আরেক ঘুষের হাট সরকারি আবাসন পরিদপ্তর
সরকারি কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য বাসা বরাদ্দে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ অভিযোগ ওঠেছে আবাসন পরিদপ্তর ঢাকা অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চাকরী সেবামূলক হলেও টাকা ছাড়া ফাইল নড়েনা এই দপ্তরে। ঘুষ না দিলে সরকারি বাসা যেন সোনার হরিণ। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় এ যেন আরেক ঘুষের হাট।
এসব অপরাধের সাথে জড়িত থাকায় সম্প্রতি তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের অপরাধের বিষয় তদন্ত করছে সংশ্লিষ্টরা। তবে পদে ফিরতে বহিস্কৃতরা জোর তদবীর চালাচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায় এসব লোকেরা স্বপদে ফিরলে আবারো অনিয়মে জড়িয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি করার আশংকা করছেন অনেকে। অপর এক আদেশে অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহমেদকে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে যোগদানের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একশ্রেণির কর্মকর্তা মোটা অংকের ঘুষের রেট বসিয়ে আদায় করেছেন কোটি কোটি টাকা। সরকার পরিবর্তণ হলে ঘুষের রেট জিরো হওয়ার কথা থাকলেও তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সৎ অফিসাররা বাসা বরাদ্দ পেতে নানা হয়রানির সম্মূখীন হচ্ছেন। ঘুষ না দেয়ায় আবার অনেকে বাসা পায়নি বলেও সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব ঘুষ কেলেঙ্কারির ফলে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেও এই সাম্রাজ্যে ধস নামাতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি বাসা বরাদ্দে ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিলের গেজেট অনুযায়ী গ্রেড ১৮,১৯ ও ২০ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য এ টাইপ, ১৬, ১৭ ও ১৮ এর জন্য বি টাইপ, ১৪, ১৫ ও ১৬ এর জন্য সি-২ টাইপ, ১২, ১৩ ও ১৪ এর জন্য সি-১ টাইপ, ১০, ১১ ও ১২ এর জন্য ডি-২ টাইপ, ৭, ৮ ও ৯ এর জন্য ডি-১ টাইপ, ই টাইপ এর জন্য গ্রেড ৬ থেকে উপরের কর্মকর্তা, এফ টাইপ গ্রেড ৫ ও এর উপরের গ্রেডের কর্মকর্তা/ উপ সচিব এর জন্য, গ্রেড ৩ বা যুগ্নসচিব এর উপরের কর্মকর্তাদের জন্য সুপিরিয়র টাইপের বাসা বরাদ্দ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পরিদপ্তরের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যের ফলে এই গেজেট ফলো করা হয়না।
সূত্র জানায়, ঢাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য নির্মিত আবাসিক এলাকায় বাসা খালি থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারীর গ্রেড ও বেতন স্কেল সঠিক হওয়ার পরেও ঘুষ না দেয়ায় অনেককে বাসা বরাদ্দ দেয়া হয়নি। সূত্র জানায়, পাইকপাড়ায় ডি-১ ও ডি-২ টাইপের বাসা বরাদ্দের জন্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। আর আজিমপুর, তেজগাঁও, মালিবাগ, মিরপুর, বেইলী রোড এলাকায় বাসা বরাদ্দ পেতে টাইপ অনুযায়ী ৩ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়।
সূত্র জানায়, গত ১৪ জানুয়ারি পাইকপাড়া ও মিরপুর ১ এ ডি-২ শ্রেণির ৮০০ বর্গফুটের ২৫৫টি বাসা বরাদ্দের জন্য অনলাইনে আবেদন আহবান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যোগ্যতা হিসেবে ১০,১১ ও ১২তম গ্রেডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভবন -১ (মহানন্দা), ভবন- ২ (শীতলক্ষ্যা), ভবন-৩ (ইছামতি, ভবন-৪ (চিত্রা), ভবন-৫ (মধুমতি), ভবন-৬ (কপোতাক্ষ), ভবন-৭ (তিস্তা), ভবন-৮ (ধলেশ্বরী), ভবন-৯ (জাদুকাটা) ও ভবন-১০ (আড়িয়াল খাঁ)। এসব বাসা অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরাদ্দের কথা থাকলেও মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব ঘুষ বাণিজ্য বন্ধে গত ১৮ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন ও সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের এক আদেশে সহকারী পরিচালক বিলাল হোসাইন, উপপরিচালক রাশেদ আহাম্মেদ সাদী ও সহকারী হিসাবরক্ষক মো. নজরুল ইসলামকে সমায়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। উপপরিচালক রাশেদ আহাম্মেদ সাদী ও সহকারী হিসাবরক্ষক মো. নজরুল ইসলামের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অন্যান্য কর্মচারীর যোগসাজসে সিন্ডিকেট বাণিজ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির বাসা বরাদ্দ প্রদান করে অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া, গ্রেড ও বেসিক বিবেচনায় না নিয়ে বাসা বরাদ্দে সুপারিশ প্রদান করা, বিভিন্ন শ্রেণির বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রত্যেক আবেদনকারীর নিকট হতে মোটা অংকের উৎকোচ দাবি করাসহ নানাবিধ দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তনাধীন এবং তা স্পর্শকাতর। তারা চাকরিতে বহাল থাকলে আরো বেশি অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়তে পারেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের সাময়িক বরখাস্তকৃত উপ পরিচালক রাশেদ আহাম্মেদ সাদীর মোবাইলে কল দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, অনিয়মের অভিযোগে যাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তারা ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এই দপ্তরে রয়েছেন। দুর্নীতির টাকায় কোটি টাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন এমন কর্মকর্তাও আছে। এসব কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বহিস্কৃতরা আবারো স্বপদে ফিরতে তদবীর করছে বলেও জানা গেছে।
সরকারি বাসা বরাদ্দে নানা অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) নাহিদ উল মোস্তাক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞাপ্ততে বলা হয়েছে, ”এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সরকারী আবাসন পরিদপ্তরের বাসা বরাদ্দ কমিটি ২-এর গত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার ডি-১/ডি-২ শ্রেণির সুপারিশকৃত বরাদ্দপ্রাপকগণের প্রকাশিত তালিকা বাতিল করা হলো। শীঘ্রই বরাদ্দপ্রাপকগণের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে।”
এবিষয়ে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো.আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) নাহিদ উল মোস্তাকের মোবাইলে কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি।
এমএসএম / এমএসএম
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি প্রার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি
রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাভারে অবস্থিত ভিসন গ্রুপের ১লা জানুয়ারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন
বারহাট্টার বাজারে শীতকালীন সবজি এলেও চড়া দামে হতাশ ক্রেতারা
দোহাজারী রেলস্টেশনে প্রান্তিক কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহনে লাগেজ কোচ চলাচলের উদ্বোধন
কেশবপুরে কালিয়ারই এস.বি.এল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই বিতরণ
জনজীবন চরম দুর্ভোগ: তাপমাত্রা নেমেছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে
তাড়াশে বেগম জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা
তারাগঞ্জে আলহাজ্ব আতিয়ার রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত
কুতুবদিয়ায় গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতক আটক
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিলেন বিএনপি ও জিয়া পরিষদ নেতা অধ্যাপক বি.এম নাগিব হোসেন
ভূরুঙ্গামারীতে বিএনপির উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি
তানোর ও গোদাগাড়ীতে টমেটোর ফলন বিপর্যয়, কৃষকের মাথায় হাত