দোহারে প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবীতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
ঢাকার দোহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেগম আয়শা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ-এর সাবেক প্রধান শিক্ষক কুলসুম বেগমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে তার স্থায়ী অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচি পালন করে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ সময় স্থানীয় সচেতন অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরাও একাত্মতা প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সাবেক প্রধান শিক্ষক কুলসুম বেগম দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে একক কর্তৃত্ব চালিয়ে আসছিলেন। তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, "আমাদের স্কুলের টেবিল, বেঞ্চ ও কিছু চেয়ার সাবেক প্রধান শিক্ষক তার নিজস্ব লোকজন দিয়ে ঢাকায় বাসায় নিয়ে গেছেন। সেই কর্মচারীরাও এটি স্বীকার করেছেন। তাহলে এখনো তার বিচার হচ্ছে না কেন?"
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানান, "তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ ভাষায় কথা বলতেন। দরিদ্র কেউ বেতন কমানোর অনুরোধ করলে তিনি তাদের গৃহকর্মীর কাজ করতে বলতেন। এমন একজন মানুষ কীভাবে শিক্ষক হতে পারেন?"
দশম শ্রেণির খাদিজা আক্তার জানান,"আমরা জেনেছি যে,স্কুলের খেলার মাঠের জন্য ডিসি স্যার ১ লক্ষ টাকা দিলেও মাত্র বারো হাজার টাকার বালু ফেলা হয়।যার স্বাক্ষী আমাদের শিক্ষকেরাই।আমরা এর বিচার চাই।"
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, অভিভাবকদেরও অভিযোগের তীর কুলসুম বেগমের দিকেই। স্থানীয় অভিভাবক আবুল কাশেম বলেন, “তিনি একাই একশো। তার কথার বাইরে কেউ কথা বলার সুযোগ পেত না। পকেট কমিটি বানিয়ে একাই স্কুল চালাতেন। আমরা বহুবার প্রতিবাদ করেছি, কিন্তু কিছু হয়নি।”
স্থানীয় একাধিক অভিভাবক জানান, শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে নির্মাণ কাজে লেনদেন—সবকিছুতেই কুলসুম বেগমের একক সিদ্ধান্ত চলত।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল দোহার থানায় গিয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাসান আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ওসি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ শোনেন এবং বলেন, “তদন্ত শেষের পথে। খুব দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সত্য উদঘাটিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে কুলসুম বেগমের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকেও কেউ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, কুলসুম আপার বিরুদ্ধে আগেও দুর্নীতির অভিযোগ এনে আন্দোলন হয়েছিল। ২০২৪ সালে অভিভাবক ও ছাত্রীরা মিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি বিস্তারিত অভিযোগপত্রও জমা দেন যেখানে ৭৫টি অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য জমা দেওয়া হয়।কিন্তু তদন্তে গড়িমসি এবং প্রতিকার না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরাই এবার রাজপথে নেমেছে।
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সমাজকর্মী নুজহাত তারিন বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম চলতে পারে না। আমরা শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে গর্বিত। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া।”
Aminur / Aminur
ইসলামী আন্দোলনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
মহেশখালী-কক্সবাজার নৌ রুটে যাত্রী নিয়ে উল্টে গেল স্পীড বোট, নিহত ১
কালিয়ার প্রতিটি পরিবারের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই-প্রফেসর নাগিব হোসেন
মহম্মদপুরে উপজেলা ছাত্রদলের সাথে বিএনপি প্রার্থীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
কুমিল্লায় প্রবাসী সাংবাদিকের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ
রামুতে সরিষা হলুদের আলপনায় গ্রামীণ সৌন্দর্য
গাজীপুরে কলেজে বিনামূল্যের ন্যাপকিন বক্স স্থাপন করলেন ছাত্রদল নেতা সাব্বির
কেশবপুরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকীতে প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ
জয়পুরহাটে শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
সকালের সময়ে সংবাদ প্রকাশের পর উলিপুরে প্রধান শিক্ষকের পদ স্থগিত
ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করে বাড়ি ফিরতে হবে-কুমিল্লায় তারেক রহমান
ভূরুঙ্গামারীতে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত