ঢাকা রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নেছারাবাদের সুটিয়াকাঠী-বলদিয়া সেতু মৃত্যুফাঁদে পরিণত, যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা


বদরুজ্জামান সুজন, নেছারাবাদ photo বদরুজ্জামান সুজন, নেছারাবাদ
প্রকাশিত: ১২-৮-২০২৫ বিকাল ৫:১৮

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলার সুটিয়াকাঠী ও বলদিয়া ইউনিয়নের সংযোগ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জেলার বালিহাড়ি ও পঞ্চবেকি দুই প্রান্তের মধ্যে অবস্থিত বয়া খালের ওপর নির্মিত এই সেতুটি এখন এলাকাবাসীর কাছে ‘মৃত্যুফাঁদ’ নামে পরিচিত। গত এক বছরে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সম্প্রতি জনসাধারণের পারাপারও প্রায় বন্ধের পথে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, বিশেষত নারী, শিশু ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে।

১৯৯৯ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে কাঠের তৈরি এই সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। এলাকাটি কাঠ ব্যবসায় সমৃদ্ধ হওয়ায় নৌপথে মালবাহী ট্রলার ও নৌকা চলাচলও ছিল নিয়মিত। কিন্তু বিভিন্ন সময় চালকের অদক্ষতার কারণে ভারী ট্রলার ধাক্কা দিয়ে সেতুর কাঠামো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একাধিকবার সংস্কারের পরও শেষ পর্যন্ত গত বছর যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

সম্প্রতি আবারো একটি মালবাহী ট্রলার ধাক্কা দেওয়ায় সেতুর মাঝের অংশ দেবে গিয়ে হেলে পড়েছে। এর ফলে হাঁটাচলার পথ সংকীর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে গেছে। বর্তমানে সেতুটি টিকে আছে মাত্র একটি নড়বড়ে নাট এবং পচা কাঠের পাটাতনের ওপর। লোহার কাঠামোও মরিচায় ক্ষয়প্রাপ্ত। ফলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পারাপার করছেন।

বলদিয়া ইউনিয়ন থেকে ইন্দেরহাট-মিয়ারহাট বন্দর, সরকারি-বেসরকারি কলেজ, মাদ্রাসা এবং উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সেতু ব্যবহার করেন। বিকল্প কোনো যোগাযোগ পথ না থাকায় ঝুঁকি এড়ানোর সুযোগ নেই। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে।

শুধু মানুষ নয়, নৌযান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। সেতুর মাঝের অংশ দেবে গিয়ে জোয়ারের সময় ট্রলার ও নৌকা পার হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাটার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রলার চালকদের।

মো. রফিকুল ইসলাম (৫০), স্থানীয় ব্যবসায়ী, বলেন, "সেতুর ওপর দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নৌপথও জোয়ারের সময় বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিদিন ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।"

শাহিনা আক্তার (৩২), গৃহবধূ, বলেন, "আমি প্রতিদিন সন্তানদের নিয়ে স্কুলে যাই। এই সেতু দিয়ে হাঁটতে গিয়ে মনে হয় এখনই ভেঙে পড়বে। ভয়ে বুক কেঁপে ওঠে।"

মো. সোহাগ মোল্লা (১৭), কলেজ শিক্ষার্থী, বলেন, "আমাদের পড়াশোনার জন্য কলেজে যেতে হয়। সেতুর অবস্থা এত খারাপ যে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা হতে পারে। তবুও বিকল্প পথ নেই বলে ঝুঁকি নিয়েই যেতে হয়।"

মো. আজিজুল হক (৪৫), ট্রলারচালক, বলেন, "সেতুর নিচের অংশ ঝুলে পড়ায় জোয়ারের সময় নৌকা চালানো যায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এতে যাত্রী আর ব্যবসায়ীরা দুই পক্ষই বিপদে পড়ছে।"

স্থানীয়দের দাবি, বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এলাকাবাসীর অনুরোধ—অবিলম্বে এই সেতুটি নতুন করে নির্মাণ করা হোক, যাতে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে।

এমএসএম / এমএসএম

সবার মুখে একই কথা সকল দল দেখা শেষ এবার দাড়িপাল্লার বাংলাদেশ: রুহুল আমীন

গাজীপুরে ক্রীড়া উন্নয়নে তামিম ইকবালকে নিয়ে বিএনপি প্রার্থী রনির মতবিনিময়

বিলাইছড়িতে দীপেন দেওয়ানের সমর্থনে শেষ মূহুর্তেও প্রচারণায় ব্যস্ত বিএনপি

বাউফলে নির্বাচনী জোয়ার: পাবলিক মাঠে সহিদুল আলম তালুকদারের শেষ জনসভা ঘিরে টানটান উত্তেজনা

আইন-শৃঙ্খলা সভায় নির্বাচন প্রস্তুতি জোরদার

ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে সংগীতানুষ্ঠানে ভোটার সচেতনতা কার্যক্রম

বাগমারায় অভিযান: বিপুল দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, নাশকতার আশঙ্কা র‍্যাবের

ত্রিশালে জামায়াত প্রার্থীর গণমিছিল

‘রক্ত দিয়ে কেনা বাংলাদেশে বেইমানির ঠাঁই নেই’—মামুনুল হক

নাগেশ্বরী জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সভা

বিএনপি-জামায়াতের ভোটের লড়াই চলছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলায়

পিরোজপুর–২ এ নীরব ভোটার, নারী ,সংখ্যালঘু ও নতুন প্রজন্মে ভোটে বদলে যেতে পারে জয়ের সমীকরণ

নবীগঞ্জে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে কৃষকের জমি দখল করে পাইপলাইন স্থাপনের অভিযোগ