন বিদ্যালয়ে বরাদ্দের পরিমাণ কত হবে—সবকিছুই এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। একেকজন শিক্ষক নেতা একেক দায়িত্বে রয়েছেন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪১ জন শিক্ষকের বকেয়া বিল দিতে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা, জেলা ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে দেওয়ার কথা বলে এই অর্থ আদায় করেন ৫১ নং বড়বাড়ি গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আব্দুল কাইয়ুম, ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. চঞ্চল মাহমুদ ও মালিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান। এতে বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা ঘটনাটির তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

জানা যায়, সদর উপজেলার ৭৩ জন জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ শিক্ষকের বেতন সমতাকরণ বকেয়া বিল, ডিপিএড প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত স্কেলে বেতন পুনর্বিন্যাস জনিত ২৭ জনের বিল এবং প্রধান শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরনের জন্য ৪১ জনের অর্থ এই তিন শিক্ষক উত্তোলন করেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা অফিস ঘিরে রয়েছে আইয়ুব আলীসহ আরও কয়েকজন শিক্ষকের সিন্ডিকেট। অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে শিক্ষকদের জিম্মি করে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করতো। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা আরও জানান, এরা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিল।

ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকা মোছা. সুইটি বেগম বলেন, "ডিপিএডের বকেয়া বিলের জন্য চঞ্চল স্যারকে কয়েক দফায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা দীর্ঘদিন আগে দিয়েছি। এখনো বিলের কোনো ব্যবস্থা হয়নি।" সহকারী শিক্ষক সনম ফারহানা দিয়েছেন ২ হাজার ৫০০ টাকা। সহকারী শিক্ষিকা মোছা. হালিমা খাতুন আব্দুল কাইয়ুমকে টাকা দিয়েছেন, তবে কত টাকা দিয়েছেন তা মনে করতে পারছেন না। মোছা. মারুফা ইয়াসমিন বলেন, "কাইয়ুম স্যারকে দফায় দফায় সাত হাজার টাকা দিয়েছি।" নারগীস আক্তার দিয়েছেন ২ হাজার টাকা, ফাতিমা আক্তার ২ হাজার টাকা। এভাবে ১৪১ জন শিক্ষকের কাছ থেকে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও কাজের জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

উৎকোচ আদায়ের বিষয়টি ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. চঞ্চল মাহমুদ ও মালিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান স্বীকার করে বলেন, ফটোকপি ও এদিক-সেদিক যাওয়া-আসাতে খরচ হয়েছে। তবে আব্দুল কাইয়ুমকে মুঠোফোনে কল দিলে সাংবাদিকের পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে কলটি কেটে দেন তিনি।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মোমিনুল হক বলেন, "যে কাজের জন্য অর্থ উত্তোলন করেছে, সেখানে কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই। আমি শুধু কাগজে স্বাক্ষর করেছি। কে অর্থ উত্তোলন করেছে, কেন করেছে কিছুই জানি না।"

এমএসএম / এমএসএম

ধর্মীয় বক্তার পরিচয় ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পূর্বধলায় প্রতারক গ্রেপ্তার

এবারে বরিশালে শারদীয় দুর্গাউৎসবে ৬৩৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষার মান ও শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান

গলাচিপায় ২০ গ্রাম গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার

পরিকল্পিত ও বসবাসযোগ্য নগর গড়তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে: আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ

ধনবাড়ীতে পৃথক অভিযানে ৫২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

টাঙ্গাইলে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করলো ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর

মোহনগঞ্জে শিক্ষকদের আপত্তি উপেক্ষা করে ১১ স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান রদবদলের অভিযোগ

আদমদীঘিতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা

ঠাকুরগাঁওয়ে ২০ টাকার আলু ১৪ টাকায়, লোকসানে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

গজারিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ এর প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত

বছরের পর বছর অচল চালকলকে সচল দিখিয়ে গুদামে নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ

মান্দায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত