মেধাবী হলেই ভালো চাকরি হয় না কেন?
৪৪তম বিসিএস পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। আশেপাশের গ্রামে ,নিজের আত্মীয় স্বজনের ছেলেমেয়েদের বিসিএস ক্যাডার হওয়ার খবরে নিজের ছেলেমেয়েদের মেধার মাপকাঠি যাচাই করেন অনেক অভিভাবক। ভাবেন আমাদের আব্দুল ছবদুল তো তাদের চেয়ে ভালো ছাত্র। বিসিএস তো দূরের কথা একটা ছোটখাটো সরকারি চাকরি পেলো না। কত আফসোস তাদের সন্তানের জন্য । অথচ ছেলে অনেক ভালো বেতন পান একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে। আমার কথা হলো ,যারা ছেলেমেয়েদের বড় চাকরি বিসিএস ক্যাডার বানানোর স্বপ্ন দেখেন তারা অনার্স পাস করার পরে আরো ৫ বছর বাপের হোটেলে থাকা খাওয়া ও নিয়োগ পরীক্ষার খরচ রেডি রাখবেন। অনার্স পাস করার পরেই ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে ফিডব্যাকের আশা করলে সেই সদ্য পাস ছেলেমেয়েরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি চাকরি করে এবং তাদের আর চাকরির জন্য ভালো প্রস্তুতি নেয়া হয় না। দেখবেন ক্লাসে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থীর চেয়ে চতুর্থ পঞ্চম হওয়া শিক্ষার্থী অনেক সময় ভালো চাকরি পান। এর অন্যতম কারণ তার পরিবার তাকে কী কী সুযোগ দিয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে পরীক্ষা দিতে ৪/৫ বছর যে শ্রম ও খরচ হয় তা ১৮ বছর শিক্ষা জীবনের কাছাকাছি। আমাদের দেশের অভিভাবকদের ধারণা পড়াশোনা করে চাকরি ই করতে হবে। তারা পড়াশোনা শেষ হলেই চাকরির টাকা দেখার আশায় থাকেন। যারা চাকরি পেয়েছেন তাদের কাছে শুনুন পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরে তারা কী কী করেছেন ,কত বছর লেগেছে। আর একটি বিষয় , অর্থ উপার্জনের সাথে লেখাপড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। ক্লাসের সবচেয়ে ব্যাক বেঞ্চার শত কোটি টাকার মালিক বনে যায়। অনেকেই ইন্ডাস্ট্রি করে আর প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী সেই ইন্ডাস্ট্রির কর্মচারী হয় এমন নজীর অনেক আছে। অর্থ বিত্ত উত্তরাধিকার সূত্রে অনেকেই এতো পরিমাণ পেয়ে থাকেন যা একশ চাকরি করে উপার্জন সম্ভব নয় কিন্তু জ্ঞান অর্জন ,শিক্ষা এগুলো নিজেরটা নিজেরই অর্জন করতে হয়। এটা ব্যাংক ব্যালেন্স বা জমিজমা না যে দলিল করে নেয়া যায়। তাই আবারও বলছি , জ্ঞান অর্জন শিক্ষা অর্জনের সাথে অর্থ উপার্জনের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। চাকরি করতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। শুধুমাত্র কটা পয়সার জন্য সারাজীবন আমরা নিজের মেধা বিলিয়ে একটিভ ইনকাম করি তাই দুনিয়ার ১% ধনীর তালিকায় এই চাকুরিজীবী নেই। যারা প্যাসিভ ইনকাম করে তারাই ধনী। রবার্ট টি কিয়োসাকি তার "রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড" বইয়ে বলেছেন , গরীর মানুষ টাকা উপার্জন করে নিজে পরিশ্রম করে আর ধনীদের নিজে পরিশ্রম করতে হয় না। তাদের অর্থ ই তাদের আরো অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেয়। যাইহোক ,স্বপ্ন যাদের চাকরি তাদেরকে সময় দিতে হবে। অভিভাবকদের চিন্তা উন্নত না হলে সন্তানকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের অন্তরায় হয়ে যাবে। মেধাকে কাজে লাগাতে মেধাকে অস্ত্রের মতো ধারাতে হয় সময় নিয়ে এইটা মাথায় রাখতে হয়। অনেকে এই সুযোগ পান না বলেই তাদের "মেধাবী কিন্তু সরকারি চাকরি পায়নি "এমন কথা শুনতে হয়। পরিশেষে একটি কথা , দেশের ১৮ কোটি মানুষের ১৮ লাখ মানুষ সরকারি চাকরি করে। মানে ১০০ জনে ১ জন। সরকারি চাকরি না পেলে আপনি খারাপ থাকবেন আর পেলে ভালো থাকবেন এই কথা বিশ্বাসযোগ্য না। সীমিত আয় ,অসীম খরচ আর মুদ্রাস্ফীতির দেশে সরকারি চাকরি একটি জেলখানা বটে। প্রতি বছর যে বেতন বাড়ে খরচ বাড়ে তার ছগুণ। নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে ভালো করে। যা করবেন খুব ভালো করে করতে হবে।
এমএসএম / এমএসএম
ডা. জুবাইদা রহমানের সফট পাওয়ার কূটনীতির উত্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত!
ঈদ জামাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন-মিসাইল সতর্কতা; মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিস্ময়!
প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনে ২৮ পদক্ষেপ: দ্রুত বাস্তবায়নে নতুন দৃষ্টান্ত, সুশাসনে জোর!
নীরব কৌশলের রাজনীতি: রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে তারেক রহমানের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক দূরদর্শিতা
ঈদ-উল-ফিতর সৌহার্দ্য ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
লাইলাতুল কদরের ইবাদত: বান্দার গুনাহ মাফের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আত্মসমর্পণ অপরিহার্য!
আল-কুরআন বিজ্ঞান ও রমজান
ঈদযাত্রা আনন্দময় ও নিরাপদ হোক
ঈদের প্রহর গুনছে দেশ, পে-স্কেলহীন বাস্তবতায় তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের আনন্দ কতটুকু?
গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বড় চ্যালেঞ্জ
হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা: ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাণিজ্য ঝুঁকিতে, বাংলাদেশের সামনে নতুন সতর্কবার্তা
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব