রাজনীতি আজ নিলামের হাট: কুষ্টিয়া-৪ এ হাইব্রিড দাপটের নির্মম প্রতিচ্ছবি
একসময় রাজনীতি ছিল আত্মত্যাগের প্রতীক, আদর্শের সংগ্রাম। আজ তা পরিণত হয়েছে সুবিধাবাদীদের জন্য সাজানো এক নিষ্ঠুর নিলামের হাটে। যেখানে ত্যাগের কোনো মূল্য নেই, মেধা নীরবে গুম হয়ে যায়, আর আদর্শ নামক শব্দটি যেন একটি মিউজিয়ামের ধুলোমাখা জিনিসপত্র মাত্র।
কুষ্টিয়া-৪: হৃদয়ভাঙ্গা হাইব্রিড কাহিনী,
কুষ্টিয়া-৪ আজ আর রাজনীতির প্রেরণার ঠিকানা নয়। এটি দখল করেছে হাইব্রিড নামক এক ভিন্ন প্রজাতির রাজনীতিকরা। যাদের না আছে অতীত, না আছে ত্যাগ, না আছে কোনো আদর্শিক শিকড়—আছে শুধু কালো টাকার দাপট, লবিংয়ের মোড়লগিরি, আর উচ্চপর্যায়ের দেহভাগী প্রভাবশালীদের পা-চাটা প্রথা।
এখানে ত্যাগী নেতারা আজ কেবল গল্পের চরিত্র। যাদের রক্ত, ঘাম, চোখের জল এই মাটিকে রাজনৈতিক মানচিত্রে গড়ে তুলেছিল—তারা আজ দলে অবাঞ্ছিত। অফিসের সিঁড়িতে তাদের কোনো ঠাঁই নেই। কফিনের পেরেক যেন প্রতিটি নমিনেশনের ঘোষণাতেই ঠুকে যায়।
নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ, আদর্শ নির্বাসিত,
যাদের রাজনীতিতে কোনো ইতিহাস নেই, আন্দোলনের মাঠে কোনো পদচিহ্ন নেই—তারাই আজ নেতৃত্বে। রাজনীতি তাদের কাছে পবিত্র আদর্শ নয়, বরং একটি লাভজনক বাণিজ্য। আদর্শকে তারা কর্পোরেট টার্মে রূপ দিয়েছে। তাদের দক্ষতা চাটুকারিতায়, শক্তি লবিংয়ে, এবং লক্ষ্য শুধু পদ-পদবিতে।
এরা কেউ রাজপথে ধাওয়া খায়নি, লাঠিপেটা হয়নি, নেতা-কর্মীদের কান্না শোনেনি। তবু তারাই এখন নমিনেশনধারী। যাদের প্রিয় শব্দ ‘কমিশন’, প্রিয় কাজ ‘বাণিজ্য’, প্রিয় নীতি ‘আপোষ’।
রাজনীতি এখন আদর্শহীনতার শবযাত্রা,
এই কি সেই রাজনীতি, যেখানে জিয়াউর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সমতার সমাজের? যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্র?
আজ রাজনীতি মানে সিন্ডিকেট, কমিশন, ভাগ-বাটোয়ারা, আর পদ নিয়ে দালালি। তুমি যদি সত্য বলো—তুমি ‘বিপথগামী’। তুমি যদি অন্যায় দেখিয়ে দাও—তুমি ‘ষড়যন্ত্রকারী’। তুমি যদি আদর্শের কথা বলো—তুমি ‘পাগল’ বা ‘অবাঞ্ছিত’।
ক্ষমতা যদি লক্ষ্য হয়, আদর্শ তখন খুন হয়,
যখন রাজনীতি মেধাবী ও ত্যাগীদের রক্তচক্ষু দেখে না, তখন বুঝে নিতে হয়—সেই রাজনীতি মৃত। আর মৃত রাজনীতির পতাকা যখন সুবিধাবাদীদের হাতে, তখন ধ্বংসই হয় অনিবার্য পরিণতি।
আজ রাজনীতির মাঠে যারা খেলে তারা পেশাদার লুটেরা। যারা রক্ত দিয়েছিল, তারা এখন গ্যালারির নীরব দর্শক। আর দর্শকদের চোখে তখন শুধুই জল—নীরব, অব্যক্ত, উপেক্ষিত।
শেষ কথা
আজ কথা বলার কেউ নেই। নেই কান্না বোঝার মতো কান। কিন্তু ইতিহাস চুপ করে বসে থাকবে না। একদিন সে হিসেব চাইবে।
তবে তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে—কারণ রাজনীতি নামের আত্মাটা তখন আর থাকবে না। থাকবে কেবল একটি শবদেহ, যাকে বহন করবে হাইব্রিডদের প্রজন্ম।
লেখক পরিচিতি:
আবদুল আজিজ | রাজনীতি ও সমাজ বিষয়ে বিশ্লেষক ও লেখক
এমএসএম / এমএসএম
ডা. জুবাইদা রহমানের সফট পাওয়ার কূটনীতির উত্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত!
ঈদ জামাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন-মিসাইল সতর্কতা; মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিস্ময়!
প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনে ২৮ পদক্ষেপ: দ্রুত বাস্তবায়নে নতুন দৃষ্টান্ত, সুশাসনে জোর!
নীরব কৌশলের রাজনীতি: রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে তারেক রহমানের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক দূরদর্শিতা
ঈদ-উল-ফিতর সৌহার্দ্য ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
লাইলাতুল কদরের ইবাদত: বান্দার গুনাহ মাফের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আত্মসমর্পণ অপরিহার্য!
আল-কুরআন বিজ্ঞান ও রমজান
ঈদযাত্রা আনন্দময় ও নিরাপদ হোক
ঈদের প্রহর গুনছে দেশ, পে-স্কেলহীন বাস্তবতায় তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের আনন্দ কতটুকু?
গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বড় চ্যালেঞ্জ
হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা: ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাণিজ্য ঝুঁকিতে, বাংলাদেশের সামনে নতুন সতর্কবার্তা
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব