ঢাকা মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

লেবু ও মাল্টা চাষে স্বপ্ন থেকে সফলতার মুখ দেখছেন বিশিষ্ট ঔষধ ব্যবসায়ী রকিবুল হাসান


তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, মেহেরপুর photo তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, মেহেরপুর
প্রকাশিত: ১৯-১১-২০২৫ দুপুর ২:২৬

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামে চার বিঘা জমিতে গড়ে তোলা হলুদ মালটার বাগান এখন এলাকায় সম্ভাবনার নতুন আলো জ্বালিয়েছে। কোনো ধরনের সরকারি সহযোগিতা বা কারিগরি পরামর্শ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে এই বাগান সাজিয়েছেন স্থানীয় ঐষধ ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা রকিবুল হাসান। তার এই উদ্যোগ আশপাশের কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। দিনাজপুর থেকে অনুপ্রেরণা
রকিবুল হাসান রন জানান, দিনাজপুরে মাসুদ করিম নামের এক উদ্যোক্তার হলুদ মালটা বাগান ঘুরে দেখেই তিনি মুগ্ধ হন। এরপর দুই বছর আগে সাহস করে নিজের গ্রামে শুরু করেন মালটাও লেবু চাষ।
জমি প্রস্তুত, চারা, সার, সেচ, শ্রমিক ও পরিচর্যাসহ দুই বছরে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ছয় লাখ টাকা। শুরুতে পরিবার ও স্থানীয় অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করলেও এখন গাছে ফল ধরতে দেখে সবাই আশ্বস্ত।
রকিবুল হাসান রন বলেন—“কৃষি বিভাগ থেকে আমি কোনো পরামর্শ বা দিকনির্দেশনা পাইনি। সবকিছু নিজের মতো হিসাব করে করেছি। এখন ফল দেখে মনে হচ্ছে—ঝুঁকি নেওয়াটা ঠিকই ছিল।”

প্রতিটি গাছে সমান বাড়ন্ত—পরিচর্যায় মনোযোগ
বাগানে প্রায় ৪ বিঘাজুড়ে প্রায় এক হাজারেরও বেশি গাছ। পরিচর্যা করা সহকারী জানান—শুরুর দিকে প্রতিটি গাছকে আলাদা করে নিয়মিত পানি দেওয়া, ঘাস পরিষ্কার করা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই নিয়ম করে করেছেন।
পরিচর্যাকারী বলেন—“ছোট চারা থেকে আজকে ফলদায়ী গাছে পরিণত হয়েছে। নিজের চোখের সামনে এই অগ্রগতি দেখে খুব ভালো লাগে। ভবিষ্যতে যদি আরও বড় পরিসরে চাষ করা যায়, আমাদের কাজের সুযোগও বাড়বে।” পাশের জমিতে নতুন উদ্যোক্তার প্রস্তুতি
বাগানের পাশে থাকা জমির মালিকও প্রতিদিনই কাছ থেকে গাছের বৃদ্ধি দেখেছেন। তার ভাষায়—এটা চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এক ‘সাফল্যের গল্প’। তাই তিনি এ বছর থেকেই মালটা চাষ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন—“রোজ দেখি গাছগুলো কীভাবে বড় হলো, এখন ফল দিচ্ছে। দেখে আমারও আগ্রহ হয়েছে। এবার আমিও চারা লাগাবো—রকিবুলের কাছ থেকেই চারা নেবো।”
বর্তমান কৃষি পরিস্থিতিতে লাভজনক বিকল্প
প্রচলিত ফসল যেমন ধান, সবজি কিংবা পেঁয়াজ-রসুন—এগুলোতে ক্রমাগত লোকসান গুনছেন কৃষকেরা। বাজার অনিশ্চয়তা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং কম দামের কারণে কৃষির ওপর চাপ বাড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে হলুদ মালটার মতো বাণিজ্যিক ফল চাষ নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে—বলছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
এক কৃষক জানান—“এখন অনেক আবাদেই লস। যদি এমন উন্নত জাতের ফল চাষ করে লাভবান হওয়া যায়—তাহলে কৃষকেরা আবার কৃষিতে ফিরে আসবে। আমিও মালটা চাষের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
চারা উৎপাদনে ব্যস্ত রকিবুল
মালটার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখে রকিবুল এখন নিজ উদ্যোগে চারা উৎপাদনও শুরু করেছেন। ভালো মানের চারা পেতে স্থানীয় কৃষকেরা তার কাছে যোগাযোগ করছেন। রকিবুল হাসান রন বলেন—“অনেকেই এসে চারা নিতে চাইছেন। আমি চাই—আমার আশেপাশের কৃষকেরা যেন মালটা চাষে সফল হন।” ইছাখালী গ্রামে এখন রকিবুলের বাগান এক ধরনের ‘মডেল বাগান’ হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন কয়েকজন কৃষক এসে দেখেন—গাছ লাগানো থেকে পরিচর্যা পর্যন্ত কী কী করতে হয়। কেউ ছবি তুলেন, কেউ ফলের স্পর্শ নিয়ে স্বপ্ন বুনেন নিজের বাগানের। স্থানীয়রা মনে করছেন—এ ধরনের উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে মেহেরপুরে ফলের চাষে নতুন বিপ্লব সম্ভব।

এমএসএম / এমএসএম

সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও শাহাদাতে কারবালার তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা

নানা আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

জয়পুরহাটে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

টাঙ্গাইল পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযান

মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণের দায়ে ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড

নেত্রকোণায় তিন উপজেলা ও তিন পৌর শাখার ছাত্রদলের নতুন আংশিক কমিটি অনুমোদন

বাগেরহাটের মোল্লহাটে তুচ্ছ ঘটনায় ছুরিকাঘাতে কৃষক নিহত

অভয়নগরে প্রথম জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

বিলাইছড়িতে জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন ইউএনও মো. জাকির হোসেন

মোহনগঞ্জে পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

শালিখায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত

মান্দায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

রাজনগরে স্ত্রীকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার