ঢাকা শনিবার, ২ মে, ২০২৬

রাজনীতি আজ নিলামের হাট: কুষ্টিয়া-৪ এ হাইব্রিড দাপটের নির্মম প্রতিচ্ছবি


আবদুল আজিজ photo আবদুল আজিজ
প্রকাশিত: ২১-৭-২০২৫ দুপুর ১২:২৫

একসময় রাজনীতি ছিল আত্মত্যাগের প্রতীক, আদর্শের সংগ্রাম। আজ তা পরিণত হয়েছে সুবিধাবাদীদের জন্য সাজানো এক নিষ্ঠুর নিলামের হাটে। যেখানে ত্যাগের কোনো মূল্য নেই, মেধা নীরবে গুম হয়ে যায়, আর আদর্শ নামক শব্দটি যেন একটি মিউজিয়ামের ধুলোমাখা জিনিসপত্র মাত্র।

কুষ্টিয়া-৪: হৃদয়ভাঙ্গা হাইব্রিড কাহিনী,
কুষ্টিয়া-৪ আজ আর রাজনীতির প্রেরণার ঠিকানা নয়। এটি দখল করেছে হাইব্রিড নামক এক ভিন্ন প্রজাতির রাজনীতিকরা। যাদের না আছে অতীত, না আছে ত্যাগ, না আছে কোনো আদর্শিক শিকড়—আছে শুধু কালো টাকার দাপট, লবিংয়ের মোড়লগিরি, আর উচ্চপর্যায়ের দেহভাগী প্রভাবশালীদের পা-চাটা প্রথা।
এখানে ত্যাগী নেতারা আজ কেবল গল্পের চরিত্র। যাদের রক্ত, ঘাম, চোখের জল এই মাটিকে রাজনৈতিক মানচিত্রে গড়ে তুলেছিল—তারা আজ দলে অবাঞ্ছিত। অফিসের সিঁড়িতে তাদের কোনো ঠাঁই নেই। কফিনের পেরেক যেন প্রতিটি নমিনেশনের ঘোষণাতেই ঠুকে যায়।

নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ, আদর্শ নির্বাসিত,
যাদের রাজনীতিতে কোনো ইতিহাস নেই, আন্দোলনের মাঠে কোনো পদচিহ্ন নেই—তারাই আজ নেতৃত্বে। রাজনীতি তাদের কাছে পবিত্র আদর্শ নয়, বরং একটি লাভজনক বাণিজ্য। আদর্শকে তারা কর্পোরেট টার্মে রূপ দিয়েছে। তাদের দক্ষতা চাটুকারিতায়, শক্তি লবিংয়ে, এবং লক্ষ্য শুধু পদ-পদবিতে।
এরা কেউ রাজপথে ধাওয়া খায়নি, লাঠিপেটা হয়নি, নেতা-কর্মীদের কান্না শোনেনি। তবু তারাই এখন নমিনেশনধারী। যাদের প্রিয় শব্দ ‘কমিশন’, প্রিয় কাজ ‘বাণিজ্য’, প্রিয় নীতি ‘আপোষ’।

রাজনীতি এখন আদর্শহীনতার শবযাত্রা,
এই কি সেই রাজনীতি, যেখানে জিয়াউর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সমতার সমাজের? যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্র?
আজ রাজনীতি মানে সিন্ডিকেট, কমিশন, ভাগ-বাটোয়ারা, আর পদ নিয়ে দালালি। তুমি যদি সত্য বলো—তুমি ‘বিপথগামী’। তুমি যদি অন্যায় দেখিয়ে দাও—তুমি ‘ষড়যন্ত্রকারী’। তুমি যদি আদর্শের কথা বলো—তুমি ‘পাগল’ বা ‘অবাঞ্ছিত’।

ক্ষমতা যদি লক্ষ্য হয়, আদর্শ তখন খুন হয়,
যখন রাজনীতি মেধাবী ও ত্যাগীদের রক্তচক্ষু দেখে না, তখন বুঝে নিতে হয়—সেই রাজনীতি মৃত। আর মৃত রাজনীতির পতাকা যখন সুবিধাবাদীদের হাতে, তখন ধ্বংসই হয় অনিবার্য পরিণতি।

আজ রাজনীতির মাঠে যারা খেলে তারা পেশাদার লুটেরা। যারা রক্ত দিয়েছিল, তারা এখন গ্যালারির নীরব দর্শক। আর দর্শকদের চোখে তখন শুধুই জল—নীরব, অব্যক্ত, উপেক্ষিত।

শেষ কথা
আজ কথা বলার কেউ নেই। নেই কান্না বোঝার মতো কান। কিন্তু ইতিহাস চুপ করে বসে থাকবে না। একদিন সে হিসেব চাইবে।
তবে তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে—কারণ রাজনীতি নামের আত্মাটা তখন আর থাকবে না। থাকবে কেবল একটি শবদেহ, যাকে বহন করবে হাইব্রিডদের প্রজন্ম।

লেখক পরিচিতি:
আবদুল আজিজ | রাজনীতি ও সমাজ বিষয়ে বিশ্লেষক ও লেখক

এমএসএম / এমএসএম

সারাবছর-ই সম্মানের আসনে থাকুক শ্রমিক

শক্তিই যখন ন্যায় নির্ধারণের মানদণ্ড হয়

ঢাকার প্রশাসনিক ইতিহাসে নতুন দিগন্ত: প্রথম নারী জেলা প্রশাসক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রগঠনের প্রত্যাশা

দায়িত্বশীল নেতৃত্বের এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত মেয়র শাহাদাত

​শোষিত মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু: শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক

ইতিহাসের ভয়াবহতম খাদ্য সংকটে ৩০০ কোটির বেশি মানুষ

চাপের বহুমাত্রিক বলয়ে বর্তমান সরকার

অসাম্প্রদায়িক ও শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর পঙ্কজ ভট্টাচার্য

শিরোনাম- রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ! ভবিষ্যতের জন্য সুফল নাকি ঝুঁকি বাড়াবে

আকাশপথে স্বাধীনতার নতুন দিগন্ত: শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্রান্সের অত্যাধুনিক রাডারের যাত্রা শুরু

চট্টগ্রামে আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন অপরিহার্য

বিদেশে ক্রুড অয়েল টোল ব্লেন্ডিং: জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে ৫০০০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের কৌশল!

কৃষি কার্ড ভালো উদ্যোগ, তবে চ্যালেঞ্জও আছে