ঢাকা শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

নিয়ন্ত্রণ নয়, চট্টগ্রামে অধিদফতরের সহায়তায়ই বেপরোয়া মদ ব্যবসায়ীরা!


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ১৮-৯-২০২১ দুপুর ১২:১৪

চট্টগ্রামে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে লাইসেন্সধারী মদ ব্যবসায়ীরা। মাদক ক্রয়-বিক্রয়ে মানছে না লাইসেন্সের শর্ত। যে কেউ টাকা পরিশোধ করলেই হাতে তুলে দিচ্ছে দেশি-বিদেশি মদের বোতল। আর এই মাদক সহজলভ্য হওয়ায় নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কম বয়সী পেশাজীবীরাও। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধের মাত্রাও। এসব দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেই কোনো তৎপরতা। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধা আদায়ের ফলে তারাই এসব অন্যায় কাজে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন।  

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো উপ-অঞ্চল অফিসের মাধ্যমে জানা যায় ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য চট্টগ্রামে দেশি মদের পারমিটের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৫৭টি। এরমধ্যে মুসলিম ৩৩১ ও অমুসলিম ৩ হাজার ৪২৬টি আর বিলেতি মদের পারমিটের সংখ্যা ১ হাজার ৬৪৯টি। এরমধ্যে মুসলিম ৭৯০ ও অমুসলিম ৮৫৯টি। এসব পারমিটের বিপরীতে লাইসেন্সধারী দেশি মদের দোকান রয়েছে ৪টি। এগুলো হলো-  কোতোয়ালি থানা এলাকার ফিশারিঘাট ও রিয়াজ উদ্দিন বাজারের দেশি মদের দোকান, চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথার সাধন বাবুর দেশি মদের দোকান ও ইপিজেড থানার অন্তর্গত মাইলের মাথায় অবস্থিত ছায়া রানী নাগ-এর মালিকানাধীন দেশি মদের দোকান।

এছাড়াও দেশি-বিদেশি মদের ব্যবসার লাইসেন্স রয়েছে- ফিরিঙ্গী বাজার পি কে সেন সাততালা এলাকায় কাজী এন্ড কোং, আলকরনের ময়নামতি স্টোর, হাজারী গলির রেটিনা এন্ড কোং, রিয়াজ উদ্দিন বাজার পাখি গলির পপুলার এজেন্সি, পুরাতন গীর্জার মার্কেটিং এন্ড কোং, দেওয়ান হাটের শাহাজাদা এন্ড কোং, চৌমুহনীর বনানী ইন্টারন্যাশনাল ও স্টেশন রোডের রেলওয়ে মেন্স স্টোর।

বারগুলোর মধ্যে রয়েছে সদরঘাট কালীবাড়ী এলাকার হোটেল শাহজাহান , আগ্রাবাদের হোটেল সেন্টমার্টিন, হোটেল আগ্রাবাদ, জিইসি এলাকায় হোটেল পেনিনসুলা, ওধার নিজাম রোডে হোটেল ওয়েলপার্ক রেসিডেন্স, স্টেশন রোডের পর্যটনবার, জুবিলী রোডের হোটেল  টাওয়ার ইন ও লিবার্টি টাওয়ারে  নাইট শেডো ক্লাব লিঃ, পতেঙ্গা এলাকায় বোট ক্লাব, রেলওয়ে মেন্স বার,সদর ঘাটের হংকং বার, কাজির দেউড়ী এলাকায় চিটাগাং ক্লাব ও হোটেল রেডিসন ব্লু, স্টেশন রোড এলাকায় পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল সৈকত,ডবলমুরিং থানা এলাকার ডিপি রোডে ইষ্টার্ন হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট ও  জামালখানের সিনিয়রস ক্লাব ।  

