কুতুবদিয়ায় বনভূমি বিলীন ও বেদখলে, লবণ মাঠে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে বনভূমি। একদিকে সাগরের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিপুল বনাঞ্চল, অন্যদিকে বাকি অংশ দখলে নিয়েছে প্রভাবশালী মহল। এতে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কুতুবদিয়ায় বন বিভাগের মোট জমি ৮৬৭ একর ১৯ শতক। এর মধ্যে বন বিভাগের দখলে রয়েছে প্রায় ৮০০ একর। তবে গত মে মাসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, খুদিয়ারটেক মৌজার ১৮৭.৫৭ একর এবং চর ধুরুং এলাকার প্রায় ১০০ একর ভূমি ইতোমধ্যে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি অংশও বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে যে পরিমাণ বনাঞ্চল টিকে আছে, তার মধ্যে প্রায় ২০০ একর প্যারাবন (বাইন, কেওড়া) এবং ৯১ একর ঝাউবন, যা নন-ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বলে জানা গেছে।
এদিকে লবণ উৎপাদনের মৌসুম শুরু হওয়ায় দখলকৃত বনভূমির ওপর গড়ে উঠেছে অসংখ্য লবণ মাঠ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লবণচাষীরা প্রতি ভাগে ৩০০ টাকা করে বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে নির্বিঘ্নে মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে একসনা দাখিলার বিপরীতে খাজনা আদায় বন্ধ থাকলেও কেউই দখল ছাড়েননি। ফলে খাজনা ছাড়া লবণ উৎপাদন চলমান থাকায় সরকার প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।
বাপা কুতুবদিয়া শাখার সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “যদি দ্রুত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে কুতুবদিয়া আগামী এক দশকের মধ্যেই উপকূলীয় সুরক্ষা হারাবে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি তখন আরও ভয়াবহ হবে।”
স্থানীয় পরিবেশকর্মী মহিউদ্দিন বলেন, “কুতুবদিয়ার চারপাশে ম্যানগ্রোভ বন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। কিন্তু দখলদার আর লবণ ব্যবসায়ীদের কারণে তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদু রাজ্জাক বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,
“যেসব এলাকায় লবণ চাষ হচ্ছে বা বাঁধ তৈরির জন্য মাটি নেওয়া হচ্ছে, সেসব জমির মালিকানা সবই বন বিভাগের নয়। কিছু ভূমি অফিসের, কিছু পানি উন্নয়ন বোর্ডের, আবার কিছু জেলা প্রশাসনের। বন বিভাগ জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই গাছ লাগিয়েছে। প্যারাবন ধ্বংস করে মাটি নেওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”
তবে এখনো পর্যন্ত পরিবেশ ও বন বিভাগ দখলমুক্তকরণ কিংবা পুনঃবনায়নে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে দিনদিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে কুতুবদিয়ার বনভূমি, হারিয়ে যাচ্ছে উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা—আর সরকারের রাজস্ব ক্ষতির অঙ্কও বাড়ছে প্রতি বছর।
এমএসএম / এমএসএম
পর্যটন ও পরিবেশ সুরক্ষায় কুয়াকাটায় তারুণ্যের উৎসব
পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নাই,চাল আসবাবপত্র সব পুড়ে ছাই
শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে শালিখা থানা পুলিশের মোটরসাইকেল মহড়া
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের অধিগ্রহণের চেক বিতরণ
এসি বাস চালু হতেই ফের বাধা, বাঁশখালীতে আটকে দেওয়া হলো এসআর পরিবহনের দুই এসি বাস
কুমিল্লা কবি পরিষদের দাউদকান্দি শাখার সভাপতি আমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাকিল সরকার
সুবর্ণচরে কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান
গোপালগঞ্জে সাইফুর রহমান নান্টুর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
কক্সবাজার জেলা ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন
সুবর্ণচরে কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান
নড়াইলে প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণে নড়াগাতী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাথে বৈষম্যের অভিযোগ
ঈমান আমল ছাড়া জান্নাত পাওয়া যায় না --মুফতি আরশাদ ইদ্রিস