ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

বইবিমুখ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, সন্ধ্যা প্রদীপে পড়ার রেওয়াজে পড়েছে ভাটা


বুলবুল হাসান, বেড়া photo বুলবুল হাসান, বেড়া
প্রকাশিত: ২৭-৮-২০২৫ দুপুর ১১:৪৬

মানুষের জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে এবং আলোর পথে পরিচালিত করতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। প্রমথ চৌধুরীর মতে, বই পড়ার অভ্যাস ব্যক্তিকে স্বশিক্ষিত করে তোলে এবং সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সাহায্য করে। বই পড়া মানুষের চিন্তার জগৎ প্রসারিত করে, কুসংস্কার দূর করে এবং জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুপ্রাচীন কাল থেকেই মানুষ জ্ঞান লাভের আশায় শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে বই পড়ে। আর শিক্ষার প্রধান উপকরণ হলো বই। কিন্তু বর্তমানে বই পড়ার সেই রেওয়াজে ভাটা পড়েছে।

আগে শিক্ষা অর্জনের জন্য সুদূর চীন দেশে যাওয়ার কথা প্রচলিত থাকলেও, বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আধুনিক বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কার শিক্ষাঙ্গনে আমূল পরিবর্তন এনেছে। আশির ও নব্বইয়ের দশকেও শিশু-কিশোররা ছোট কদমে বড় স্বপ্ন নিয়ে শিশুশিক্ষা বই হাতে নিয়ে স্কুলে ছুটে যেত। এখন সেখানে বই ভর্তি ভারি স্কুল ব্যাগ ঘাড়ে করে ছুটছে স্কুল প্রাণে। বর্তমানে শিক্ষা উপকরণে বইয়ের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে স্মার্ট ফোন, ট্যাব এবং কম্পিউটার। এই তো কিছু কাল আগেও নব্বইয়ের দশকে শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা নামলেই প্রদীপ জ্বেলে পড়ার টেবিলে বইপুস্তক নিয়ে উচ্চ শব্দে পড়াশোনা করতো। সেটা দেখে পাশের বাসার শিক্ষার্থীও রেওয়াজ করে পড়ায় মগ্ন থাকতো। এভাবেই চলতো পাড়া মহল্লায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করার তীব্র প্রতিযোগিতা। আর এখনকার শিক্ষার্থীরা সারাক্ষণ স্মার্ট ফোন নিয়ে মহা ব্যস্ত। সারাক্ষণ প্রযুক্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও পড়াশোনায় তেমন মনোযোগ নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আজ প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। এটি ইতোমধ্যে বুয়েটে, মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির ফলাফলে দৃশ্যমান হয়েছে। এভাবেই চলতে থাকলে প্রযুক্তি নির্ভরতা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য অভিশাপ হবে। তাই তরুণ প্রজন্মকে বই পড়ায় উৎসাহী করতে হবে। আগের দিনে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বই উপহার দেওয়া হলেও এখন সেটাও আর তেমন চোখে পড়ে না। একটি বই পড়ার বদলে একটি রিলস, ইউটিউব ভিডিও কিংবা একটি রিলস দেখতেই যেন সবাই আগ্রহী।

অভিভাবকরা জানান, আগের দিনে সন্ধ্যা হলেই, স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসতো। রাতে চারদিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার শব্দে মুখরিত থাকতো। পিতামাতার কথার বাইরে যেত না কেউই। সন্ধ্যার পরে বাইরে থাকার ব্যাপারে বিধি নিষেধ ছিলো। আর এখন সন্তান রাত করে বাড়ি ফেরে, গভীর রাত জাগে, সকালে ঘুম থেকে উঠতে চায় না। সন্তানদের কিছু বললেই, তারা অভিভাবকদের সাথে অসদাচরণ করে। বর্তমানে সবাই স্মার্ট প্রযুক্তিতে আসক্ত। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। আশির ও নব্বইয়ের দশকে বেড়ে ওঠা মানুষের কাছে, উচ্চ শব্দে রেওয়াজ করে টেবিলে বসে স্কুলের পড়া তৈরি করা এখন শুধুই স্মৃতি। বাচ্চারা ঠিক মতো পড়ালেখাই করতে চায় না, প্রযুক্তির অপব্যবহারে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। গ্রাম কিম্বা শহর হোক, প্রতিটি অঞ্চলের অভিভাবকদের অভিযোগ, "আমার ছেলে-মেয়ে বই নিয়ে বসতে চায় না।"

প্রবীণ শিক্ষক ও সোনাপদ্মা গ্রামের নতুন ভারেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক, আশি ঊর্ধ্ব আব্দুল কালাম বলেন, "আমার শিক্ষকতা জীবনে দেখেছি, সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুলে লেখাপড়া করে, বিকেলে খেলাধুলা করে, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে, প্রদীপ জ্বেলে পড়তে বসতো রেওয়াজ করে সব বাড়িতেই। ছোটবেলায় আমরাও এমন রেওয়াজে পড়াশোনা করেছি। সবাই এখন মোবাইল নিয়ে মহা ব্যস্ত, পড়াশোনা করে কখন। ছেলেপেলেরা আগের দিনের মতো পড়াশোনায় মনোযোগী নয়।" সেই সাথে আগের দিনের মতো শিক্ষক-ছাত্রের মধুর সম্পর্কও নেই। শিক্ষার্থীরা কোনো কথাই শুনতে চায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, অভিভাবকদের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং পাঠ্যবইকে একঘেয়েমি মনে করায় শিক্ষার্থীরা বইবিমুখী হচ্ছে। পাশাপাশি, অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানের মান না থাকায় শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারাচ্ছে। আবার পড়ার সময় মোবাইলে নোটিফিকেশন আসায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের এমনভাবে বুঁদ করে রেখেছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং পড়াশোনার মনোযোগ থেকে অন্য পথে পরিচালিত করছে। এতে অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়ে গিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের অনেক অপার সম্ভাবনা ধ্বংস হচ্ছে। এই অবস্থা শিক্ষার্থী, সমাজ ও অভিভাবকসহ সব মহলের জন্যই অশনি সংকেত। আসুন আমরা আমাদের সন্তানকে বইমুখী করি। একটি বই একজন তরুণ যুবককে বিপথগামী হতে দূরে রাখে। বই মানুষের জীবনে অনেক ক্ষেত্রে বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী, শিক্ষক এমনকি অভিভাবকদের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এমএসএম / এমএসএম

ঢাকা শহরের বর্জ্যজনিত দুর্ভোগ প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

স্বাগতম অ্যান্ডি বার্নহাম বিদায় কিয়ার স্টার্মার

রথযাত্রা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি

অপরিকল্পিত নগরায়ণে ডুবছে চট্টগ্রাম, জনসচেতনতা ছাড়া উত্তরণ সম্ভব নয়

বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর : স্মার্ট ইকোনমির আড়ালে ‘ডিজিটাল দাসত্ব’ ও নজরদারির এক নীল নকশা

সামাজিক অবক্ষয়রোধে নান্দনিক দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ অপরিহার্য

কর্মচারী নিয়োগে একাডেমিক সনদের চেয়ে দক্ষতার গুরুত্ব বেশি হওয়া উচিৎ

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক আন্দোলন অপরিহার্য

পবিত্র আশুরার শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ

ব্রেক্সিট পরবর্তি ব্রিটিশ রাজনীতি এবং স্টারমারের বিদায়

পর্নোগ্রাফি আসক্তি: ডিজিটাল যুগের নীরব মহামারি

কাঁঠালভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন

বাবা: স্মৃতির আকাশে এক চিরস্থায়ী নক্ষত্র