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মদ খাওয়ার পারমিট ব্যতীত কোনো ক্রেতার নিকট মদ বিক্রি করতে পারবে না মর্মে শর্তসাপেক্ষে মাদকের লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে। আর মদ খাওয়ার পারমিটের প্রধান শর্তই হচ্ছে অমুসলিম হওয়া। তবে অসুস্থতাজনিত কারণে যদি কাউকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করতে হয় সেক্ষেত্রে মিনিমাম সহযোগী অধ্যাপক সমমানের চিকিৎসকের চিকিৎসাপত্র থাকলে পারমিট পাওয়ার সুযোগ আছে।

কিন্তু এসব লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদ ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাবেশে সরেজমিন দেখা যায় এই শর্ত মানছে না কেউই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শর্ত ভঙ্গ করে দেদার বিক্রি করছে মদ। পারমিট আছে বা নেই এমন কোনো প্রশ্নও করছে না কেউ। যে কোনো ব্যক্তি বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও টাকার বিনিময়ে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে মদের বোতল। আর এই মদ পান করে এরা হয়ে উঠছে নিয়মিত মাদকসেবী আর নেশার ঘোরে জড়িয়ে পড়ছে নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে, ঘটাচ্ছে মারামারি-খুনখারাবি ও ধর্ষণের মতো জঘন্য কাণ্ড। অনেক সময় নেশার টাকার জোগান দিতে পরিবারের সাথে করছে খারাপ আচরণ, করছে চুরি-ডাকাতি। একপর্যায়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়ে অকালেই বরবাদ হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ ফুলের মতো নিষ্পাপ জীবন। 

শুধু তাই নয়, পারমিটের সাথে বিক্রয় হিসাব মেলানোর জন্য বৈধভাবে কেনা মদের চেয়ে অবৈধ ও চোরা পথে কেনা মদই বেশিরভাগ বিক্রি করে থাকে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। আর কাস্টমারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিলেও নিয়মিত ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করছে চরমভাবে। তবে এসব দেখবালের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তার তদারকি থাকার কথা থাকলেও তা যেন কাগজে-কলমেই বন্দি বা রহস্যজনক কারণে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট পিয়ন লেভেলের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সম্প‍ূর্ণ আইন মেনে ব্যবসা করলেও এসব দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়মিত কোটা দিতে হয় আর না দিলে অহেতুক ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই কিছু অন্যায় করে হলেও তাদের ঠিক রাখতে হয়। 

এ ব্য‍াপারে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, এমন তো হওয়ার কথা নয়। তবু যদি কোথাও কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তবে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মেট্রো উপ-অঞ্চলের উপ-পরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা কিছু অনিয়ম হয় স্বীকার করে দৈনিক সকালের সময়কে বলেন, আমাদের জনবল কম কিন্তু দায়িত্ব অনেক বেশি। আসামি ধরা, মামলার সাক্ষী দেয়াসহ সকল কাজ করতে নিয়মিত হিমশিম খেতে হয়। তবু আমরা চেষ্টা করছি যারা লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। প্রয়োজনে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

এমএসএম / জামান

ছুটি ছাড়াই ২৩ মাস অনুপস্থিতির পর চসিকে ইঞ্জিনিয়ার তৈয়ব

বেনাপোলে ২ মণ গাঁজা সহ কিশোর আটক

নবীনগরে ফেসবুকে অপপ্রচার, গ্রামে মানববন্ধন ও থানায় অভিযোগ

নেত্রকোনায় জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে লড়ছেন ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক”

সার পাচারকালে তানোরে ৪০ বস্তা টিএসপি সার জব্দ

সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির ৫ সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

দেবিদ্বার রাজামেহার প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্সে আদর্শ বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর ও অভিভাবক সমাবেশ

পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করলে উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে, অর্থনীতি হবে সমৃদ্ধ: সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন

বেনাপোলে মিজান কসাইকে জবাই করে হত্যা

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ; সীমান্তে আরও অপেক্ষামাণ ২০থেকে ২৫ হাজার

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে

গাজীপুরে অন্তহীন অভিযোগে অভিভাবকদের তোপের মুখে প্রধান শিক্ষক!

ভূঞাপুরে টাইফয়েড টিকাদান বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন সভা