ঢাকা শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

মনোহরগঞ্জ-লাকসাম-শান্তির বাজার-মুদাফরগঞ্জ সড়ক মরণফাঁদ


আবদুর রহিম, মনোহরগঞ্জ photo আবদুর রহিম, মনোহরগঞ্জ
প্রকাশিত: ১৯-৭-২০২৫ দুপুর ৩:২৫

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম উপজেলার মধ্যে অবস্থিত ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মনোহরগঞ্জ-লাকসাম-শান্তির বাজার-মুদাফরগঞ্জ সড়কটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। খানাখন্দে ভরা এই সড়কে প্রতিদিন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী, যাত্রী, যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষকে।

মনোহরগঞ্জ-লাকসাম সড়কের ১১ কিলোমিটারের মধ্যে মনোহরগঞ্জ-আশিরপাড় অংশের ৪ কিলোমিটার এলাকা এতটাই খারাপ যে, অসংখ্য বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। গত চার-পাঁচ বছর ধরে বন্যার ক্ষত ও সংস্কারের অভাবে এই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয়রা বারবার সড়কটি সংস্কারের দাবি জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জানা গেছে, মনোহরগঞ্জ-আশিরপাড়ের ৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ৮ কোটি ৬১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৪ টাকা বরাদ্দ হলেও ঠিকাদার সৈয়দ আলী বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স কাজ না করেই পালিয়ে গেছেন।

এ সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালক মোঃ হানিফ, রাজ্জাক, খোরশেদ, লেয়াকত ও নুরুল ইসলাম জানান, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করে। টানা পাঁচ-ছয় বছর ধরে গর্তগুলো ভরাট করা হয়নি। প্রতিদিন সিএনজি, অটোরিকশা ও ভারী যানবাহন চলাচল করলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের গর্তে কাদা পানি থইথই করছে, যার মধ্যে দিয়ে ধীর গতিতে যানবাহন চলাচল করছে। পথচারীদের হাঁটারও কোনো উপায় নেই। সম্প্রতি, মিন্টু নামের এক ব্যক্তির দোকানের সামনে পরপর কয়েকটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উল্টে যায়, যেখানে নারী-শিশুসহ অনেক যাত্রী আহত হন। পরে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

খানাখন্দের সড়কের ছবি তুলতে গেলে আবুল কাশেম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "অনেকেই শুধু শুধু ছবি তুলে নিয়ে যান, কিন্তু রাস্তা মেরামতের কোনো কাজ হয় না। কিছু ইট-সুরকি ফেলে রাখলেও তো চলাচল করা যেত।" রশিদপুর গ্রামের সমাজসেবক হাছান আহম্মদ জানান, সড়কের গর্তে গাড়ি আটকে উল্টে গিয়ে যাত্রীরা আহত হচ্ছেন, হাত-পা ও মাথা ফাটার ঘটনাও ঘটছে, ফলে তাদের হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।

মুদাফরগঞ্জ-শান্তির বাজার সড়কটি প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। শান্তির বাজার, মির্জাপুর ও বেরনাইয়া অংশে এটি খানাখন্দে ভরা, ফলে এ পথে চলাচল একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই সড়কটি লাকসাম, কুমিল্লা, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁদপুর, শাহারাস্তি, হাজীগঞ্জ, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, চাটখিল, হাসনাবাদ এবং পশ্চিম ও দক্ষিণ অঞ্চলের লোকজনের নিয়মিত যাতায়াতের প্রধান পথ। সড়কের গর্তে পড়ে চাকা আটকে ও ধাক্কা লেগে প্রায়ই গাড়ি নষ্ট হচ্ছে এবং যাত্রী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। কুমিল্লা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে মালামাল আনতে এখন নিয়মের চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। হাটিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ ছালেহা আক্তার বলেন, ভাঙা সড়ক দিয়ে অসুস্থ মানুষ, বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তিনি অবিলম্বে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। মনোহরগঞ্জ থেকে লাকসামের ৪০ টাকার ভাড়া বর্তমানে ৬০-৭০ টাকায় পৌঁছেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহ আলম জানান, তারা সড়কটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ঠিকাদারকে বলে সপ্তাহ দশ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজালা পারভীন রুহি বলেন, তিনি প্রকৌশলীকে গর্তগুলো ভরাট করে দেওয়ার এবং দ্রুত সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও, জেলা মিটিংয়ে এই দুইটি সড়ক নিয়ে আলোচনা করবেন বলেও তিনি জানান।

এমএসএম / এমএসএম

সুবর্ণচর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি নব কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভা

ভোলার গ্যাস বদলে দিতে পারে দেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎ

‎মাছ ধরার ট্রলারে মিলল বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি-পাঞ্জাবি

পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত, রাশেদ খানের নানা প্রতিশ্রুতি

টঙ্গীতে অপরাধীদের আতঙ্ক ওসি মাকছুদুল আলম, ৪০ দিনে গ্রেপ্তার ৪১৯

ডামুড্যায় নিখোঁজের ৬ ঘণ্টা পর শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, বাড়িতে আগুন

‎অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ স্পেশালাইজড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা

ফেনীতে এশিয়ান মেধা উন্নয়ন বৃত্তি ও সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠিত

রায়পুরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার: বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

রায়গঞ্জে চালকল নিয়ে শঙ্কা, বিপাকে মিল মালিক-শ্রমিক

মিরসরাইয়ে ভূমি জবর দখলের প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

টঙ্গীতে প্রশাসক গোল্ডকাপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত : হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বাসনকে হারিয়ে টঙ্গীর জয়

বাউফলে স্প্রেড হিউম্যানিটির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত: ৫০টি পরিবারে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