শার্শায় শামুক কুড়িয়ে সংসার চালায় ৭শ পরিবার
যশোরের শার্শা উপজেলায় সাত শতাধিক পরিবারের সদস্যরা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট জলাশয়ের শামুক কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ভোর থেকে শুরু করে ব্যক্তিভেদে তারা সকলে প্রতিদিন ২০-৬০ কেজি পর্যন্ত শামুক উত্তোলণ করেন। আর প্রতি কেজি শামুক বিক্রি করেন ৭ টাকায়।
স্থানীয়রা জানান, শার্শার উওরে উপজেলার সবথেকে বড় সোনামুখী বিল থেকে ভোর হতেই শুরু হয় শামুক কোড়ানো। ২০ একরের এই বিল বর্ষার সময় প্লাবিত গয়ে আস পাশের প্রায় ২ হাজার একর এলাকাজুড়ে কানায় কানায় পানিতে পূর্ন থাকে। এই বিলের আশপাশের নিজামপুর,লক্ষণপুর,বাহাদুরপুর,শার্শা ৪ টি ইউনিয়নের নিম্ন আয়ের কর্মহীন মহিলা ও পুরুষরা শামুক কুড়িয়ে দৈনিক ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করে থাকে।
এসব এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর, বাহাদুরপুর, ডিহি, শার্শা সদর ও নিজামপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্ন আয়ের কর্মহীন তিন শতাধিক পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুরা এলাকার সোনামুখি বিল, সাতরাইল বিল, ছোট নাগরী বিল, পদ্মবিল ও বানবিল এবং বাহাদুরপুর বাঁওড়, কন্যাদাহ বাঁওড়, সোনানদীয়া, বাঁওড়, মহিষাকুড়া বাঁওড়,ছোটকোণা বাঁওড়, বড়কোণা বাঁওড়, সাদীপুর পাচুয়ার বাঁওড়, ফুলসর বাঁওড়, মুক্তাদাহ বাঁওড়, কালী বাঁওড়, মৌতার বাঁওড়, রাজাপুর বাঁওড়, রাজগজ্ঞ বাঁওড়, জেওন বাঁওড় ও নেওড়ের বাঁওড় ও পুকুর জলাশয়ে ভোর হতে দুপুর পর্যন্ত শামুক সংগ্রহ করেন। অর্ধ দিনের অর্জিত কুড়ানো শামুক বিকেলে ইউনিয়ন গুলোর নির্ধারিত স্থানে জড়ো করে শামুক ব্যাপারির কাছে বিক্রি করেন। প্রতিকেজি শামুক বর্তমান ৬-৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে যা আয় হচ্ছে তা দিয়েই এসব পরিবারের সদস্যদের মুখে আহার জুটছে।
শামুক সংগ্রহকারীরা জানান, বার্ষার সময়ে গ্রামাঞ্চলে তেমন কোন কাজ না থাকায় নিম্ন আয়ের কর্মহীন ওই সব পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হচ্ছেন ভিন্ন উপায়ে উপার্জন করে পরিবারের সদস্যদের মুখের আহার জোগাড় করে দিতে। জীবিকার প্রয়োজনে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন এ কাজ করতে।
নিজামপুর ইউনিয়নের পবন মন্ডল, মিলন, রাণী, নলিতা, অসিম তরফদার, আলো বিশ্বাস, গোড়পাড়ার স্বরূপ, অনিতা, পুষ্প, উত্তম, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ঘিবার প্রবণ, মন্তো, সন্তো, শার্শার স্বরুপদাহ বাসিন্দা অর্জুন, সখী, পূর্ণী, ডিহি ইউনিয়নের তেবাড়িয়া জেলেপল্লীর গোকুল হালদার, সংকর, অণিলসহ শার্শা উপজেলাব্যাপী শামুক কাড়ানো ব্যাক্তিরা শামুক সংগ্রহের পর তা বিক্রির প্রসেস ব্যাক্ত করেন।
তারা জানান, জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর ১-২ টা পর্যন্ত এলাকার বিভিন্ন জলাশয় থেকে হেঁটে হেঁটে কেউবা ডুঙ্গায় চড়ে শামুক কুড়ান। ব্যক্তিভেদে তারা সকলে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত শামুক পান। ৬ থেকে ৭ টাকা কেজি দরে শামুক ব্যবসায়িদের কাছে বিক্রি করে যা আয় হয় তাই দিয়ে সংসারের হাল ধরেছেন।
তারা আরো বলেন, বর্ষার মৌশুমে জীবন জীবিকার প্রয়োজনে তারা প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন জলাশয়ে ঘুরে ঘুরে শামুক সংগ্রহ করে উপরি আয় করে থাকেন। এর মধ্যে আবার অনেকে শামুকের সাথে সাথে ও শাপলা তুলেও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।
স্থানীয় শামুক ক্রেতা ইয়াসিন, নিত্য,সোহাগ, আকরাম ও ইব্রাহিম জানান, শার্শার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের সাত শতাধিক নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে এ বছর প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০-৮০ মণ শামুক কিনছেন। এ শামুক তারা খুলনার কপালিয়া এবং যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সাতনল কুমারঘাটা নামক স্থানে মাছের ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। এসব শামুক মূলত চিংড়ি মাছের প্রধান খাবার হিসাবে ব্যবহার হয়ে থকে।
এমএসএম / এমএসএম
লোহাগাড়ায় ইউএনওর বাংলোয় ডেকে সাংবাদিককে নির্যাতন, থানায় এজাহার
লোগাংয়ে এম এন লারমা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
রৌমারীতে ফাঁসিতে ঝুলে এক নারীর আত্মহত্যা
লাকসামে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্যাপন
আদমদীঘিতে রাতভর উচ্চ শব্দে গান-বাজনা প্রতিকার করবে কে
মোরেলগঞ্জে আইডিয়াল জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন: ৬ নভেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু
মনোহরদীতে এ্যাব মহাসচিবের উদ্যোগে নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত
গাজীপুরে জোড়া খুনের আসামি বরিশালে গ্রেপ্তার
রাজারহাটের ইউএনওর ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ: সাংবাদিক ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা
যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা পালিয়ে গেল বাড়ির লোকজন
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিতা ও শিশুপুত্র নিহত
রাজশাহীতে উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রগতিশীল সংস্কৃতির শক্তিতে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয়